ইঁদুরের গর্তে মিললো ৬ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার

ইঁদুরের গর্তে মিললো ৬ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার

উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ১৯ জুন ২০২২ । আপডেট ১২:৩৫

ঋণের কিস্তি দেওয়ার জন্য বেশ কিছু স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে ব্যাংকে যাচ্ছিলেন ৪৫ বছর বয়সী এক নারী। কিন্তু ঘটনাক্রমে অলঙ্কারের সেই ব্যাগ হারিয়ে ফেলেন তিনি। পুলিশ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে চোর শনাক্ত করতে হয়। কিন্তু সেই চোর কোনো মানুষ নয়, ছিল কয়েকটি ইঁদুর। ইঁদুরের বাসা থেকেই উদ্ধার করা হয় প্রায় ছয় লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার। সম্প্রতি অদ্ভুত এই ঘটনাটি ঘটেছে ইন্ডিয়ার বাণিজ্যিক শহর মুম্বাইয়ের গোকুলধাম কলোনিতে।

জানা যায়, কিছুদিন আগে মেয়েকে বিয়ে দিতে বেশ কিছু টাকা ঋণ নিয়েছিলেন সুন্দরী প্লানিবেল নামে এক নারী। ব্যাংকে স্বর্ণালঙ্কার বন্ধক রেখে সেই ঋণের কিস্তি পরিশোধের পরিকল্পনা ছিল তার। এ জন্য কাগজে পেঁচিয়ে ব্যাগের ভেতর অলঙ্কারগুলো নিয়ে রওয়ানা হন তিনি। পথিমধ্যে কিছু পথশিশুকে দেখে ওই একই ব্যাগ থেকে খাবার বের করে দেন প্লানিবেল। কিন্তু ব্যাংকে পৌঁছেই বুঝতে পারেন, মস্ত বড় ভুল হয়ে গেছে। খাবারের সঙ্গে স্বর্ণালঙ্কারের প্যাকেটও তুলে দিয়েছেন তিনি।

সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে ফিরে সেই শিশুদের খুঁজতে থাকেন ভুক্তভোগী নারী। স্থানীয়দের সহযোগিতায় সেই পথশিশুদের খুঁজে ঠিকই বের করা হয়। কিন্তু তারা জানায়, খাবারটা বেশি শুকনো হওয়ায় ব্যাগসহ ফেলে দিয়েছিল। সেদিনের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ পরীক্ষা করা হয়। তাতে দেখা যায়, কয়েকটি ইঁদুর আবর্জনার স্তূপ থেকে ব্যাগটি টানতে টানতে নর্দমার ভেতর নিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ তখন নর্দমার গ্রিল খুলে ফেলে এবং ব্যাগটি খুঁজে পায়। এর ভেতরে সব গহনাই অক্ষত ছিল। ইঁদুরের গর্ত থেকে উদ্ধার স্বর্ণালঙ্কারের ওজন ছিল প্রায় ৫০০ গ্রাম, যার আনুমানিক মূল্য ৬ লাখ টাকা।

প্রসঙ্গত, আমাদের দেশে আমন ধান কাটার পর ধানক্ষেতে ভিড় করতে শুরু করে শিশু-কিশোররা। তাদের লক্ষ্য থাকে ইঁদুরের গর্তগুলো। কারণ এসব শিশুরা ইঁদুরের গর্ত খুঁড়ে ধানের শিষ সংগ্রহ করে। ইঁদুরের গর্ত থেকে ধান সংগ্রহ ও ফসল শূন্য মাঠ থেকে ধান কুড়ানোর বিষয়টি আমাদের দেশে দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। মাঠে ধান থাকা অবস্থায়ই ইঁদুর গর্তে ধান মজুদ করে রাখে। এসব ধান সংগ্রহ করা সময়সাপেক্ষ তাই কৃষকরা এসব ধানের দিকে নজর দেয় না। তাই স্থানীয় শিশুরা এগুলো সংগ্রহ করে বিক্রি এবং নিজেরাও চাল বানিয়ে খায়। তবে এসব গর্তে সাপ, পোকা-মাকড় থাকতে পারে যা শিশুদের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply