নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যানের খোলা আকাশের নীচে অফিস করবো : নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যানের
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ১ নভেম্বর ২০১৯ । ১৮ঃ১০
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সরকার দলীয় চেয়ারম্যান আতাউর রহমানের অফিসের জায়গা হয়নি পরিষদ ভবনে। দিনাজপুর জেলা ১৩ টি উপজেলা নিয়ে গঠিত হলেও কোন উপজেলায় এমন কথা শুনা যায়নি। নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ ভবনটিতে লেখা রয়েছে উপজেলা প্রশাসন ভবন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মশিউর রহমান উপজেলা পরিষদের নাম মুছে দিয়ে উপজেলা প্রশাসন ভবন লেখেছেন এমন অভিযোগ উঠেছে।
নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আমি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক । নৌকা প্রতিক নিয়ে ৩৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েও উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যানের অফিস নেই । দিনাজপুর জেলায় এমন কোন উপজেলা নেই যেখানে এমন দৃশ্য দেখা যাবে। আমি বার বার ইউএনও সাথে বসেছি এমন কি রেজুলেশন পর্যন্ত হয়েছে। বর্তমান সেমিনার রুমের পাশের রুমটি চেয়ারম্যানের অফিস করা হবে। কিন্তু কোন কথাই শুনতে চায়না ইউএনও।
চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আরও জানান, অফিস বরাদ্দ না দিলে রোদ বৃষ্টির মাঝে খোলা আকাশের নীচে অফিস শুরু করবো। তখন মিডিয়ার মাধমে জননেত্রী শেখ হাসিনা জানতে পারবেন তাঁর দলের নির্বাচিত পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের কোন অফিস নেই। খোলা আকাশের নীচে অফিস করছে।
ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে উপজেলা পরিষদে নিজেদের অফিসে বসে জন সাধারণের কথা বা তাদের সুখ দুঃখের সাথি হতে পারবো না সেটা কি করে হয় ? লোকজন আমাদের খোঁজে আসলে গাছতলায় বসে থাকে। তাই আমরাও জন সাধারণকে নিয়ে গাছতলায় বসে অফিস করবো।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পারুল বেগম বলেন, চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের বসার কোন রুম স্থান নেই। উপজেলা পরিষদের মধ্যে এত দিন উপজেলা চেয়ারম্যানের বাস ভবনটিতে উপজেলা চেয়ারম্যানের কার্যালয় হিসাবে ব্যবহার করে আসতেছিলাম । এখন উপজেলা চেয়ারম্যান বাস ভবনটিতে তার পরিবার নিয়ে এসেছেন। তাই আমাদের এখন অফিস হিসাবে বসার কোন রুম নেই। তবে শুনেছি অতি দ্রত উপজেলা পরিষদের নতুন ভবন ট্রেন্ডার হবে তখন আর এই সমস্যা থাকবে না ।
উপজেলা প্রকৌশলী মনছুর আলী জানায়, উপজেলা পরিষদের কমপ্রেক্স ভবনের নকস তৈরী করা হয়েছে অনুমতি পেলে ট্রেন্ডার দেওয়া হবে। তবে খুব দ্রত কাজ হবে বলে আশা করছি।
নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মশিউর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, উপজেলা প্রশাসন ভবনে কোন রুম ফাঁকা নেই । এছাড়া প্রশাসন ভবনে কোন রুম উপজেলা চেয়ারম্যানকে ও ভাইস চেয়ারম্যানদেরকে হস্তান্তর করতে হলে মন্¿ানলয়ের অনুমতি লাগবে। উপজেলা প্রশাসন ভবনে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের অফিস করার জন্য কোন রুম বরাদ্দ দেওয়ার মত নেই । শুনেছি সকল চেয়ারম্যানসহ রেজুলেশন করেছেন। মন্¿নালয় থেকে অনুমতি পেলে রুম ছেড়ে দিতে সমস্যা হবে না। উপজেলা পরিষদের নাম মুছে প্রশাসন ভবন লেখা হয়নি। আগে থেকেই প্রশাসন ভবন লেখা ছিল।

