ঢাকা শহর থেকে রিকশা সরানো কি সম্ভব?
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১১:৩৬
ঢাকায় যান চলাচলের গতি ধীর করে দেয়ার জন্য মূলত রিকশাকে দোষারোপ করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একটি বিস্তৃত পরিকল্পনার অভাবে রাজধানী থেকে এ তিন চাকার যানটি অপসারণ করতে পারছে না। এমনটি বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা আরও বলছেন, বিগত বছরগুলোতে রিকশাকে কেন্দ্র করে যে বিশাল অবৈধ ব্যবসা গড়ে উঠেছে তাও মন্থর গতিতে চলা এ যান রাজধানী থেকে তুলে দেয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান বাধা। তাদের মতে, রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো রিকশামুক্ত করতে সরকারের দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি প্রয়োজন ফ্র্যাঞ্চাইজি কোম্পানির অধীনে পর্যাপ্ত আধুনিক বাসের ব্যবস্থা এবং কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও আইনের কঠোর প্রয়োগ। পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক শামসুল হক, নগর বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম এবং ইকবাল হাবিব বলেন, ঢাকা উত্তর সিটির প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক পরিকল্পিত উপায়ে গুলশান, বনানী ও বারিধারার মূল সড়কগুলো রিকশামুক্ত করার যে সফল উদাহরণ সৃষ্টি করেছিলেন তা সরকার অনুসরণ করতে পারে। অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) ১৯৮২ সালে ৭৯ হাজার ৫৫৪টি রিকশার লাইসেন্স দেয়। তারপর থেকে নগর কর্তৃপক্ষ সেগুলো নবায়ন করেছে কিন্তু নতুন করে আর লাইসেন্স দেয়নি। কিন্তু নজরদারির অভাব ও আইনের দুর্বল প্রয়োগের ফলে অননুমোদিত রিকশার সংখ্যা দিন দিন ব্যাপক হারে বাড়ছে। দুই সিটি করপোরেশন ও ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজধানীতে প্রায় ১১ লাখ রিকশা রয়েছে। অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, যথাযথ পরিকল্পনা ও আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সব প্রধান সড়ক থেকে রিকশা অবশ্যই সরিয়ে ফেলতে হবে। ‘রিকশা শুধু মোটরযানের গতিই কমিয়ে দিচ্ছে না, সেই সাথে সড়কে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে।’ তিনি বলেন, নগরীর প্রধান সড়কে মোটরযানের গড় গতি ঘণ্টায় প্রায় ২০ কিলোমিটার। কিন্তু রিকশার এলোমেলো চলাচলের জন্য ওই গাড়িগুলোকে ঘণ্টায় ৬-৭ কিলোমিটার গতিতে চলতে হয়।

