ভিপি নুরসহ তার অনুসারীদের ওপর হামলা-সংঘর্ষ আহত ১৫
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৪৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুরসহ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ওপর মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলায় ভিপি নুরসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা। তাদের কয়েকজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে ডাকসু ভবনের সামনে হামলা করা হয় ভিপি নুর ও তার অনুসারীদের ওপর। পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। দুপুর প্রায় ২টা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। জানা গেছে, ভিপি নুর ও তার অনুসারীরা দুপুরে ডাকসু ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন। এসময় কেন্দ্রীয় সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক আল মামুনের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীরা ডাকসু ভবনের আশপাশে অবস্থান নেন। একই সময়ে ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনসহ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন সেখানে। ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, একপর্যায়ে লাঠিসোটা নিয়ে ডাকসু ভবনের ভেতরে অবস্থানরত ভিপি নুরসহ তার অনুসারীদের ওপর হামলে পড়েন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এসময় ভিপি নুরসহ অনেকেই তার হামলায় আহত হন। পরে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাকর্মীরা প্রতিরোধ করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। দুপুর পৌনে ২টার দিকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়, ডাকসু ভবনের বাইরে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এখনো অবস্থান করছেন। আহত ভিপি নুর এখন ডাকসুতে তার কক্ষের ভেতরে অবস্থান করছেন। আহতদের বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহত অন্যদের হাসপাতালে নিতে অ্যাম্বুলেন্সও এসেছে ডাকসু ভবনের সামনে। ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের একজন নেতা বলেন, আমাদের ওপর মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও ছাত্রলীগ হামলা করেছে। ভিপি নুর আহত হয়েছেন। আমাদের কেন্দ্রীয় নেতা হাসান আল মামুনের পা ভেঙে গেছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। ঘটনাস্থলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ৈর প্রক্টরিয়াল টিমও উপস্থিত আছেন। ঢাবি প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী সাংবাদিকদের বলেন, ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরসহ অন্যরা ডাকসু ভবনে এসেছে। তবে তারা আমাদের এ বিষয়ে কিছু অবহিত করেনি। ডাকসু ভবনের সামনে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় বহিরাগত কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি। এদিকে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতল সূত্রে জানা গেছে, আহত প্রায় ১৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। ঢামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে রয়েছেন- সোহেল, ইমরান, হাসান আল মামুন, নাজমুল, মামুন, সোহেল, জাহিদ, বিপ্লব, আরিফ, সুমন, আমিনুল, মেহেদি, আরিফুল ইসলাম ও মশিউর রহমান। ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. মো. আলাউদ্দিন বলেন, প্রায় ২০ জন রোগী হাসপাতালে এসেছে। সবাইকে পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে।
নুরকে দেখতে হাসপাতালে আ.লীগ নেতারা: এদিকে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও ছাত্রলীগের হামলা আহত ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরসহ আহতদের দেখতে হাসপাতালে গেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। তারা হাসপাতালে পৌঁছে নুরুর কেবিনে ঢোকার চেষ্টা করলে সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকার সংরক্ষণ মঞ্চের শিক্ষার্থীরা তাদের ভেতরে প্রবেশে বাধা দেন এবং প্রতিবাদ জানান। এসময় তারা নানা রকম স্লোগান দিতে থাকে। পরে নুরকে দেখে বের হওয়ার সময় নানক বলেন, ‘হামলার খবর পেয়ে আমরা ছুটে এসেছি তাদের দেখতে। হামলা যে এত বর্বর হয়েছে বুঝতে পারিনি।’ নানক বলেন, ‘ঘটনা সম্পর্কে শুধু এটুকু বলবো, আজ যে ঘটনাটি ঘটেছে এরপর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমরা উত্শৃঙ্খলতা সহ্য করবো না। হামলাকারীরা যে মঞ্চেরই হোক কাউকে সরকার রেহায় দেবে না।’
২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিচার দাবি: এর আগে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরসহ তার সমর্থকদের ওপর হামলার বিচারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। রোববার বিকেল ৫টায় ডাকসু ভবনের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে এ ঘোষণা দেন জোটের সমন্বক আল কাদেরি জয়। তিনি বলেন, ‘প্রগতিশীর ছাত্রজোটের পক্ষ থেকে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। আজ ডাকসু ভবনে এসে ভিপি নুরুল হক নুরের উপর ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ নাম ব্যবহার করে সন্ত্রাসী এবং ছাত্রলীগ হামলা চালিয়েছে। তাদের আমরা আজকে থেকে এ ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি।’ এ সময় ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।

