চাকরি ছেড়ে দিয়ে ‘ড্রাগন’ চাষে মোখলেছ

চাকরি ছেড়ে দিয়ে ‘ড্রাগন’ চাষে মোখলেছ

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন সংস্করন । ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ১৮:৩০

 ‘ড্রাগন’ বিদেশি ফল। চীন ভিয়েতনাম ইন্দোনেশিয়া মালয়েশিয়া থাইল্যান্ডসহ অনেক দেশেই ফলটি জনপ্রিয়। বাংলাদেশে এখনো তেমন পরিচিত হয়ে ওঠেনি। নরসিংদীর মনোহরদীতে এ ফলটি চাষ করে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন নরসিংদীর এক যুবক। নাম মোখলেছুর রহমান। তিনি মনোহরদী উপজেলার শুকুন্দী ইউনিয়নের দীঘাকান্দী গ্রামের মো.তমিজ উদ্দিনের ছেলে। মোখলেছ ড্রাগন ফল চাষে উদ্বুদ্ধ হন ইউটিউব দেখে। ইউটিউবে ড্রাগন চাষে বিভিন্ন এলাকার চাষিদের সফলতার ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হন। মোখলেছুর রহমান এইচএসসি পাশ করার পর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছিলেন। বেতন কম আবার শ্রম বেশি। তাই উপায় খুঁজছিলেন নিজের পায়ে দাঁড়াবার। পরে চাকরি ছেড়ে দিয়ে নিজের উদ্যোগে গ্রামের বাড়িতে ড্রাগন বাগান গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন। মোখলেছুর রহমান জানান, চাকরি ছেড়ে এসে প্রথমে তিনি প্রতিবেশি এক কৃষকের কাছ থেকে দুই বিঘা জামি ১০ বছরের জন্য লিজ নেন। আর তার জন্য জমির মালিককে দিতে হয়েছে তার ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এরপর পাশবর্তী উপজেলার আরেক সফল ড্রাগন চাষির পরামর্শ নিয়ে সে জমি প্রস্তুত করেন। জমিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ দূরত্ব বজায়া রেখে মোট ৩৫০টি সিমেন্টের খুঁটি স্থাপন করে প্রত্যেক খুঁটির মাথায় একটি করে পরিত্যক্ত ইজিবাইকের ট্রায়ার বেঁধে দেয়া হয়। এর পর প্রতিটি খুঁটির সাইডে গর্ত করে কম্পোষ্ট সার প্রয়োগ করা হয়। এরপর নাটোর থেকে ১২ হাজার টাকার ড্রাগনের ছোট চারা গাছ সংগ্রহ করেন। দুই বিঘা জমিতে মোট সাড়ে তিনশ সিমেন্টের খুঁটির প্রত্যেকটি খুঁটির চার পাশে চারটি চারা করে মোট ১৪’শ ড্রাগনের চারা রোপন করেন। বাগানের বয়স প্রায় ৫ মাস অতিবাহিত হয়েছে। এতে তার বাগানটি প্রস্তুত করতে এ পর্যন্ত তার  ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। দীঘাকান্দী গ্রামের মোখলেছুর রহমানের ড্রাগন বাগানে গিয়ে দেখা যায়, ক্যাকটাস গাছের মতো দেখতে ড্রাগনের সবুজ গাছগুলো বেড়ে ইতি মধ্যে সিমেন্টের খুঁটির মাথা ছুঁই ছুঁই করছে। মোখলেছুর রহমান জানান, চারা রোপনের এক থেকে দেড় বছরের মধ্য গাছ  ফুল আসে। ফুল আসার পর ২০-২৫ দিনের মধ্যে ফল হয়। এপ্রিল থেকে মে মাসে ফুল আসার সময় হলেও অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাসেও ফুল ধরে এবং এ সময় ফল উঠানো যায়।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading