খালেদার মামলায় লড়তে রাজি ড. কামাল

খালেদার মামলায় লড়তে রাজি ড. কামাল

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ০৭ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ১৩:৩৮

দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছরের দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বাক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। এ জন্য তিনি শুরুতে খালেদার পক্ষে মামলায় আইনি লড়াইয়ে রাজি না হলেও এখন তিনি রাজি হয়েছেন আদালতে বিএনপি চেয়ারপারসনের পক্ষে দাঁড়াতে। একই সঙ্গে ড. কামাল বলেছেন, বিএনপিনেত্রীর কিছু হলে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে। তিনি অবিলম্বে খালেদার মুক্তিও চেয়েছেন।

মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির জরুরি বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে ড. কামাল বলেন, অতি সম্প্রতি মিডিয়ায় প্রকাশিত তথ্যের আলোকে আমরা অবগত হয়েছি যে, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। তার স্বাস্থ্যের গুরুতর অবনতির কারণে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে আমরা গভীর উৎকন্ঠা ও উদ্বেগ প্রকাশ করছি। বেগম খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে টালবাহানার আমরা নিন্দা প্রকাশ করছি এবং বর্তমান অবস্থায় তার উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় আশু ব্যবস্থা গ্রহণসহ অবিলম্বে তার মুক্তির দাবি করছি। একই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, আমরা স্পষ্টভাষায় উল্লেখ করতে চাই, বেগম খালেদা জিয়ার যেকোনো অনভিপ্রেত ঘটনা হলে তার দায়-দায়িত্ব সম্পূর্ণ সরকারকেই বহন করতে হবে।

গত রোববার কয়েকজন স্বজন খালেদাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে দেখে আসার পর তাদের বরাত দিয়ে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব জানান, বিএপিনেত্রীর অবস্থা ‘গুরুতর’। এর পর মঙ্গলবার ঐক্যফ্রন্টের ব্রিফিংয়ে ড. কামাল হোসেন বলেন, খালেদা জিয়াকে জামিন না দেয়া সংবিধানের লঙ্ঘন। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, উনাকে জামিন না দেয়া অবশ্যই সংবিধান লঙ্ঘন করা। উনার চিকিৎসার ব্যাপারে যেটা আমরা দাবি করছি, সেটা যদি না মেনে নেয়া হয়, সেটা সংবিধান লঙ্ঘনের সামিল হবে। এই সংবিধান প্রণেতা আরও বলেন, সংবিধান একটি মৌলিক আইন, সর্বোচ্চ আইন। সংবিধানের বাইরে কেউ না, সংবিধানের কর্তব্য পালন করতে সকলেই বাধ্য। তারা (সরকার) সংবিধান অমান্য করলে গুরুতর অপরাধের জন্য দায়ী হবেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নে এই আইনবিশেষজ্ঞ বলেন, আমিসহ আমরা সবাই আছি তার (খালেদা) জামিনের ব্যাপারে। তার জামিনের ব্যাপারে আমাদের চেষ্টা অবশ্যই অব্যাহত থাকবে। খালেদার জামিনের পক্ষে দাঁড়াবেন কিনা প্রশ্ন করা হলে ড. কামাল হোসেন বলেন, অবশ্যই প্রয়োজন হলে আমার পেশাগত কাজ, এটা আমি করব। সর্বোচ্চ আদালতে খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর আর কোনো সুযোগ আছে কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবশ্যই আছে। জামিন যতবার আমরা চাইতে পারি। রিভিউর ব্যাপার আছে, রিভিউ ছাড়া ফ্রেস অ্যাপ্লিকেশন করা যায়।

মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে এর আগে স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, গণফোরামের আবু সাইয়িদ, সুব্রত চৌধুরী, মহসিন রশিদ, মোশতাক আহমেদ, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, শহীদুল্লাহ কায়সার, মমিনুল হক, জাহিদ-উর রহমান, জেএসডির সিরাজ মিয়া, শহিদউদ্দিন মাহমুদ স্বপন, গণস্বাস্থ্য সংস্থের ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিকল্পধারার নূরুল আমিন ব্যাপারী, শাহ আহমেদ বাদল, ঐক্যফ্রন্টের জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু প্রমুখ।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading