পুঁজিবাজার বাঁচাতে ৫ সদস্যের কমিটি
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ০৮ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ২১ঃ১০
অব্যাহত দরপতনে ডুবতে থাকা দেশের পুঁজিবাজারকে টেনে তুলতে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি করেছে সরকার। ছোট-বড় সব বিনিয়োগকারীরই প্রত্যাশা ছিল, নতুন বছরে দেশের পুঁজিবাজার ভালো হবে। কিন্তু সেটা না হয়ে আরও খারাপ হয়েছে। এখন লেনদেন শুরু হলেই বড় পতন হচ্ছে বাজারে। এমন পরিস্থিতিতে ফের রাস্তায় নেমেছেন বিনিয়োগকারীরা। বুধবার (৮ জানুয়ারি) মতিঝিলে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসই ভবনের সামনে মুখে কালো কাপড় বেঁধে বিক্ষোভ করেছেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। ফলে সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পাঁচ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাকসুরা নুরকে কমিটির সমন্বয়ক করা হয়েছে।কমিটির তিনজন সদস্য হবেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন নির্বাহী পরিচালক, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা-বিএসইসি’র একজন নির্বাহী পরিচালক এবং ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালিক। আর কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব নাহিদ হোসেন।
ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হলেও মঙ্গলবার কমিটি গঠন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজার উন্নয়নে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কমালের সঙ্গে পুঁজিবাজারের অংশীজনদের মতবিনিময় সভার প্রস্তাবগুলো যথাযথ বাস্তবায়নের কাজ সমন্বয় ও তদারকির জন এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির কাজ: প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে- মতবিনিময় সভার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট কর্মপন্থা প্রণয়নসহ সমন্বয়ের ভূমিকা পালন করবে কমিটি। বাস্তবায়ন অগ্রগতি ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে মনিটরিং করবে এবং সরকারের কাছে প্রতিবেদন দেবে। কমিটি প্রয়োজনে যেকোনো সংস্থার প্রতিনিধি অথবা ব্যক্তিকে কো-অপ্ট করতে পারবে। পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাথে পরামর্শ/আলোচনা করতে পারবে।
লেনদেন শুরু হলেই পড়ছে সূচক: এদিকে দরপতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে। কয়েকদিনের ধারাবাহিকতায় বুধবারও বড় ধরনের পতন হয়েছে বাজারে। এদিন দেশের প্রধান বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫৩ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ২৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২২৮ পয়েন্টে। টানা চারদিন দরপতনে ডিএসইর প্রধান এ সূচক কমেছে প্রায় ২৩০ পয়েন্ট।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ২০১৯ সালের মন্দাভাবেই ২০২০ সাল শুরু হয়েছে। দরপতনের ধাক্কায় ছোট-বড় সব বিনিয়োগকারী হতাশ-ক্ষুব্দ। দরপতনের মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠকে বসেন অর্থমন্ত্রী মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এরপর পতন আরো বেগবান হয়েছে। রোববার থেকে টানা চারদিন বড় পতন হয়েছে দেশের দুই বাজারেই।
২০১০ সালে বড় ধসের পর পুঁজিবাজারে সবচেয়ে ‘খারাপ’ অবস্থা গেছে ২০১৯ সাল। ২০১০ এর ধসের পর ২০১৬ সালের শেষ দিকে বাজার ঘুরে দাঁড়াতে থাকে। ২০১৭ সাল ভালোই গিয়েছিল। কিন্তু ২০১৮ সাল থেকে আবার পতন শুরু হয় পুঁজিবাজারে। ২০১৯ সালে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও তা স্থায়ী হয়নি। পতনের ধাক্কায় বাজার একেবারে তলানীতে নেমে যায়। সেই মন্দার কবল থেকে বের হতে পারছে না বাজার। টানা পতনে এক বছরের মধ্যে ডিএসই বাজার মূলধন হারিয়েছে ৭১ হাজার কোটি টাকার বেশি। ডিএসই’র প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমতে কমতে চার বছর আগের অবস্থানে চলে গেছে।
এদিকে, পুঁজিবাজারে দরপতনের কারণ খুঁজতে গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর পুঁজিবাজারের সকল অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী। সেপ্টেম্বরের ওই বৈঠকের পরও বাজার ঘুরে দাঁড়ায়নি; উল্টো আরও খারাপ হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে নতুন বছরের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার ডিএসই’র পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল। এওেত দরপতনে লাগাম লাগেনি পুঁজিবাজারের।
বৈঠকে ডিএসইসির পক্ষ থেকে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, অগ্রিম আয়কর শিথিল, সরকারি ভালো কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত, গ্রামীণফোন এবং টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার দ্বন্দ্বের দ্রুত নিষ্পত্তিসহ বেশ কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়। সে সব প্রস্তাবের মধ্যে টাকার অবমূল্যায়নের বিষয়টি সরাসরি নাকচ করে দেন অর্থমন্ত্রী। অন্য দাবিগুলোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি মন্ত্রী। উল্টো পুঁজিবাজারের দরপতনের কারণ হিসেবে গুজবকে চিহ্নিত করেন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, গুজবের কারণেই পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না।এখন নতুন কমিটির ‘গুজব মোকাবিলা করে’ পুঁজিবাজার টেনে তুলতে কতটা সফলতা দেখাতে পারেন- সেদিকেই দৃষ্টি ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের।

