পল্লী বিদ্যুৎ ও বন বিভাগকে আইনি নোটিশ
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ০৯ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ১৫:৫৮
বন্যপ্রাণী রক্ষায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বৈদ্যুতিক সংযোগ বন্ধ এবং আহত প্রাণীকূলের সুচিকিৎসার দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এবং বাংলাদেশ বনবিভাগকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। পিপল ফর এনিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের (পিএডব্লিউ) পক্ষে নোটিশটি পাঠিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান। সংশ্লিষ্টদের বরাবর রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) জানান ওই আইনজীবী।
বিদ্যুৎ, খনিজ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ সচিব, প্রধান বন সংরক্ষক, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ৭ জনকে নোটিশটি পাঠানো হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফুলবাড়িয়ার সন্তোষপুর বনাঞ্চলের জাতীয় উদ্যানের আহত বানরদের উদ্ধার করে সুচিকিৎসা ও পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার সন্তোষপুর বনাঞ্চলের জাতীয় উদ্যানের ভেতর দিয়ে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কর্তৃক স্থাপন করা বিদ্যুৎ নিরোধক আবরণহীন বৈদ্যুতিক তারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত এবং নিহত হচ্ছে অসংখ্য বানর। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে এ খবরটি গত এক সপ্তাহ ধরে প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এখনো পর্যন্ত কোনও সন্তোষজনক পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। অথচ বানরসহ জাতীয় উদ্যানের অন্যান্য বন্যপ্রাণীর জীবন হমুকির মুখে রয়েছে। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রাণীকল্যাণ সংগঠনটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠায়।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া বনে পল্লী বিদ্যুতের কভারবিহীন তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিন সপ্তাহে অন্তত ১০টি বানর ঝলসে গেছে বলে বনবিভাগ জানিয়েছে। এই বনের প্রাণীগুলোর নিরাপত্তা এখনও হুমকির মধ্যে। বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্টরা কার্যত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ বনবিভাগসহ পরিবেশ সচেতন মহলের।
প্রসঙ্গত, ফুলবাড়িয়া উপজেলার প্রায় ১৪ একর জায়গাজুড়ে প্রাকৃতিক বনাঞ্চল রয়েছে। সেখানে সাড়ে ৩শ’র মতো বানর অবাধ বিচরণ করে। কিছুদিন আগে বনের ভেতর দিয়ে পল্লী বিদ্যুতের কভারবিহীন উচ্চ ভোল্টেজের লাইন টানা হয় এবং গত ১৫ ডিসেম্বর বিদ্যুৎ লাইন উদ্বোধন করা হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে ১০টির মতো বানরের শরীর, হাত, পা ও মুখ ঝলসে গেলে এলাকায় এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের এ নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই।

