চীন থেকে ফিরছেন ৩৬১ জন, রাখা হবে হজ্জ ক্যাম্পে

চীন থেকে ফিরছেন ৩৬১ জন, রাখা হবে হজ্জ ক্যাম্পে

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন ।৩১ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ১৯ঃ২৫

প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে চীনের উহান নগরীতে আটকেপড়া ৩৬১ জন বাংলাদেশিকে একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) মধ্যরাতে কোনো এক সময় ঢাকা ফেরার পর তাদের সবাইকে আশকোনো হজ ক্যাম্পে ১৪ দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। নিরাপত্তার দায়িত্বে পুলিশের সঙ্গে সেনা সদস্যরাও থাকবেন। পর্যবেক্ষণের এই সময় তাদের সঙ্গে দেখা করার জন্য স্বজনরা যেন ব্যাকুল হয়ে না পড়েন- সেজন্য তাদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন।

শক্রবার এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, চীন থেকে যারা ঢাকা আসছেন, তাদের খবর সময় সময়ে জানানো হবে। হজ ক্যাম্পে যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়। উহানে আটকেপড়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি জানাতে শুক্রবার সকালে ঢাকার শাহজালার আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ওই সংবাদ সম্মেলনে আসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ জানান, আশকোনায় পর্যবেক্ষণে যাদের সুস্থ পাওয়া যাবে, তাদের বাড়ি যেতে দেওয়া হবে। আর কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিয়ে যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। পরে শুক্রবার বিকালে চীনের উদ্দেশ্যে বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইট ছেড়ে যায়। তবে ঠিক কখন ওই ফ্লাইট ঢাকায় ফিরে আসবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

জাহিদ মালেক বলেন, (চীন থেকে যারা ফিরছেন তাদের সঙ্গে) যারা দেখা করার জন্য ব্যাকুল হবেন, আমরা তাদের আহ্বান করব- তারা যেন দেখার জন্য ব্যাকুল না হন, জোরাজুড়ি না করেন। আমরা তাদের টাইম টু টাইম খবর দেব। সে খবর দেওয়ার ব্যবস্থাও আমরা করেছি। তিনি বলেন, আমাদের ছেলেমেয়েদের আনার জন্য আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তারা দেশের সন্তান। তাদেরকে দেখাশোনা করার দায়িত্ব আমাদের। এটাও আমাদের দায়িত্ব যদি কেউ সংক্রমিত হয়, তা যেন ছড়িয়ে না পড়ে। আমাদের দেশ যাতে নিরাপদে থাকে। সেজন্য সমস্ত ব্যবস্থা নিয়েছি।

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সংবেদনশীল। ছাত্রছাত্রীদের দুর্গতির কথা শুনে আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য। চীন সরকার বলেছিল, ১৪ দিন আগে তাদের রিলিজ করবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার আমাদের জানিয়েছে- একটা পকেট পেয়েছে, যখন আমাদের দেওয়া যাবে। সাথে সাথে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- আপনারা নিয়ে আসেন।

চীন থেকে দেশে ফিরতে ১৯টি পরিবার, ১৮শিশু এবং দুই বছরের কম বয়সী দুই শিশুসহ ৩৬১ জন নিবন্ধন করেছেন বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, খুব সেনসিটিভলি এদের হ্যান্ডেল করব, কোয়ারেন্টাইনে রাখব। এই সময় পরিবারের কেউ যেন দেখা করার চেষ্টা না করেন। এরা কেউ অসুস্থ না। কিন্তু আমরা জানি না, ভ্যাকসিন তৈরি হয়নি।

মধ্য চীনের উহান শহরে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়। এ ভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এর লক্ষণগুলো হয়- অনেকটা নিউমোনিয়ার মত। নভেল করোনাভাইরাস এর কোনো টিকা বা ভ্যাকসিন এখনো তৈরি হয়নি। ফলে এমন কোনো চিকিৎসা এখনও মানুষের জানা নেই, যা এ রোগ ঠেকাতে পারে। আপাতত একমাত্র উপায় হলো, যারা ইতোমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছেন বা এ ভাইরাস বহন করছেন- তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং কিছু স্বাস্থ্য বিধি ও পরিচ্ছন্নতার নিয়ম মেনে চলা।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে কেবল চীনেই ১০ হাজার মানুষ সংক্রামক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২১৩ জনের।

উহানে আটকে পড়া কয়েকজন শিক্ষার্থী বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) বাংলাদেশের একটি নিউজ এজেন্সিকে বলেন, সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় তাদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। অবরুদ্ধ দশার মধ্যে ভুগতে হচ্ছে খাদ্য সঙ্কটে। এই অবস্থায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরতে চান তারা। সেক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের পুরো ধাপ পেরোতেও তারা রাজি। বেইজিংয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা জানান, উহান ও এর আশেপাশের কয়েকটি এলাকায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সরিয়ে নিতে তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য বেইজিংয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস একটি হটলাইন চালু করা হয়েছে। সপ্তাহে সাত দিন +86 178-0111-6005 নম্বরে ফোন করে ২৪ ঘণ্টা সহায়তা পাওয়া যাবে। শুক্রবার পর্যন্ত বাংলাদেশি কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি বলেও বলেন জানান দূতাবাসের ওই কর্মকর্তা।

এদিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন বলেন, উহানের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি ফ্লাইট নেই, আছে কুংমিংয়ের সঙ্গে। সেখানে যেহেতু পরিস্থিতি খারাপ না, সেহেতু ফ্লাইট বন্ধ করার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার। তবে এই সময় চীনে না যেতে সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading