কুলচাষে কপাল খুলেছে চাষিদের
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন ।০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০ । আপডেট ১৮ঃ০১
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় নাটোরে কুলের বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো দাম পাওয়ায় লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। কুলচাষে কপাল খুলেছে তাদের। নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, উঁচু এবং উষ্ণতম অঞ্চলে কুলের ফলন ভালো হয়। নাটোরের লালপুর, বড়াইগ্রাম, গুরুদাসপুর, সিংড়া ও সদর উপজেলায় কুল চাষ হয়ে থাকে। নাটোর সদর উপজেলার হরিশপুর এলাকার কুলচাষি আবু তাহের জানান, ১ বিঘা জমিতে কুল চাষ করতে সার, কীটনাশক ও সেচের জন্য ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। ফলন ঠিকমতো হলে এবং দাম ভালো পেলে প্রতি বিঘায় প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ হয়। জেলার বনপাড়া বাইপাস, ওয়ালিয়া বাজার, সদর উপজেলার চানপুর বাজারসহ বেশ কয়েকটি স্থানে কুলের পাইকারি বাজার গড়ে উঠেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ৮-১০টি আড়তে প্রতিদিন কুল বেচাকেনা হচ্ছে। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার খ্যাত নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া বাইপাস মোড়ে গড়ে ওঠা কুলের আড়ত এ সময় বেচাকেনায় সরগরম থাকে। প্রতিদিন গড়ে ১ কোটি টাকার বিভিন্ন জাতে কুল কেনাবেচা হয় এখানে। এ আড়তে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের ১২টি জেলার কুলচাষি ও পাইকাররা কুল নিয়ে আসেন। এসব কুল ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রামসহ দেশের পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা পাইকারি দরে কিনে ট্রাকে বোঝাই করে নিয়ে যান। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ২০টি আড়তে কুল কেনাবেচা চলছে। এর মধ্যে আপেল কুল, থাই কুল, বাউকুল আলাদাভাবে রাখা হয়েছে। কুলের সতেজতা ও মান অনুসারে দাম হাকিয়ে আড়তদাররা তা বিক্রি করছেন। আড়তদার মুক্তার হোসেন জানান, নাটোর, পাবনা, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার প্রত্যন্ত গ্রামের চাষিরা এই আড়তে কুল নিয়ে আসেন।

