আজ পবিত্র শবে বরাত

আজ পবিত্র শবে বরাত

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন ০৯ এপ্রিল ২০২০। ০০:০১

যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাব-গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দিবাগত রাতে সারাদেশে পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে। প্রতিবছর হিজরি শাবান মাসের ১৪ তারিখ রাতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলমান সম্প্রদায় দিবসটি পালন করে থাকেন। পবিত্র শবে বরাত উপলাক্ষে মুস্লিম উম্মাহ বাসগৃহে ও মসজিদে সারা রাত নামাজ পড়ে ও ইবাদত করে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনেকই পুরো রাত মসজিদে থেকে ইবাদত করে থাকেন। তবে এবার করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে ঘরেই পবিত্র শবে বরাতের ইবাদত করার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি ঘরে শবে বরাতের ইবাদত করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের প্রতি এই আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অন্যান্য বছর ইসলামিক ফাউন্ডেশন মাগরিবের নামাজের পর থেকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মিলাদ ও জিকির আসগারসহ অন্যান্য কর্মসূচি পালনের ব্যবস্থা করতো। এবার এ ধরনের কোনও আয়োজন করা হচ্ছে না।

ইসলাম ধর্মের পন্ডিতদের মতে, শবে বরাত মুসলামানদের কাছে লাইলাতুল বারাআত নামেও পরিচিত। আরবি শব্দ লাইলা অর্থ রাত। অন্যদিকে ফার্সি শব্দ শব অর্থও রাত। আর বরাত অর্থ মুক্তি বা নিষ্কৃতি। শাবান মাসের ১৪ তারিখের এ রাতকে মুক্তির রাত বা নাজাতের রাত হিসেবে অবহিত করা হয়। এ রাতে সৃষ্টিকর্তার কাছে পাপ থেকে মুক্তি কামনা করে প্রার্থনা করা হয়। এ রাতে অনেকেই নফল নামাজ, কোরআন তেলওয়াত ও দোয়া এবং জিকিরের মধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন। এছাড়া অনেকেই এ রাতে বাবা-মাসহ আত্মীয়দের কবর জিয়ারত ও দোয়া করেন।

বাঙালি মুসলিমদের সংস্কৃতির অংশ হচ্ছে, শবে বরাতের রাতে বাসায় হালুয়া-রুটিসহ ভালো খাবারের আয়োজন। আত্মীয়-স্বজন ও ধর্মীয় নেতা তথা মসজিদের ইমামসহ আলেমদের বাসায় দাওয়াত করে সাওয়াব লাভের আশায় আপ্যায়ন করানো। শবে বরাতের আগের ও পরের দিন নফল রোজাও রাখেন অনেকে। যদিও শবে বরাতের এসব ইবাদত-বন্দেগী ও সামাজিক আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে আলেমদের মধ্যে মত-পার্থক্য রয়েছে। তবে বাংলাদেশে এটি একটি ঐতিহ্য হিসেবে যুগ যুগ ধরে উপরে উল্লেখিত ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে শবে রাত পালিত হয়ে আসছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ মার্চ বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। কাজেই ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার পবিত্র রজব মাস ৩০ দিন পূর্ণ হয়। ২৭ মার্চ (শুক্রবার) থেকে পবিত্র শাবান মাস গণনা শুরু হয়। সেই হিসাবে আগামীকাল ১৪ শাবান ও শবে বরাত পালিত হচ্ছে। এর পরে আগামী ২৫ এপ্রিল পবিত্র মাহে রমজান শুরু হতে পারে।

তবে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতি করোনার কারণে সাজামিক দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি। সেকারণে এবার শবে বরাতে বাসার বাহিরে কোনো আনুষ্ঠানিকতা হচ্ছে না। এমনকি পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে রমজান মাসে তারাবিহ নামাজও ঘরে আদায় করার সরকারি নির্দেশনা আসতে পারে। বর্তমানে মসজিদে ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ ৫ জন নিয়ে নিয়মিত জামাত আদায় হচ্ছে। শুক্রবারের জুমার নামাজে মসজিদে সর্বোচ্চ ১০ জনের উপস্থিতিতে জামাত করার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে।

যদিও করোনা পরিস্থিতির কারণে ইন্দোনেশিয়ায় এরই মধ্যে রমজানে তারাবিহ নামাজ ঘরে আদায়ের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মক্কা ও মাদিনাসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও নামাজ ঘরে আদায় করার নির্দেশনা রয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে শুধু শবে বরাতই নয়, অন্যান্য সময়েও মুসল্লিদের ঘরে বসে নামাজ পড়ার নির্দেশনা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে গত সোমবার (৬ এপ্রিল) মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাখাওয়াৎ হোসেন স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, শুধু মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমরা মসজিদে নামাজ আদায় করবেন। সব ধর্মের মূলনীতির আলোকে এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। ওই নির্দেশনা অমান্য করলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

পবিত্র শবেবরাতে ঘরে বসে ইবাদতের আহবান

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading