করোনায় আরও এক পুলিশ সদস্যের মৃত্যু

করোনায় আরও এক পুলিশ সদস্যের মৃত্যু

উত্তরদক্ষিণ বুধবার ০৬ মে ২০২০। ১৩:০৫

নভেল করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রঘুনাথ রায় মারা গেছেন। তিনি রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এনিয়ে দেশে মোট ৬ জন পুলিশ সদস্যের মৃত্যু হলো করোনায়।

আক্রান্ত বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে
অপরদিকে, পুলিশ সদস্যদের আক্রান্তের হারও ব্যাপক। এ পর্যন্ত দেশে মোট আক্রান্তের ১০ শতাংশের বেশি পুলিশ। ব্যাপক হারে পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে মাঠে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ বাহিনীতে এই রোগ সংক্রমণ বাড়ছে হু হু করে। এক সপ্তাহেরও কম সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে।

বুধবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সারাদেশে অন্তত ১ হাজার ১৮৯ জন পুলিশ সদস্য নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। যার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের। আর এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৮৫ জন।

আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের সদস্যই ৫৭৬ জন বলে পুলিশ সদরদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। আক্রান্তদের বাইরে কোয়োরেন্টিনে আছেন ১ হাজার ২৬০ জন এবং আইসোলেশনে আছেন ১ হাজার ৮৯ জন।

গত কয়েক দিনের তথ্য বিশ্লেষণ করলে পুলিশে সংক্রমণের হার দ্রুত বাড়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। বাংলাদেশ পুলিশের ফেইসবুক পেইজে এক পোস্টে পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি মো. সোহেল রানা জানান, পুলিশিং একটি ইউনিক পেশা। সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেলামেশার ব্যাপক সুযোগ এই পেশায় রয়েছে। এটি অন্য কোনো পেশায় নেই। এই বিশেষ দিকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে বর্তমান এই পরিস্থিতিতে। তিনি বলেন, হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করার জন্য পুলিশকে মানুষের বাড়ি বাড়ি যেতে হয়েছে এবং আইসোলেশন নিশ্চিত করার জন্যও মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়েছে পুলিশ। এছাড়া খুব কাছে থেকে এগুলো নিশ্চিত করতে হয়। পাশাপশি পুলিশ যখন দেখে কোনো রোগীর বা ব্যক্তির চিকিৎসা প্রয়োজন, হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন বর্তমান পরিস্থিতিতে পুলিশ সদস্যরা সেই রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছে। আবার দ্রব্য মূল্য নিশ্চিত করার জন্য বাজারে যেতে হয়েছে। মানুষের কাছে থেকে কাজ করতে হয়েছে। বিভিন্ন কারণে কোথায়ও বিক্ষোভ হলেও সেখানে পুলিশকে মাঝখানে থেকে কাজ করতে হয়েছে।

সোহেল রানা বলেন, এই ভাইরাসে যখন কেউ মারা যাচ্ছেন আর কেউ এগিয়ে না আসলেও পুলিশ সদস্যরা যাচ্ছেন ওই ব্যক্তির জানাজা বা সৎকারে এবং দাফনে যাচ্ছেন। এতে করে পুলিশে কিছু ঝুঁকি থাকছে।

অনেক ক্ষেত্রে পুলিশকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হয় বলে সব সময় সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হয় না স্বীকার করে এআইজি সোহেল রানা। এছাড়া পুলিশের কোনো একজন আক্রান্ত হলে অন্যদের মধ্যে সহজে সংক্রমিত হওয়ার বেশি ঝুঁকি থাকে বলেও জানান তিনি।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৯২৯ জন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ১৮৯ জন পুলিশ হওয়ায় একক পেশাজীবী হিসেবে তারাই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। তাছাড়া মৃত্যুও অন্যান্য পেশার চেয়ে পুলিশে বেশি।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading