দেশে ত্রাণের জন্য গিয়ে শিশুরা ধর্ষিত হচ্ছে: জরিপ
উত্তরদক্ষিণ বুধবার ০৬ মে ২০২০। ১৯:৪৫
নতুন করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে চলমান অবরুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও থেমে নেই নারী ও শিশু নির্যাতন। এমনকি মহামারীর এই সময়ে ত্রাণ নিয়ে যাওয়া শিশুদের ধর্ষণের মতো গুরুতর ঘটনার তথ্যও উঠেছে এসেছে একটি বেসরকারি সংস্থার জরিপে। মোবাইল ফোনে ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ এর করা একটি জরিপে এসেছে, গেল এপ্রিল মাসে দেশের ২৭ জেলায় ৪ হাজার ২৪৯ জন নারী ও ৪৫৬ জন শিশু সহিংসতার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ত্রাণ আনতে গিয়ে ১০ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়।
বুধবার (৬ মে) এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে জরিপের তথ্য উপস্থাপন করে জানানো হয়। এসময় বলা হয়, এক হাজার ৬৭২ জন নারী এবং ৪২৪ জন শিশু প্রথমবারের মতো নির্যাতনের শিকার হয়েছে। শিশুদের মধ্যে ৯২ ভাগই তাদের বাবা-মা ও আত্মীয়দের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছে।
সংস্থার দুইটি প্রকল্পের কর্ম এলাকার ২৪টি সহযোগী সংগঠন ২৭টি জেলার ৫৮ উপজেলার ৬০২টি গ্রাম ও চারটি সিটি কর্পোরেশনের ১৭ হাজার ২০৩ জন নারী ও শিশুদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তথ্য সংগ্রহ করে।
ব্রিফিংয়ে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, জরিপের তথ্য অনুযায়ী স্বামীর দ্বারা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৮৪৮ জন নারী, মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন দুই হাজার আটজন, যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৮৫ জন এবং অর্থনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক হাজার ৩০৮ জন নারী। এর বাইরে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন চারজন নারী, হত্যা করা হয়েছে একজনকে এবং যৌন হয়রানি করা হয়েছে ২০ জন নারীকে।
তিনি বলেন, উত্তরদাতা চার হাজার ২৫৯ শিশুর মধ্যে ৪২৪ জন শিশু পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়েছে। এর বাইরে বাল্যবিয়ে হয়েছে ৩৩টি এবং অন্যান্য সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৪২টি। চারজন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, ১৬ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। অপহৃত হয়েছে দুইজন, যৌন হয়রানির শিকার ১০ জন এবং রিলিফ নেয়ার সময় ১০ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়।
করোনাভাইরাসের এই সঙ্কটের মধ্যে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে পারিবারিক এবং অন্যান্য সহিংসতা প্রতিরোধ, সহায়তা দিতেই জরিপটি চালানো হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
জরিপের বিষয়ে শাহীন আনাম বলেন, লকডাউনের কারণে ইনডেপথ জরিপ করা সম্ভব হয়নি। সেজন্য আমরা টেলিফোনে করেছি। আমরা লকডাউনে পারিবারিক নির্যাতনের অবস্থা ও কি ধরণের নির্যাতন হচ্ছে তা জানতে চেয়েছি। তাদের কি ধরণের সাপোর্ট দেওয়া যায় সেটিও জানতে চেয়েছি।
সহিংসতার শিকার নারী ও শিশুরা যেন ফোন করে দ্রুত সহযোগিতা পায় সেজন্য সরকারি হেল্প লাইনগুলো আরও কার্যকর রাখার সুপারিশ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। ব্রিফিং সঞ্চালনা করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সিনিয়র মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর শাহানা হুদা। তথ্য সহায়তা বিডিনিউজ।

