করোনা চিকিৎসায় ‘শতভাগ’ কার্যকর ওষুধ, আমেরিকার পরে বাংলাদেশেও দাবি

করোনা চিকিৎসায় ‘শতভাগ’ কার্যকর ওষুধ, আমেরিকার পরে বাংলাদেশেও দাবি

উত্তরদক্ষিণ শনিবার ১৬ মে ২০২০। ১২:৪৫

করোনা চিকিতসা নিয়ে মানুষের আগ্রহের যেমন কমতি নেই, তেমনি ‘আবিস্কারের’ও শেষ নেই। এই মহামারির সময় একটি কার্যকরী ওষুধের জন্য মানুষ যেন চাতক পাখির মত অপেক্ষায় রয়েছে। চিকিতসা বিজ্ঞানের সঙ্গে জড়িত বিশ্বের নামি-দামি সব রথি-মহারথি আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে কিছু কিছু সাফল্য ও সম্ভাবনা আলোক ছটার দেখা মিললেও চুড়ান্ত সাফল্য এখনও আসেনি।

সম্প্রতি আমেরিকার একটি প্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশের একজন চিকিতসক ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে তাদের সাফল্যের দাবি করেছেন।

মার্কিন বায়োফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ‘সোরেন্টো থেরাপিউটিকস’এর সাফল্যের দাবি

মার্কিন ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক একটি বায়োফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি দাবি করেছে, করোনা প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি বা প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছে তারা। ‘সোরেন্টো থেরাপিউটিকস’ নামের কোম্পানিটির দাবি, তাদের এই অ্যান্টিবডি ‘শতভাগ কার্যকর’ এবং রোগীকে মাত্র চার দিনেই করোনামুক্ত করবে। তবে এর চেয়েও ভালো খবর আছে বাংলাদেশে।

মাত্র ৪ দিনের চিকিৎসায় করোনা আক্রান্ত রোগী শতভাগ সুস্থ হওয়ার সাফাল্য পেয়েছে বাংলাদেশের একদল চিকিৎসক। মজার বিষয় হলো, এ জন্য নতুন কোনও ওষুধ নয়। বরং বাজারে থাকা পুরোনা দুটি ওষুধ একসঙ্গে প্রয়োগ করে শতভাগ সুফল পাওয়া গেছে।

মার্কিন সোরেন্টো থেরাপিউটিকস জানিয়েছে, ভ্যাকসিন বা টিকা বাজারে ছাড়ার আগেই তাদের অ্যান্টিবডির মাধ্যমে চিকিৎসা শুরু হয়ে যেতে পারে। ওই অ্যান্টিবডি নিয়ে প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর সোরেন্টো পরবর্তী কার্যক্রমে এগোচ্ছে। শুক্রবার কোম্পানিটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ডা. হেনরি জি বলেন, করোনা ভ্যাকসিন বাজারে আসার আগেই এই অ্যান্টিবডির মাধ্যমে চিকিৎসা শুরু হয়ে যেতে পারে। এটি এতটাই কার্যকর যে, শরীরে প্রয়োগ করার পর আর সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে না। নির্ভয়ে সবার সঙ্গে মেশা যাবে।

ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংক্রমণজনিত রোগের চিকিৎসায় অ্যান্টিবডির ব্যবহার শত বছর ধরে চলে আসছে। যদিও এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে। সেজন্য ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে সফল অ্যান্টিবডি আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা নতুন চ্যালেঞ্জে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করে আসছেন বিশেষজ্ঞরা।

এতো শঙ্কা-সন্দেহ সত্ত্বেও সোরেন্টো কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলছেন, করোনাভাইরাসের সফল চিকিৎসার চাবিকাঠি পেয়ে গেছেন তারা। তাদের দাবি, গবেষণার অংশ হিসেবে তারা গত দশকে শত কোটি অ্যান্টিবডি সংগ্রহ করেছেন এবং সেগুলোর স্ক্রিনিংও করেছেন। এর মধ্যেই ডজনখানেকের মতো এমন অ্যান্টিবডি রয়েছে, যারা কার্যত করোনাভাইরাসকে মানুষের শরীরে গেঁড়ে বসা থেকে ঠেকিয়ে দিতে পারে।

গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে ছড়ানো করোনাভাইরাস গোটা বিশ্বকে কাবু করে ফেলেছে। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। মৃত্যু হয়েছে তিন লাখেরও বেশি মানুষের। এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ অবিশ্বাস্য সফলতা পেয়েছে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে।

করোনা নির্মূলে ‘শতভাগ’ সফল বাংলাদেশের চিকিতসক

করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় বিশ্বকে আশার নতুন বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশি চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. তারেক এবং তার দল। গবেষণায় পুরনো দুটি ওষুধের সম্মিলিত ব্যবহার করেছেন তারা। ৬০ জন করোনা বা কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর শরীরে ওই ওষুধ প্রয়োগ করার মাত্র চার দিনের মধ্যে সবাই পুরোপুরি সুস্থ হয়েছেন। এমনটাই জানিয়েছেন অধ্যাপক ডা. তারেক।

গবেষকদলের প্রধান
ডা. তারেক জানিয়েছেন,
অ্যান্টিপ্রোটোজোয়াল মেডিসিন ইভারমেকটিনের সিঙ্গল ডোজের সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক ডক্সিসাইক্লিন প্রয়োগে আক্রান্ত রোগীদের মাত্র ৩ দিনে ৫০ শতাংশ লক্ষণ কমে যাওয়া এবং ৪ দিনে টেস্টের রেজাল্ট নেগেটিভ আসার বিস্ময়কর সাফল্য পেয়েছেন

দেশের প্রথম বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদলের প্রধান অধ্যাপক ডা. তারেক আলম জানিয়েছেন, গবেষণায় তারা অ্যান্টিপ্রোটোজোয়াল মেডিসিন ইভারমেকটিনের সিঙ্গল ডোজের সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক ডক্সিসাইক্লিন প্রয়োগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মাত্র ৩ দিনে ৫০ শতাংশ লক্ষণ কমে যাওয়া আর ৪ দিনে করোনাভাইরাস টেস্টের রেজাল্ট নেগেটিভ আসার বিস্ময়কর সাফল্য পেয়েছেন।

ডা. তারেক আলম বলেন, ‘এটি আমাদের কাছে রীতিমতো বিস্ময়কর লেগেছে। আরো আগে যদি আমরা ওষুধ নিয়ে কাজ করতাম, তবে এতদিনে হয়তো অনেককে হারাতে হতো না।’ তিনি বলেন, ‘এই ওষুধ দুটি এর আগেও সার্স মহামারির সময় ব্যবহার করা হয়েছিল। আমি নিশ্চিত করেই বলছি, এই ওষুধ দুটির সম্মিলিত ব্যবহারে করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত অন্য দুটি ওষুধ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ও রেমডিসিভিরের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর ফল পাওয়া যাবে। ইতিমধ্যে এই ওষুধ নিয়ে ভারতে গবেষণা শুরু হয়েছে। আমরা বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৬০ জন রোগীর ওপর গবেষণা করেছি। তাতে আমরা এই সাফল্য পেয়েছি। আমাদের গবেষণার আওতায় ইতিমধ্যে অস্ট্রেলিয়ার মনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ওষুধ দুটির সফল স্টাডি সম্পন্ন হয়েছে।’

সম্মান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এই গবেষণায় অধ্যাপক ডা. তারেক আলমের সঙ্গে একই প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক ডা. রুবাইয়ুল মোরশেদসহ অন্যরা সহযোগিতা করেছেন।
তথ্য সহায়তাঃ ফার্মালাইভ, বাংলাট্রিবিউন, কালের কণ্ঠ।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading