সাতক্ষীরায় তাণ্ডব, রাজশাহীতে আম ঝরিয়ে শক্তিহীন ‘আম্পান’

সাতক্ষীরায় তাণ্ডব, রাজশাহীতে আম ঝরিয়ে শক্তিহীন ‘আম্পান’

উত্তরদক্ষিণ বৃহস্পতিবার ২১ মে ২০২০। ১৬:০৫

দেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানাচ্ছে, ঘুর্ণিঝড় আম্পান বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহীতে অবস্থান করছিল। সেখানে গিয়ে শক্তি হারিয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে সুপার সাইক্লোনটি। তবে এর আগে লন্ডভন্ড করে গেছে উপকূলীয় জেলাগুলোকে। আম্পানের তাণ্ডবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতক্ষীরা।

আবহাওয়া অধিদপ্তর এরই মধ্যে মহাবিপদ সংকেত নামিয়ে স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করেছে। এর আগে ইন্ডিয়ার পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়ে দক্ষিণাঞ্চলীয় সাতক্ষীরা এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ঘূর্ণিঝড়টি। তবে সুন্দরবন বাংলাদেশের জন্য ঢাল হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করা হয়। যার ফলে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলক কম হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।

বড় ক্ষতি সাতক্ষীরায়
সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল বৃহস্পতিবার সকালে বলেন, অন্ততঃ চারটি উপজেলার ২৩টি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তিনি যদিও তাৎক্ষণিক সঠিক কোনও হিসাব দিতে পারেননি। তবে জানান, আজকেই একটা চিত্র পাওয়া যাবে। তবে এখন পর্যন্ত যে ধরণের খবরাখবর পাচ্ছেন, তাতে অন্ততঃ ৫/৭টি পয়েন্ট দিয়ে পানি প্রবেশ করে বহু চিংড়ি ঘের ও বিস্তীর্ণ গ্রামাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এছাড়া বহু কাঁচা ঘরবাড়ি ও গাছপালা ভেঙে পড়ার খবর তিনি জানিয়েছেন।

সাতক্ষীরায় আমেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রাজশাহী অঞ্চলের বাইরে সাতক্ষীরাতেও আমের বড় ধরণের ফলন হয়। গাছপালা পড়ে সড়ক যোগাযোগ ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। দমকল কর্মীরা রাস্তা থেকে ভাঙা গাছপালা সরিয়ে সড়ক যোগাযোগ পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করছেন বলে জানাচ্ছেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক। সাতক্ষীরায় এখন পর্যন্ত সবচাইতে ক্ষতিগ্রস্ত চারটি উপজেলা হচ্ছে- শ্যামনগর, আশাশুনি, কালিগঞ্জ এবং সাতক্ষীরা সদর।

ঘূর্ণিঝড়টি মূলতঃ বাংলাদেশে প্রবেশ করে শ্যামনগরের সর্ব দক্ষিণের লোকালয় মুন্সীগঞ্জ সংলগ্ন সুন্দরবন দিয়ে। সেখান থেকে কিছুটা দক্ষিণে এগোলেই সুন্দরবনের ইন্ডিয়ান অংশ শুরু। মুন্সীগঞ্জের সুন্দরবন সংলগ্ন গাবুরার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুন একটি চিংড়ি ঘেরের মালিক। তিনি জানান, কয়েক একর আকারের তার ওই চিংড়ি ঘেরটি পানিতে তলিয়ে গেছে। তার গ্রামের কয়েকশো ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানাচ্ছিলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, তার গ্রাম সংলগ্ন নদীটির অন্ততঃ দুটি পয়েন্ট থেকে বাঁধ ভেঙে গেছে। এই প্রতিবেদন লেখার সময়ও পয়েন্ট দুটি দিয়ে পানি প্রবেশ অব্যহত ছিলো। আল মামুন বলেন, এখনই সংস্কার করা না হলে ভাঙা এই পয়েন্ট দিয়ে ঢোকা পানি সংলগ্ন গ্রামগুলোর বাড়িঘরগুলোকেও ডুবিয়ে দেবে।

স্থানীয় অনলাইন পত্রিকা ডেইলি সাতক্ষীরা’র সম্পাদক হাফিজুর রহমান মাসুম বলেন, এখন পর্যন্ত তিনি যা হিসাব করেছেন, তাতে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।

এদিকে, বৃহস্পতিবার দুর্বল হওয়ার আগে রাজশাহী ও পাবনায় আম বাগানে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে আম্পান। এতে মৌসুমী কাঁচা আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তথ্য সহায়তা বিবিসি।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading