করোনার রিপোর্ট নেগেটিভ, তবুও হাসপাতাল থেকে ফিরলো লাশ!

করোনার রিপোর্ট নেগেটিভ, তবুও হাসপাতাল থেকে ফিরলো লাশ!

উত্তরদক্ষিণ বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২০। ১৬:০০

গুলশানের একটি বায়িং হাউজে অফিস করছিলেন রিয়াজুল আলম লিটন। শরীরে হালকা জ্বর অনুভূত হচ্ছিল। সেই থেকে করোনা সন্দেহ। সহকর্মীরা পরীক্ষার জন্য নিয়ে যান পাশের ইউনাইটেড হাসপাতালে। করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। রিপোর্ট আসার আগ পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লিটনকে করোনা ওয়ার্ডে আইসোলেশনে রাখেন। করোনার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। কিন্তু সেই ফল জানার আগেই হাসপাতালে আগুনে পুড়ে লিটনের নির্মম মৃত্যু হয়েছে। লিটন হারিয়ে পরিবারের সদস্যরা এখন বাকরুদ্ধ।

বুধবার (২৭ মে) রাতে ইউনাইটেড হাসপাতালের অগ্নিকাণ্ডে মারা যান দিনাজপুরের বীরগঞ্জের রিয়াজুল আলম লিটন। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ভোরে স্বজনরা তার লাশ গ্রামের বাড়ি নিয়ে গেছেন।

নিহত রিয়াজুল আলম লিটনের বড় ভাই রইসুল আজম ডাবলু জানান, তার ভাই স্ত্রী ফৌজিয়া আক্তার জেমি ও ৭ বছরের একমাত্র ছেলে আসমাইন ফিয়াজকে নিয়ে শ্যামলী এলাকায় থাকতেন। বিদেশি একটি বায়িং হাউজের কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করতেন লিটন। বুধবার অফিসে যাওয়ার পর শরীরে তাপমাত্রা একটু বেশি হওয়ায় করোনা পরীক্ষা করাতে তিনি হাসপাতালে যান। বিকাল ৩টার দিকে তার শরীর থেকে নমুনা নিয়ে তাকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

রইসুল আজম ডাবলু বলেন, ‘আমরা অপেক্ষা করছিল করোনা পরীক্ষার ফলাফলের জন্য। ফলাফল ঠিকই নেগেটিভ এলো। কিন্তু ভাই আমার বাঁচলো না।’

নিহত রিয়াজুল আলম লিটনের এক সময়ের রুমমেট ও বীরগঞ্জের স্থানীয় সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক বিপুল জানান, লিটন জগন্নাথ কলেজ (বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছিলেন। এরপর থেকে তিনি ঢাকায় থেকে বায়িং হাউজ ব্যবসা করতেন। তিনি লায়ন্স ক্লাব অব দিনাজপুরের সাবেক সেক্রেটারি এবং ঢাকাস্থ বীরগঞ্জ সমিতির উপদেষ্টা ছিলেন। এলাকার উন্নয়ন ও যেকোনও সামাজিক কার্যক্রমে স্বেচ্ছায় ঝাঁপিয়ে পড়তেন তিনি।

স্বজনরা জানান, বীরগঞ্জের সুজালপুর গ্রামের মৃত ফরজান আলীর চার সন্তানের মধ্যে লিটন ছিলেন সবার ছোট। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে তার লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে। পরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়।

এদিকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান বুধবার রাতে ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই ইউনিটে এয়ার কুলার মেশিনে শট সার্কিট হয়ে অগ্নিকাণ্ডের সূচনা হয়। আইসোলেশন ইউনিটে অনেক দাহ্য পদার্থ ছিল। এই কারণে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে সেখানে থাকা পাঁচ জন রোগীর মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে তিনজন করোনা পজিটিভ ছিলেন। সূত্র: বাংলাট্রিবিউন।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading