করোনা মোকাবিলায় সরকার রাজনৈতিক নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেয়নি, মির্জা ফখরুলের অভিযোগ
উত্তরদক্ষিণ বুধবার ০৩ জুন ২০২০। ২৩:৫৭
করোনা (কোভিড-১৯) মোকাবিলায় সরকার রাজনৈতিক নেতৃত্বকে গুরুত্ব না দিয়ে আমলা ও প্দেরশাস্রনকে গুরুত্ব দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার (০৩ জুন) নাগরিক ঐক্যের অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনা সভায় ভিডিও কনফারেন্সের মধ্যমে বক্তব্য রাখার সময় তিনি কথা বলেন।
দেশে বর্তমানে লেজেগোবরে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, এ সরকারের সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পর্ক নেই। সরকার শুরু থেকে এই বিষয়টি (করোনা মোকাবেলা) চেষ্টা করেছে আমলাদের সঙ্গে নিয়ে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এমনকি আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব এখানে খুব গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা নেই।
করোনা সংক্রমণ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, জানি না যে, এখান থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসবে সরকার বা এ দেশের মানুষ কীভাবে বেরিয়ে আসবে। সমগ্র বিশ্ব যখন এই সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে তারা হিমশিম খাচ্ছে। কারণ এখন পর্যন্ত কোনো ওষুধ ও ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি এবং হওয়াও ডিফিকাল্ট।
নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়কারী শহীদুল্লাহ কায়সারের সঞ্চালনায় ভিডিওতে যুক্ত হয়ে আরও বক্তব্য দেন জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব, গণফোরামের সাবেক নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, গণসংহতির প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি প্রমুখ।
ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব বলেন, করোনা মহামারির হাত থেকে এককভাবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বা সরকার বাঁচতে পারবে না। সমগ্র বিশ্বকে সম্মিলিতভাবে বাঁচতে পারবে।
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এই সরকার আমাদের সরকার নয়, আমাদের কাজ করবেও না। এরা পুরো ব্যবসায়ীদের সরকার। এখন এই শাসকদের কাছে নিরাপদ নই, এখন যারা ক্ষমতা চালাচ্ছে, তাদের কাছে আমরা নিরাপদ নই।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত কিটের সরকারি অনুমোদন না দেওয়ারও সমালোচনা করে মান্না বলেন,সরকারের পলিসি হচ্ছে, চরে খাও, বাঁচলে বাঁচো, মরলে মরো।
গণসংহতির প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি ভিডিওতে যুক্ত হয়ে অভিযোগ করেন, সরকার একলা চলো নীতিতে চলেছে।
সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন গণফোরামের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আকবর খান ও মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খান।

