ইউনাইটেড হাসপাতালের শীর্ষ কর্তাদের দেশত্যাগে ‘নিষেধাজ্ঞা’
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার ১৭ জুন ২০২০ । ২০:৫০
রাজধানীর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় ঢাকার ওই বেসরকারি ‘ব্যয়বহুল’ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় নিহত এক রোগীর স্বজন ইউনাইটেড হাসপাতালের চেয়ারম্যান, এমডি, সিইও, পরিচালক, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক-নার্স ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত ও তাচ্ছিল্যপূর্ণ কাজের কারণে রোগীদের মৃত্যুর অভিযোগ এনে গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা তদন্তের অগ্রগতি জানতে চাইলে পুলিশের গুলশান জোনের জ্যেষ্ঠ সহকারী উপ-কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বুধবার (১৭ জুন) বলেন, তদন্ত করছি। এতদিন আগুনের ঘটনায় একটি তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে আদালতে জমা দিয়েছি। এখন অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর অভিযোগে যে মামলা সেটার তদন্ত করব।
অপর এক প্রশ্নে তিনি বলেন, অভিযোগকারী তো অনেকের পদ উল্লেখ করেছেন, সবাইতো অপরাধী নয়। তদন্ত করে আরও নিশ্চিত হতে হবে যে, ওই ঘটনার জন্য আসলে কে দায়ী? তদন্তে যার-ই অপরাধ পাওয়া যাবে তাকেই গ্রেপ্তার করা হবে জানিয়ে পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী। একইসঙ্গে তিনি বলেন, প্রভাবশালী বলে কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না। অপরাধ ও দায়িত্বে অবহেলা করলে আইনের মুখোমুখি হতে হবে।
কার কার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম বলেন, ইউনাইটেড হাসপাতালের শীর্ষ পর্যায়ের ৫-৬ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাস রোগীদের জন্য হাসপাতাল ভবনের সামনে তাঁবু টাঙিয়ে অস্থায়ী একটি ইউনিট করেছিল ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ। গত ২৭ মে রাত পৌনে ১০টার দিকে ওই আইসোলেশন ইউনিটে আগুন লেগে ভারনন এ্যান্থনী (৭৪), মো. মাহবুব (৫০), মো. মনির হোসেন (৭৫), খোদেজা বেগম (৭০) ও রিয়াজ উল আলম (৪৫) নামে পাঁচজন মারা যান। এদের মধ্যে তিনজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। ওই ঘটনায় ভারনন এ্যান্থনীর জামাতা রোনাল্ড মিকি গোমেজ ৩ জুন গুলশান থানায় ওই মামলাটি দায়ের করেন।

