নীলফামারী ইপিজেডে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ
উত্তরদক্ষিণ । শনিবার ২৭ জুন ২০২০ । আপডেট : ২২:১৪
নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে একটি কারখানার শ্রমিকরা। এভারগ্রীন প্রোডাক্ট ফ্যাক্টরি বিডি লিমিটেড নামের ওই কোম্পানীর বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টা থেকে বিক্ষোভে শুরু করে। কোম্পানীটি পরচুলা তৈরী করে রপ্তানির ব্যবসা করে।
পুলিশ জানায়, ৩ ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ চলাকালে পাঁচটি কাভার্ডভ্যান, ১০টি মোটরসাইকেল ও কোম্পানির বিভিন্ন কাগজপত্রসহ কম্পিউটারে অগ্নিসংযোগ করে শ্রমিকরা। এই সময় উত্তরা ইপিজেড, নীলফামারী ও সৈয়দপুর দমকল বাহিনীসহ তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে বেলা ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরে নীলফামারীর জেলা প্রশাসনের আশ্বাসে শান্ত হয়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ফিরে যায়।

শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেপজার বিধি লঙ্ঘন করে বিভিন্ন সময়ে শ্রমিক ছাঁটাই এবং দক্ষ শ্রমিকদের ছাঁটাই করে কম বেতনের নতুন শ্রমিক নিয়োগ দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া ওভারটাইম করে শ্রমিকরা সঠিক মজুরি থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, ক্রমাগত শ্রমিক ছাঁটাইয়ের কারণে কারখানায় শ্রমিক সংখ্যা ১৭ হাজার থেকে কমে এখন ৭ হাআজারে দাঁড়িয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
সম্প্রতি করোনা পরিস্থিতির স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সাবান বাবদ কোম্পানী প্রত্যেক শ্রমিকের মাস শেষে বেতন থেকে এক হাজার টাকা করে কেটে নেয়। এটা নিয়েও শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
শ্রমিকদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওই কারখানার কোনও কর্মকর্তা কথা বলতে সম্মত হননি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবিএম আতিকুর রহমান বলেন, ‘এই অসন্তোষ যাতে অন্য কোথাও ছড়িয়ে না পড়ে সেই জন্য আমারা আপ্রাণ চেষ্টা করেছি এবং শ্রমিকদের বুঝিয়ে শুনিয়ে আমরা ফেরত পাঠাতে সক্ষম হয়েছি।’
এই বিষয়ে উত্তরা ইপিজেডের মহাব্যবস্থাপক মো. এনামুল হক বলেন, ‘শ্রমিকদের দাবির বিষয়গুলো মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করা হবে।
নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। মালিক পক্ষ আশ্বাস দিয়েছেন শ্রমিকদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন করবেন।’

