প্রতারণায় শিকার পরিবারও, সাহেদের বিচার চান স্ত্রী!
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২০ । আপডেট ২১:০০
প্রতারণার সব কৌশলই রপ্ত করেছেন রিজেন্ট গ্রুপ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম। নিজের পরিবারের সঙ্গে করেছেন প্রতারণা। প্রতারিত স্ত্রীর মুখে উঠে এসেছে স্বামী সাহেদের অজানা নানা অপকর্মের তথ্য। পাশাপাশি স্ত্রী সাদিয়া প্রতারক স্বামী সাহেদের বিচারও দাবি করেছেন।
আর বাসাভাড়ার টাকাও ঠিক মতো পরিশোধ করতেন না সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতা পরিচয় দানকারী সাহেদ। বাড়ির মালিক জানান, ভাড়া চাইতে গেলেও দেয়া হতো হুমকি।
এদিকে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সাহেদের সহযোগীসহ দু’জনকে আটক করেছে র্যাব। আর সাহেদকে ধরনে হন্নে হয়ে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা। সাহেদের সব ব্যাংক হিসাব জব্ধ করা হয়েছে। জারি করা হয়েছে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা। অবশ্য তিনি এখন দেশে আছেন কিনা তাও নিশ্চিত নন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ গোয়েন্দারা। এর আগে তার মালিকানাধীন রিজেন্ট হাসপাতাল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে সরকারের তথা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোনও কর্মকর্তা সাহেদের অপরর্কের সঙ্গে জড়িত কিনা- তাও অনুসন্ধান করা হচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য একাধিক গোয়েন্দ সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র বলছে, প্রায় ২ বছর ধরে সাহেদ পরিবারসহ থাকতেন ওল্ড ডিওএইচএসের ৯ নম্বর বাসায়। ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে বাসাটি ভাড়া নিলেও অল্প কয়েকদিনেই বেরিয়ে আসে তার আসল রূপ। তার প্রতারণার কথা জানতে পেরে বেশ কয়েকবার তাকে নোটিশ দেয় বাসার মালিক। তিনি জানান, টাকা চাইতে গেলেই দেওয়া হতো হুমকি। টাকার সুটকেস নিয়ে ঘুরতেন তিনি।
স্ত্রী সাদিয়া বলেন, সাহেদের প্রতারণার শুরু ২০০৮ থেকে। পরিবারের লোকদের সাথেও প্রতারণা করতো সে। এটা তার নেশায় পরিণত হয়েছে। সাদিয়া বলেন, ‘কয়েকবার আমি তার কাছ থেকে বাবার বাড়ি চলে গেছি। আমার পরিবারের কয়েকজনের সাথেও তার টাকা পয়সা নিয়ে গণ্ডগোল ছিলো। ওনার জন্য আমার পরিবারের অন্যরাও সমস্যায় আছে।’ এই প্রতারকের উপযুক্ত বিচারও দাবি করেন স্ত্রী সাদিয়া।

