বনানীতে মায়ের কবরে সমাহিত হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন
উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০। আপডেট ১২:১০
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও বাংলাদেশের প্রথম নারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাজধানীর বনানী কবরস্থানে মায়ের কবরে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে শনিবার (১১ জুলাই) সকালে প্রথম জানাজা পারিবারিকভাবে ফার্মগেটের বায়তুল শরফ মসজিদে ও পরে ১১টার দিকে বনানী মসজিদ প্রাঙ্গণে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশের প্রথম নারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য
অ্যাডভোকেট
সাহারা খাতুন
বনানীতে দ্বিতীয় নামাজে জানাযা শেষে পর্যায়ক্রমে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরীর পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন সহ সরকার ও দলের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এরপর আওয়ামী লীগের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাডভোকেট রিয়াজুল কবির কাওছার, সাহাবুদ্দিন ফরাজী।

ঢাকার ২ সিটি করপোরেশনের পক্ষে দক্ষিণের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ও উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এছাড়াও আওয়ামী যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, মহিলা লীগ, যুব মহিলা লীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সহ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
জানাজায় স্বাস্থ্যবিধি মানার নিদের্শনা থাকলেও সদ্য প্রয়াত এই নেত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে ফার্মগেট ও বনানীতে আত্মীয়-স্বজন সহ দলীয় নেতাকর্মীরা ব্যাপক ভাবে হাজির হন।
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন গত বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) রাতে থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মরদেহ নিয়ে শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত ১টা ৫৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ও সাহারা খাতুনের পরিবারের সদস্যরা বিমান বন্দরে তার মরদেহ গ্রহণ করেন।
এর আগে অসুস্থ সাহারা খাতুনকে গত ৬ জুলাই এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে থাইল্যান্ডে নেয়া হয়। এর আগে জ্বর, অ্যালার্জিসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে অসুস্থ অবস্থায় গত ২ জুন সাহারা খাতুন ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হন।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাহারা খাতুন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০০৯ সালের আওয়ামী লীগ সরকারে ৩ বছরের বেশি সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে তাকে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
তৃণমূল থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম করে জাতীয় রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত সাহারা খাতুন ব্যক্তিগত জীবনে চিরকুমারী ছিলেন।
তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।
তিনি অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, গুণগ্রাহী ও রাজনৈতিক সহকর্মী রেখে গেছেন।

