ইউনাইটেডে অগুনে মৃত: ক্ষতিপূরণের আদেশ চেম্বারে স্থগিত
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২০ । আপডেট: ১৬:১০
ইউনাইটেড হাসপাতালে আগুন লেগে কোভিড-১৯ ইউনিটের ৫ রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪ পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা করে দিতে হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছিল, তা স্থগিত করেছে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের করা আবেদনে সাড়া দিয়ে চেম্বার বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এই আদেশ দেন।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ইউনাইটেডের আবেদনটি আগামী ১৬ অগাস্ট আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য রেখে সে পর্যন্ত হাইকোর্টের আদেশটির কার্যকারিতা স্থগিত করেছে চেম্বার আদালত। চেম্বার আদালতে ইউনাইটেডের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও মোস্তাফিজুর রহমান খান। রিটকারী পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট এএম আমিন উদ্দিন, অনীক আর হক, হাসান এমএস আজিম, মুনতাসির আহমেদ।
ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সমঝোতায় আসতে না পারায় গত ১৫ জুলাই ক্ষতিগ্রস্ত ৪ পরিবারকে ১৫ দিনের মধ্যে ৩০ লাখ টাকা করে দিতে নির্দেশ দিয়েছিল বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ।
সোমবার সে আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করে ইউনাইটেড হাসাপাতাল কর্তৃপক্ষ। সে বিষয়ে প্রাথমিক শুনানির পর হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করল চেম্বার আদালত।
গত ২৭ মে রাতে গুলশানের বেসরকারি ওই হাসপাতালের প্রাঙ্গণে কোভিড-১৯ রোগীদের জন্য করা আইসোলেশন ইউনিটে আগুন লেগে পাঁচ রোগীর মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে তিনজনের কোভিড-১৯ পজিটিভ ছিল। ওই পাঁচজন হলেন- মো. মাহবুব (৫০), মো. মনির হোসেন (৭৫), ভারনন অ্যান্থনি পল (৭৪), খোদেজা বেগম (৭০) ও রিয়াজ উল আলম (৪৫)।
ওই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও গাফিলতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে কমিটি গঠন এবং নিহতদের পরিবারকে ৫ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে গত ৩০ মে একটি রিট আবেদন করেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী নিয়াজ মুহাম্মদ মাহবুব ও শাহিদা সুলতানা শিলা। এ নিয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ভিন্ন তদন্ত রিপোর্টের পর গত ১৫ জুলাই বিষয়টি হাইকোর্টকে জানানো হলে আদালত ৪ পরিবারকে ১৫ দিনের মধ্যে ৩০ লাখ টাকা করে দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
বিএসএফ-কে সীমান্তে ‘নন-লেথাল’ অস্ত্র ব্যবহার করতে হবে: হিন্দুকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২০ । আপডেট: ১৫:৫০
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে (বিএসএফ) অবশ্যই সতর্ক হতে হবে এবং বাংলাদেশ সীমান্তে নন-লেথাল (প্রাণঘাতী নয় এমন) অস্ত্র ব্যবহার করতে হবে। দেশটির গণমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাত দিয়ে এই সংবাদ প্রকাশ করেছে।
ড. একে আব্দুল মোমেন ঢাকায় দ্য হিন্দু’র সঙ্গে কথা বলেছেন বলে সংবাদে উল্লেখ করা হয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সীমান্তের যে জায়গাগুলোতে প্রাণহানী হয় এবং বাংলাদেশি নাগরিক গুলিবিদ্ধ হয়— সেগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। হতাহতের ঘটনা কমিয়ে আনতে চিহ্নিত জায়গাগুলোতে বিজিবি’র অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার প্রসঙ্গ টেনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিন্দু-কে সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘বিএসএফ সদস্যদের আরও সতর্ক হয়ে সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালন করা উচিত। আমাদের দেশের নাগরিক আইন লঙ্ঘন করলে তাদের গ্রেপ্তার করতে পারে। কিন্তু হত্যা কখনোই সমর্থনযোগ্য না।’
রবিবার (১৯ জুলাই) ইন্ডিয়ার আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জে তিন বাংলাদেশি নাগরিককে পিটিয়ে হত্যার পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী এ কথা বলেন। করিমগঞ্জ থানা পুলিশের দাবি, বাংলাদেশি তিন নাগরিক গরু চুরি করতে ইন্ডিয়ায় গিয়েছিলেন।
এর জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, ‘আমাদের দেশের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত গরু আছে। অন্য কোথাও থেকে গরু আমদানি করার প্রয়োজন নেই। করিমগঞ্জের ঘটনাটির তদন্ত শেষ হয়নি। সীমান্তরক্ষী ও ভারতীয় নাগরিকদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে- তারা দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার বিষয়গুলো ভঙ্গ করবে না।’ হিন্দুর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে গরু চোরাকারবারি রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

