হিলিতে পশুর হাটে ক্রেতা কম, দাম কম, বিক্রেতা বেশি

হিলিতে পশুর হাটে ক্রেতা কম, দাম কম, বিক্রেতা বেশি

মোসলেম উদ্দিন । উত্তরদক্ষিণ
হিলি (দিনাজপুর); মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২০ । আপডেট: ১১:১০

আর মাত্র কয়েক দিন পর কোরবানি ঈদ। ঈদের শেষ মুহুর্তে পশুর হাট জমে উঠেছে দিনাজপুরের হিলিতে। হাটে ক্রেতা কম, বিক্রেতা বেশি। আর গরুর আমদানি বেশি হওয়ায় কম দামে গরু কিনতে পারায় খুশি ক্রেতারা। আবার লোকসান গুনতে হচ্ছে খামারি, গরু ব্যবসায়ী ও গৃহস্থদের।

হিলিতে সপ্তাহে দুইদিন রবিবার ও বৃহস্পতিবার গরুর হাট। রবিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গরুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, গেলো কয়েক হাটে গরুর তেমন কোন আমদানি ছিলো না। কিন্তু রবি সকাল থেকে যত বেলা হচ্ছিলো ততো দেশি-বিদেশি জাতের গরু আমদানি বেড়েছে। তবে গরুর হাটে ছাগলের আমদানি ছিলো চোখে পড়ার মতো। খামারিরাসহ গরু ব্যবসায়ী ও গৃহস্থ্যরা হাটে নিয়ে এসেছে গরু-ছাগল। দুপুরের পর হাটে ক্রেতাদের সমাগম বেশি ছিলো, কিন্তু দর কষাকষিতে ব্যস্ত তারা। প্রতিটি গরু গত বছরের চেয়ে এই বার ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা দাম কম। হাটে খাসির পরিমাণও ছিলো অনেক এবং দামও অনেকটাই নাগালের মধ্যে।

সুলতান মামুদ নামের এক খামারি বলেন, আমি দেশি ৪টি গরু নিয়ে আসছি। সকালে তেমন কেউ দাম করেনি। বিকেলে অনেক ক্রেতা দাম করছে। একটির দাম চেয়েছি – ১ লাখ ৩০ হাজার, আর একটির দাম ১ লাখ ১০ হাজার বাকি দুইটির দাম ১ লাখ টাকা। ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার গরুটি দাম করছে ১লাখ ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা। ১ লাখ টাকার গরুটি দাম বলছে ৮০ হাজার থেকে ৮৫ হাজার টাকা।

গৃহস্থ্য ফরিদুল ইসলাম বলেন, আমার এই দেশি গরু দাম চেয়েছি – ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অনেক যত্নের গরু। খুব আশা আর কষ্ট করে তাকে লালন পালন করেছি। ১ লাখ ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা দাম হলে বিক্রি করবো।

কথা হয় গরু ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের সাথে, তিনি বলেন, বাইরের হাট থেকে এই তিনটি গরু আমি কিনে আনছি। একটি ৪০ হাজার, একটি ৪৭ হাজার ও আর একটি ৫৫ হাজার টাকা দরে। হাটের যে অবস্থা, তাতে যদি ২ থেকে ৩ হাজার টাকা প্রতিটি গরু থেকে লাভ আসে তাহলে ছেড়ে দিবো।
তিনি আরও বলেন, আগে প্রতি ঈদে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা লাভ করে বাড়ি ফিরতাম। কিন্তু এই বছর কোনই লাভ করতে পারিনি।

বড় বড় দুইটি খাসি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সুজন মিয়া। তার সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, দুইটি খাসির দাম ৩২ হাজার টাকা চাচ্ছি, একটি ১৭ হাজার আর একটি ১৫ হাজার টাকা। অনেকেই ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা দাম বলছে।

হাসান বুশারী নামের একজন ক্রেতা গরু ক্রয় করে দড়ি হাতে নিয়ে হাসতে হাসতে যাচ্ছে। তার সাথে কথা হয়, তিনি বলেন, সারাদিন ঘুরে ঘুরে মনের মতো একটা কোরবানির গরু কিনতে পারলাম। ৮৫ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছি এই গরু। আশা করছি চার থেকে সাড়ে চার মণ মাংস হবে।

কথা হয় খাসি কিনতে আসা একজন ক্রেতার সাথে তিনি বলেন, ১৩ হাজার টাকা দিয়ে খাসি কিনলাম। তবে আশা করেছিলাম এই রকম খাসি কিনতে প্রায় ২০ হাজার টাক লাগবে। কম দামে ভাল একটা কোরবানির খাসি কিনতে পেরেছি।

হিলির খাসমহল হাট-বাজারের সাধারণ সম্পাদক আরমান আলী প্রধান জানান, হাটে গরু-ছাগলের অনেক আমদানি হয়েছে। এইবার মানুষ কম দামে ভাল ভাল কোরবানির পশু কিনতে পারছে। প্রতি বছরের মতো এইবারও আমরা হাটে সব কিছুর ব্যবস্থা করেছি। ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা রেখেছি। প্রতিটি গরু ৪০০ টাকা ও ছাগল ২০০ টাকা খাজনা নেওয়া হচ্ছে। এই হাটে কোন পকেটমার বা চাঁদাবাজির স্থান নেই।

হাকিমপুর উপজেলা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুস সামাদ জানান, গরু হাটে আমরা দুইটি ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রাখছি। একটি টিমে ভেটেরিনারি সার্জনসহ চারজন করে কর্মকর্তা, কর্মচারী রয়েছে। তারা প্রতিনিয়ত গরু-ছাগল পরীক্ষা করছেন। হাটে পশুর যেকোন সমস্যা বা গরু-ছাগল গর্ভবতী কি না তা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

হাকিমপুর পৌর মেয়র জামিল হোসেন চলন্ত জানান, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সরকারী সকল নির্দেশনা মেনে গরু-ছাগল হাটে ক্রয়-বিক্রয় করতে হবে। সবাইকে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে হবে।

তিনি আরও জানান, আমরা হাটে শান্তিপুর্ণভাবে ক্রেতা-বিক্রেতাদের কেনাকাটার ব্যবস্থা করছি। মাইকে বার বার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য বলা হচ্ছে। গরু হাটটি নজরদারিতে রেখেছি।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading