পেঁয়াজের সেঞ্চুরি
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০। আপডেট ১৯:৩০
ইন্ডিয়া পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করেদিয়েছে। বাংলাদেশে চলতি মওসুমে আর ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ আমদানির বিষয়টি অনিশ্চিত। এমন তথ্য ও সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশের পর এক লাফে দেশের বাজারে পেঁয়াজের মূল্য সেঞ্চুরি করেছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ইন্ডিয়া বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। ওইদিন সন্ধ্যার পর এখন দেশের সব সংবাদ মাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ পায়। এরপর সোমবার রাতে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে গিয়ে দেখা যায়, পেঁয়াজের বাজার গরম। প্রতিপাল্লা (৫ কেজি) পেঁয়াজ ৩০০ থেকে সাড়ে ৩শ টাকায় তখন বিক্রি হচ্ছিল। রাতে বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা ক্রেতারা প্রত্যেকে ৫ থেকে ১০ এমনি ৫০ কেজি পর্যন্ত পেঁয়াজ কিনে নিচ্ছেন। আর খুচরা বিক্রেতা (রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ী) বাড়তি পেঁয়াজের বস্তা নিয়ে নিচ্ছেন। এদিকে, রাত পার হতে না হতেই মঙ্গলবার সেই পেঁয়াজ একশ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে বিক্রি হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে রাজধানীসহ সারাদেশে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গতবছরের মতো লাগামহীন হয়ে উঠতে শুরু করেছে পেঁয়াজের বাজার। রাতারাতি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। দাম আরও বাড়ার শঙ্কায় মানুষও প্রয়োজনের অতিরিক্ত পেঁয়াজ কিনতে শুরু করেছেন।
সোমবার প্রতিবেশি দেশটির পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের খবর প্রকাশিত হলে রাত থেকেই রাজধানীর কোথাও কোথাও এই প্রয়োজনীয় পণ্যটির দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। আর মঙ্গলবার ভোর থেকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকার পাইকারি বাজারগুলোতেও কয়েক দফায় সব ধরনের পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হয় বলে খুচরা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, একদিনের ব্যবধানেই প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজের দাম ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৯০ থেকে ১০০ টাকা হয়ে গেছে। আর ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি।
গতবছরের সেপ্টেম্বরেও ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিলে বাংলাদেশে পণ্যটির দাম বাড় বাড়তে প্রতি কেজি ৩০০ টাকায় উঠে যায়। পরে বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বাজার সহনীয় হতে হতে এ বছরের মার্চ পর্যন্ত লেগে যায়।
সোমবার আবারও ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য অধিদপ্তর পেঁয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধের ঘোষণা দিলে সীমান্তে বাংলাদেশ অভিমুখী পেঁয়াজের ট্রাক আটকে দেন দেশটির ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, প্রতি মেট্রিক টন ২৫০ ডলারের এলসির এই পেঁয়াজ এখন বর্ধিত মূল্য ৭৫০ ডলারে এলসি করলেই সেগুলো ছাড়া হবে। এরপর থেকেই বাংলাদেশে দেশি-বিদেশি পেঁয়াজের দাম চড়তে শুরু করে। মঙ্গলবার রাজধানীর শান্তিনগর, মালিবাগ, শাহজাহানপুর, রামপুরা, বাড্ডা বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এর সত্যতাও মিলেছে।
খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, হঠাৎ দাম দ্বিগুণ হওয়ার পরও কোনো কোনো ক্রেতা ১০ কেজি থেকে ৫০ কেজি পর্যন্ত পেঁয়াজ কিনে নিচ্ছেন। এতে করে দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। এভাবে দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে পাইকারি ব্যবসায়ীরা নিজেদের দায় এড়িয়ে গ্রাম-গঞ্জ থেকে যারা দেশি পেঁয়াজ সংগ্রহ করে আড়তে নিয়ে আসেন, তাদের ওপর দোষ চাপিয়েছেন।
মালিবাগ বাজারের গাজী স্টোরের বিক্রেতা মো. রুবেল জানান, সোমবার তারা প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৬৫ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৫০ টাকায় বিক্রি করেছেন। মঙ্গলবার সকালে পেঁয়াজ আনতে গিয়ে দেখি পাইকারি দামই দেশি পেঁয়াজ ৮৫ টাকা কেজি এবং ভারতীয়টা ৭০ টাকা কেজি হয়েছে। পরে মাত্র ২০ কেজি নিয়ে চলে এসেছি।
গাজী স্টোর থেকেই ৯০ টাকা দরে ৭ কেজি পেঁয়াজ কিনেছেন স্থানীয় বাসিন্দা হারুন অর রশিদ। এক সাথে ৭ কেজি পেঁয়াজ কেনার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের কারণেই পেঁয়াজের দাম হঠাৎ করে বাড়ছে। খবরে দেখলাম সীমান্তে শত শত ট্রাক ভর্তি পেঁয়াজ আটকে দিয়েছে ভারত। তারা পেঁয়াজের রপ্তানি বন্ধ করেছে। এই কারণে দাম আরও বাড়বে বলে মনে হচ্ছে। গত বছর পেঁয়াজের দাম ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা কেজি পেঁয়াজ কিনতে হয়েছে স্মরণ করে তিনি বলেন, এবারও দাম বাড়বে বলে মনে করে আগে থেকেই কিছু পেঁয়াজ কিনে রাখলাম।
দোকানী রুবেল বলেন, একজন ক্রেতা সকালে ৬০ টাকা দরে ১৫ কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ কিনেছেন। তিনি বলেন, গতকাল দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা কেজি। আজ যেহেতু দাম ৫০ শতাংশ বেড়েছে। তাই কাস্টমারের তার প্রয়োজনের অর্ধেক নেওয়া উচিত ছিল। তাহলে বাজারে দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকত। কিন্তু কাস্টমারদের কেউ কেউ ১০ থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত কিনে ঘরে মজুদ করছে।

