দেশে ফেরেননি প্রশান্ত কুমার, ব্যবস্থা নেবে দুদক
উত্তরদক্ষিণ | রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০ | আপডেট: ১৯:২৮
হাইকোর্টের আদেশের পরও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিসেস লিমিটেডের (আইএলএফএসএল) অর্থপাচারের ঘটনায় এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার (পিকে হালদার) দেশে ফেরেননি। তাই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
খুরশীদ আলম খান জানান, পিকে হালদার হাইকোর্টকে জানিয়েছিলেন যে, তিনি রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুবাই থেকে অ্যামিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা আসার জন্য টিকিট কেটেছেন। বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টার ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার অবতরণ করার কথা ছিল। কিন্তু তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দেশে ফেরেননি।
দুদকের এই আইনজীবী আরও জানান, হাইকোর্টের আদেশের পরও দেশে না ফেরার ঘটনা আদালত অবমাননার সামিল। তাই বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনা হবে। আমরা দুদক টিমও প্রস্তুত রয়েছি। তবে ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাকে গ্রেফতার করতে আইজির কাছে অনুরোধ জানাবো।
এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের একই বেঞ্চে এ সংক্রান্ত আরেকটি আবেদন করেছিল আইএলএফএসএল। সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত জানিয়েছিলেন, পিকে হালদার কবে, কখন, কীভাবে দেশে ফিরতে চান, তা আইএলএফএসএল লিখিতভাবে জানালে সে বিষয়ে পরবর্তী আদেশ দেবেন আদালত।
এরপর পিকে হালদারের দেশে ফেরার বিষয়টি গত ২০ অক্টোবর হাইকোর্টকে জানানো হয়। পিকে হালদারের প্রতিষ্ঠান আইএলএফএসএল’র পক্ষ থেকে হাইকোর্টকে জানানো হয়, আগামী ২৫ অক্টোবর দুবাই থেকে অ্যামিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা আসার জন্য টিকিট কেটেছেন তিনি। বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে।
সার্বিক দিক বিবেচনার পর প্রশান্ত কুমার (পিকে হালদার) হালদারকে দেশে ফেরার অনুমতি দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে পিকে হালদার দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেফতার করতে পুলিশের আইজি এবং ইমিগ্রেশন পুলিশকে নির্দেশ দেন আদালত। পাশাপাশি কারাগারে থাকাবস্থায় পিকে হালদার যেন অর্থ পরিশোধের সুযোগ পান, সে বিষয়ে সুযোগ দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
প্রসঙ্গত, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে ১৫শ’ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে পিকে হালদারের বিরুদ্ধে। এছাড়াও সব মিলিয়ে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একের পর এক সংবাদ প্রকাশিত হয়। এসময় গোপনে কানাডায় পাড়ি জমান তিনি। এরপর দীর্ঘদিন সেখানে অবস্থান শেষে পিকে হালদার দেশে ফিরতে চান এবং এজন্য তার নিরাপত্তা চেয়ে হাইকোর্টে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং একটি আবেদন জানায়। সে আবেদনে বলা হয়, পিকে হালদার দেশে ফিরতে চান। এজন্য তিনি নিরাপত্তা চান। বিনিয়োগকারীদের অর্থ পরিশোধ করতেই তার এই উদ্যোগ বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

