বেসরকারি হাসপাতালে সেবার ‘ফি’ নির্ধারণ করবে সরকার

বেসরকারি হাসপাতালে সেবার ‘ফি’ নির্ধারণ করবে সরকার

উত্তরদক্ষিণ | বুধবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ১৮:৩০

বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবায় শৃঙ্খলা আনতে হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াও বিভিন্ন সেবার ‘ফি’ নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি সেবার মান ও সুযোগ সুবিধা অনুযায়ী দেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলোর ‘ক্যাটাগরিও’ নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ক্লিনিকগুলোর সেবা নিয়ে বুধবার (১৮ নভেম্বর) সচিবালয়ে এক পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আগামীতে প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিকের যেসব চার্জ হবে এবং উনারা সেবা দেবেন, সেই সেবার মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। সেটা উনাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে করা হবে।

“যে চার্জ নির্ধারণ করে দেওয়া হবে সেগুলো ডিসপ্লে করতে হবে। সেখানে থাকবে এই ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এই সেবা দেওয়া হয়, এই সেবার মূল্য এই। যেটা তারা একটা বোর্ডে দিয়ে দেবেন, যেটা সরকারি হাসপাতালে আছে।”

বেসরকারি হাসপাতালগুলোর ক্যাটাগরি নির্ধারণ করা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন হাসপাতালের মানও আলাদা, কোনো বড় হাসপাতাল বা ক্লিনিকে হয়ত অনেক অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। তাই ক্যাটাগরি নির্ধারণ করে দেওয়া হবে এবং তাতে হাসপাতালগুলোও ‘রাজি আছে’।

চিকিৎসা কেন্দ্রে সেবার মান কীভাবে বাড়ানো যায়, সেটাই এ সভার মূল্য উদ্দেশ্য ছিল জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “জনগণ যাতে প্রতারিত না হয়। জনগণ যাতে সঠিক মূল্যে চিকিৎসা পায়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা সঠিক মূল্যে করতে পারে। আমরা কমিটি গঠন করে দেব। কমিটি আস্তে আস্তে তাদেরকে নিয়ে এই কাজগুলো করে সুন্দর একটি সমাধান দেবে।”

সামনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে গেলে সেবা দেওয়ার জন্য বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোকে প্রস্তুতি নেওয়ার কথাও স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন।

করোনাভাইরাস মহামারী শুরুর পর দেশে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ইতোমধ্যে ৪ লাখ ৩৮ হাজার পেরিয়ে গেছে, মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ২৭৫ জনের।
মাঝে কিছুদিন দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দেড় থেকে দুই হাজারের মধ্যে থাকলেও গত তিন দিন ধরে আবার এই সংখ্যা দুই হাজারের বেশি থাকছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ সংক্রমণ বাড়তে থাকায় এবং শীতের আগে আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসায় বাংলাদেশেও সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ আসতে পারে বলে সতর্ক করে আসছিলেন বিশেষজ্ঞরা। খোদ প্রধানমন্ত্রীও সেজন্য প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন স্বাস্থ্য বিভাগকে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “গতকাল আমরা দেখলাম, মৃত্যুর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি যাতে আমাদের আওতার বাইরে চলে না যায়, সেজন্য আমি জনগণের কাছে আহ্বান জানাব, তারা যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন, মাস্ক পরেন। আমি দেখলাম, স্টেডিয়ামে হাজার হাজার মানুষ খেলা দেখছে। আমি মনে করি এখনও সময় হয়নি, এটি সংক্রমণ বৃদ্ধি করবে।”

পর্যালোচনা সভায় বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রের লাইসেন্স নিয়েও কথা হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা বলেছি, স্বাস্থ্যসেবার মান আরও বাড়াতে হবে। যাদের লাইসেন্স নবায়ন করা নেই, তাদের তা নবায়ন করতে হবে, বিশেষ করে হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের।

“যদি লাইসেন্স নবায়ন না থাকে, সরকারের নিয়ম-নীতির ভায়োলেশন থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উনারা অনেকে কিছুতে আমাদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে একমত হয়েছেন।”

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে অনুমোদন এবং যথাযথ সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই দেশের ১১ হাজার ৯৪০টি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনেস্টিক সেন্টার চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

এর মধ্যে ২ হাজার ৯১৬টি হাসপাতাল ও ক্লিনিক লাইসেন্সের জন্য কোনো আবেদনই করেনি। ৯ হাজার ২৪টি হাসপাতাল-ক্লিনিকের মধ্যে কোনো কোনোটি লাইসেন্সের জন্য আবেদন করে চিকিৎসা দেওয়া শুরু করলেও এখনও অনুমোদন পায়নি। আবার কোনো কোনোটির লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, সেই অর্থে সেগুলোও অবৈধ।

একটি ক্লিনিক, হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কী ধরনের যন্ত্রপাতি, জায়গা ও জনবল অবশ্যই থাকতে হবে, সে বিষয়গুলোও নির্ধারণ করে দেওয়া হবে জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, এ বিষয়েও বেসরকারি হাসপাতলগুলোর কর্তৃপক্ষ একমত হয়েছে।

“উনারা (বেসরকারি হাসপাতালের মালিকরা) একটা দাবি করেছেন যে, হাসপাতাল থেকে যে বর্জ্য সৃষ্টি হয়, সেটা ট্রিটমেন্ট করার একটা ব্যবস্থা করা। এ বিষয়ে আমরা দেখব কীভাবে সাহায্য করতে পারি।”

একজন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের কারণে মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে চিকিৎসক ও নার্সদের কর্মবিরতি নিয়ে এক প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, “যে কোনো বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে। যে ঘটনাগুলো ঘটেছে তা তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের পর এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading