নবজাতক কন্যা সন্তানকে জঙ্গলে ফেলে দিলো মা!
উত্তরদক্ষিণ | শনিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ১৫:৪৬
নারায়ণগঞ্জের বন্দরের ফরাজীকান্দা বড় মসজিদ সংলগ্ন খালপাড় এলাকায় নবজাতক কন্যা সন্তানকে জঙ্গলে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রিক্তা বেগম (৩০) নামে এক নারীর বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (২০ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় জন্ম হয় শিশুটির। ফেলে দেওয়ার দুই ঘণ্টা পর নবজাতকটিকে উদ্ধার করা গেলেও শেষপর্যন্ত বাঁচানো যায়নি। এদিকে স্ত্রীর এমন কাণ্ডে হতভম্ব স্বামী লাল মিয়া। শুক্রবার রাতেই নিহত নবজাতকটির বাবা লাল মিয়া বাদী হয়ে স্ত্রীর বিরুদ্ধে বন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এদিকে রাতেই রিক্তা বেগম নামে ওই নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জিয়াউর রহমান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার রিক্তা বেগম জামালপুর পূর্বকান্দি এলাকার মৃত রফিকুল ইসলামের মেয়ে ও একই এলাকার লাল মিয়ার স্ত্রী। সে বন্দরে একটি গার্মেন্টসে পোশাক শ্রমিক হিসেবে কর্মরত। তাদের রিয়াদ নামে ৭ বছরের ছেলে সন্তানও আছে। লাল মিয়ার দাবি আর্থিকভাবে তিনি দুর্বল হলেও নিজের সন্তানকে লালন পালনের জন্য আরও কষ্ট করতেও রাজি ছিলেন তিনি।
মামলার বাদী নিহত নবজাতকের বাবা লাল মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি জানি না আমার স্ত্রী এ কাণ্ড কেন ঘটিয়েছে। আমি তখন কাজে। আমার বাড়িওয়ালা আমারে ফোন দিয়ে বলল তোমার বাচ্চারে মাইরা ফেলছে। আমি মিল থেকে ছুটি নিয়া বাড়িতে এসে শুনি এ খবর। ওর তো মানসিক কোনো সমস্যা ছিলো না। কিন্তু এ কান্ড কেন ঘটাইলো জিজ্ঞাস করলেই খালি বলে তুমি যাও গা, বাইরে যাও গা। আর কিছুই বলে না।”
রিক্তা বেগম বলেন, “বাচ্চাটা প্রসবের পর দেখি মাইয়া। পরে আমি এটারে পরিষ্কার কইরা বাড়ির পাশেই জঙ্গলে ফেলে দিয়া আসি। ফেলে দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে রিক্ত বেগম কান্না জর্জরিত কণ্ঠে বলেন, আমি ভয় পাইয়া গেছিলাম। তাই ফালায় দিছিলাম। আমারে কেউ কিছু কয় নাই। আমার স্বামীও কয় নাই এ কাজ করতে।”
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, পেশায় শ্রমিক লাল মিয়া নারায়ণগঞ্জে একটি আটার মিলে স্বল্প বেতনে কাজ করেন। প্রায় ১০-১২ বছর আগে একই এলাকার রফিকুল ইসলামের মেয়ে রিক্তা বেগমের সাথে তার বিয়ের পর প্রথম সন্তান জন্ম হয়। এরপর দ্বিতীয় সন্তান হওয়ায় জন্মের কিছুক্ষণ পরই সবার অগোচরে বাড়ির পাশের পুকুরের জঙ্গলে ফেলে দেয় সে।
পরে বেলা ১২টার দিকে পুকুরপাড়ে জঙ্গলে কান্নার শব্দ শুনে সজিব নামে এক স্থানীয় যুবক মূমুর্ষ অবস্থায় নবজাতকটিকে উদ্ধার করে বন্দর থানায় হস্তান্তর করে। অসুস্থ অবস্থায় প্রথমে একটি স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরই মধ্যে ফরাজীকান্দায় অভিযান চালিয়ে তার বাবা-মাকে খুঁজে বের করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত নবজাতকের বাবা স্ত্রীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে মামলা করেন।
বন্দর থানার এসআই মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “ঘটনার পর পরই নবজাতকের বাবা-মাকে খুঁজে বের করে থানায় নিয়ে আসা হয়। এরপর নবজাতককে বাবা মার কাছে দিয়ে দেই। এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করলে নবজাতকের মায়ের কথাবার্তায় সন্দেহজনক মনে হলে তাকে আটক করা হয়। ইতিমধ্যেই সে নিজের সন্তানকে ফেলে দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।”
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফখরুদ্দীন ভূঁইয়া জানান, কেন কী কারণে ওই নারী এ কাজ করেছে তা এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। আসামিকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। -ঢাকা ট্রিবিউন

