শান্তির দূত আবি যুদ্ধে জড়ালেন
উত্তরদক্ষিণ | সোমবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ১১:৩৯
২০১৮ সালে আবি আহমেদ ইথিওপিয়ার ক্ষমতায় আসার পর প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সঙ্গে দুই দশক ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটে তার হাত ধরে। ফলে ক্ষমতায় আসার মাত্র এক বছরের মাথায় গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পান ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ। পুরষ্কার গ্রহণের পর যুদ্ধের বিরোধিতা করে তিনি বলেন,‘যুদ্ধ মানুষকে আগ্রাসী বানায়। মানুষ নিষ্ঠুর, বর্বর হয়।’ সেই বক্তব্যের এক বছর না যেতেই আবি আহমেদ নিজ দেশের মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছেন।
বিবিসির বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আবি আহমেদের বাহিনী দেশটির উত্তরাঞ্চল তাইগ্রের ক্ষমতাসীন দল তাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (টিপিএলএফ) বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এতে হাজার হাজার মানুষ হতাহত হওয়ার খবর দিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। যুদ্ধ থেকে বাঁচতে হাজারো মানুষ নিজেদের বাড়িঘর থেকে পালিয়ে সুদানের সীমান্তে আশ্রয় নিয়েছে শরণার্থী হিসেবে।
টিপিএলএফের বিরুদ্ধে আবি সরকারের অভিযোগ, তারা কেন্দ্রীয় সেনাবাহিনীর ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।
টিপিএলএফের উত্থান ১৯৯১ সালে গেরিলা আন্দোলনের মাধ্যমে। পরে তারা দেশ চালানোর ক্ষমতা পায়। কিন্তু ২০১৮ সালে আবির কাছে ক্ষমতা হারায় দলটি। এখন অবশিষ্ট একমাত্র ঘাঁটি তাইগ্রেও হারাতে বসেছে তারা। ব্যাপক জনসমর্থন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়া আবি ২৫ বছরের বেশি সময়ের টিপিএলএফের শাসনামলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দা ও দুর্নীতি দমন করতে ব্যাপক সংস্কারকাজ শুরু করেন। আফ্রিকার দেশটির রাজনৈতিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন হতে শুরু করে তার হাত ধরে।
তাইগ্রেতে সামরিক অভিযান শুরুর পর গত ৪ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ টিপিএলএফ বাহিনীকে (জান্তা) গুঁড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। তার ওই আহ্বান ইথিওপিয়ার সব নাগরিকের দেশপ্রেমের কর্তব্য বলে প্রচার করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তারা তাদের ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অভিযানের’ সমালোচনাকে কোনো রকম সহ্য করছেন না।
এমনকি আবির যুদ্ধংদেহী আচরণের বিরোধিতা করার জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য আবিকে মনোনীত করা ব্রিটেনের শিক্ষাবিদকেও সমালোচনা করা হচ্ছে।
ওই শিক্ষকের নাম আওল আলো। তিনি ইংল্যান্ডের কেলে ইউনিভার্সিটির আইনের অধ্যাপক। বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়ে আমি অবগত নই। তবে এখন ইথিওপিয়ায় ফিরে যাওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ভিন্নমত ও বিরোধীদের বিষয়ে আবি সরকার ও আগের সরকারের মধ্যে কোনো পাথর্ক্য নেই। এটা উদ্বেগের।’
জেনেভাভিত্তিক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, ‘দেশের জন্য আমার হৃদয় ভেঙে খান খান। সব দলকে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি তাদের কাছে স্বাস্থ্য ও মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
ইথিওপিয়া সরকারের সামরিক অভিযানকে সমর্থন করছেন অনেকে। তাদের একজন দেশটির ইউনিভার্সিটি অব গনদারের অধ্যাপক মেনচেলে মেসেরেত। তিনি বলেন, তাইগ্রের সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হচ্ছে না। শুধু অভিযান চালানো হচ্ছে টিপিএলএফের গুটি কয়েক অভিজাত ব্যক্তির সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যোগাযোগ রয়েছে এমন লোকদের বিরুদ্ধে।

