বাংলাদেশ অক্সফোর্ডের টিকা আমদানি-ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে
উত্তরদক্ষিণ | মঙ্গলবার, ০৫ জানুয়ারী, ২০২১ | আপডেট: ০৮:৪১
বাংলাদেশের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ইন্ডিয়ার সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রেজেনেকার করোনাভাইরাসের টিকা আমদানি ও জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে ।
এই প্রথম করোনাভাইরাসের কোনো টিকা বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পেল। এখন ইন্ডিয়া থেকে টিকার চালান পেলেই বড় আকারে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে পারবে সরকার।
সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রেজেনেকার টিকার তিন কোটি ডোজ কিনতে দুই মাস আগেই চুক্তি করেছিল বাংলাদেশ। এই তিন কোটি ডোজ নাগরিকদের বিনামূল্যে দেওয়া হবে বলে ইতোমধ্যে সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আইয়ুব হোসেন সোমবার (৪ জানুয়ারি) বলেন, “আমরা এই টিকা আমদানির জন্য একটা এনওসি দিয়েছি। এখন বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডিয়ার সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি টিকা আমদানি করতে পারবে। এখন এই টিকা আমদানিতে আর কোনো বাধা নাই।”
কোভিশিল্ড নামে এই টিকার উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গ যুক্ত রয়েছে সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া। তাদের সঙ্গে সরকারের করা চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি মাসে টিকার ৫০ লাখ ডোজ পাওয়ার কথা বাংলাদেশের।
ওই তিন কোটি ডোজ টিকার জন্য অগ্রিম হিসেবে ৬০০ কোটি টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়াও ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন।
বাংলাদেশে সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত ভ্যাকসিনের ‘এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটর’বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশে এই টিকা অনুমোদন পাওয়ার এক মাসের মধ্যে সেরাম ইনস্টিটিউটের টিকার প্রথম চালান পাঠানোর কথা।
টিকা আমদানির অনুমতির জন্য প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র৩১ ডিসেম্বর ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে জমা দিয়েছিল বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। এরপর সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন চাওয়া হয়।
জরুরি ব্যবহারের জন্য এই টিকা আমদানির অনুমোদন চাওয়া হয়েছিল জানিয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আইয়ুববলেন, “‘নো অবজেকশনে’র মাধ্যমে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এ কারণে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রয়োজন নেই।
“এই টিকা এখন আমাদের দেশের মানুষের দরকার। এই টিকা এখন ব্রিটেন ও ইন্ডিয়ার অনুমোদন পেয়েছে, সেসব জায়গায় ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হয়েছে, বিভিন্ন ধরনের স্টাডি আছে। এছাড়া আমাদের এক্সপার্ট কমিটির দেওয়া সিদ্ধান্ত বিচার বিশ্লেষণ করেই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।”

