‘সামরিক স্বৈরাচার নিপাত যাক’ স্লোগানে কাঁপছে মিয়ানমার

‘সামরিক স্বৈরাচার নিপাত যাক’ স্লোগানে কাঁপছে মিয়ানমার

উত্তরদক্ষিণ | শনিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | আপডেট: ১৫:০১

সেনা অভ্যুত্থানের পর গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির মুক্তির দাবিতে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হয়েছে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে। প্রায় এক হাজার বিক্ষোভকারী ইয়াঙ্গুন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে রাস্তায় মিছিল করেছেন। বিবিসির শনিবারের (৬ ফেব্রুয়ারি) খবরে জানা যায়, বিক্ষোভকারীরা ‘সামরিক স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্রের জয় হোক’ বলে স্লোগান দেন।

সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে বেশির ভাগ বিক্ষোভকারী তিন আঙুল তুলে স্যালুট জানান। তারা মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি ও বন্দী নেতাদের মুক্তি দাবি করেন।

এএফপির খবরে জানা যায়, মিয়ানমারে বিক্ষোভকারীদের বেশির ভাগই তরুণ। বিক্ষোভকারীরা অং সান সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) সমর্থনে মাথায় লাল রঙের ব্যান্ড পরেছিলেন। ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত এএফপির সংবাদকর্মীরা জানান, বিক্ষোভস্থলের কাছে রাস্তায় পুলিশের গাড়ি মোতায়েন করা হয়েছে। দুটি জলকামান রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হ্যাশট্যাগউইনিডডেমোক্রেসি, হ্যাশট্যাগহিয়ারদ্য ভয়েস অবমিয়ানমার ও ফ্রিডম ফর ফিয়ার নামে আন্দোলন চলে। এসব বিক্ষোভ দমাতে মিয়ানমার সামরিক সরকার বৃহস্পতিবার ফেসবুক বন্ধ করে দেয়। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় টুইটার ও ইনস্টাগ্রামও বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিবিসির খবরে জানা যায়,অসমর্থিত সূত্র জানিয়েছে, মিয়ানমারে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া সত্ত্বেও বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন শত শত মানুষ। ইয়াঙ্গুনের দাগন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২০০ শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নেন। রাজধানী নেপিডোয় বিক্ষোভ করেছেন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সু চির রাজনৈতিক দল এনএলডির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা জানতে পেরেছে সু চি ভালো আছেন। তিনি গৃহবন্দী রয়েছেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকেও এ অভ্যুত্থানের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ থেকে সু চিসহ সব বন্দিকে মুক্তি দিতে বলা হয়েছে। সেনাবাহিনী এখনই ক্ষমতা না ছাড়লে নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে আমেরিকা।

দেশটির চিকিৎসক এবং শিক্ষকরা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্বরূপ কাজে যাচ্ছেন না। প্রতিরাতে জনগণ হাঁড়ি-পাতিল বাজিয়ে নিজেদের ক্ষোভ জানাচ্ছেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সময় অন্তত ৩০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।

গত সোমবার মিয়ানমারে অভ্যুত্থান করে দেশটির সেনাবাহিনী। সু চির নেতৃত্বাধীন এনএলডির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করেছে তারা। সেনা কর্তৃপক্ষ দেশটিতে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করেছে। সু চির বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। এসব অভিযোগে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রিমান্ডে থাকবেন সু চি। অবৈধভাবে আমদানি করা ওয়াকিটকি রাখার অভিযোগে করা মামলায় সু চির দুই বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading