ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতের রুল জারি
উত্তরদক্ষিণ | শনিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | আপডেট: ১৫:৫৭
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আইসিসি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একটি রুল জারি করেছে। তারা বলেছে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সংঘটিত যুদ্ধপরাধ ও নৃশংসতার বিচার করার এখতিয়ার রয়েছে তাদের।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, শুক্রবারের (৫ ফেব্রুয়ারি) এই রায়ের ফলে এখন থেকে আইসিসিতে পশ্চিমতীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজায় সংঘটিত ইসরায়েলি নৃশংসতার বিচার চাইতে পারবে ফিলিস্তিনিরা। এই রায়ে ফিলিস্তিনিরা খুশি হলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
আইসিসি জানিয়েছে, ইসরায়েলের দখলকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিমতীর, গাজা উপত্যকা ও পূর্ব জেরুজালেমকে এখন থেকে এ আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে আনা হলো।
২০১৫ সাল থেকে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের তদন্ত করে আসছেন আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি ফাতৌ বেনসুদা। এরআগে তিনি বলেছিলেন, সেখানে (ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে) যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে তা ‘বিশ্বাস করার যৌক্তিক ভিত্তি’ রয়েছে।
ইসরায়েল আইসিসি’র সদস্য নয়। দেশটি এই বিচারিক এখতিয়ার প্রত্যাখ্যান করেছে। আন্তর্জাতিক বিচারিক সংস্থাটিকে ‘রাজনৈতিক সংগঠন’ আখ্যা দিয়ে এর বিচার থেকে নিজেদের ‘সব নাগরিক ও সেনাকে রক্ষা করার’ অঙ্গীকার করেছে। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ‘আদালতের এই সিদ্ধান্তে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের তার নাগরিকদের রক্ষা করার অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করবে।’
তবে ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিতায়েহকে উদ্ধৃত করে দেশটির বার্তা সংস্থা ওয়াফা বলেছে, ‘(আইসিসি’র) এই সিদ্ধান্ত ন্যায়বিচার ও মানবতা, সত্যের মূল্যবোধ, স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা এবং শহীদদের রক্ত ও তাদের পরিবারের জন্য এক বিজয়।’
১৯৬৭ সালে ৬ দিনের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পর থেকে ফিলিস্তিনের অধিকৃত এলাকায় নির্বিচারে শিশু হত্যা থেকে শুরু করে স্থানীয়দের জমি দখল করে সেখানে অবৈধ ইহুদি বসতি গড়ে আসছে ইসরায়েল। যুগের পর যুগ ধরে জায়নবাদী এই রাষ্ট্র ফিলিস্তিনিদের ওপর ভয়াবহ নৃশংসতা চালিয়ে আসলেও এর বিচার পর্যন্ত চাইতে পারছে না অধিকৃত পশ্চিমতীর, গাজা ও জেরুজালেমের বাসিন্দারা।
উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে এই অপরাধ বিচারে আইসিসির ভূমিকা প্রত্যাখ্যান করে আসছে দেশটি।

