শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র: বিল পাসের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র: বিল পাসের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

উত্তরদক্ষিণ | মঙ্গলবার, ২৫ মে ২০২১ | আপডেট ১৬:৩৫

শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন করতে সরকারের কাছ থেকে অনুমোদন ও নিবন্ধন নেওয়ার বিধান রেখে সংসদে তোলা একটি আইনের খসড়া পাসের সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। মঙ্গলবার (২৫ মে) সংসদ ভবনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিলটির প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়। সংসদ সচিবালয় থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

খসড়া আইনে দিবাযত্ন কেন্দ্রে থেকে শিশু হারিয়ে গেলে কিংবা নিবন্ধন ছাড়া কেন্দ্র পরিচালনা করা হলে জেল জরিমানার বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, যেসব শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র এখন পরিচালিত হচ্ছে, নতুন আইন পাস হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে সেগুলোকে নিবন্ধন নিতে হবে। তখন সবগুলো শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলে আসবে।

এ আইন প্রবর্তন হলে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজ ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত শ্রেণির কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনা করতে পারবে। গত ৩ এপ্রিল মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা ‘শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র বিল-২০২১’ সংসদে উত্থাপন করেন।

পরে বিলটি দুই মাসের মধ্যে পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। বিলে আরো বলা হয়েছে, দিবাযত্ন কেন্দ্রে শিশু বা ক্ষেত্রমতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর প্রয়োজনীয় সেবা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপত্তা, চিকিৎসা, বিনোদন, চিকিৎসা, শিক্ষা ও শিশুর জন্য অনুকূল পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতি তিন মাসে একবার করে শিশুদের অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে হবে। দেশে বর্তমানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১১৯টি এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র রয়েছে।

আইনের খসড়ায় শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র থেকে শিশু হারিয়ে গেলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদাণ্ডের পাশাপাশি পাঁচ লাখ পর্যন্ত জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই আইন পাস হওয়ার পর অনুমোদন ছাড়া কেউ শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিচালনা করতে পারবে না। অনুমোদন ছাড়া এসব পরিচালনা করলে অপরাধ হবে।

নিবন্ধন ছাড়া কেন্দ্র চালালে দুই বছরের জেল ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। বিলে বলা হয়েছে, এসব কেন্দ্রে সংক্রামক রোগের বিস্তার ঘটালে, সহায়তা করলে বা তথ্য গোপন করলে ছয় মাসের কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা জরিমানা হবে।

আজ মঙ্গলবার কমিটির সভাপতি মেহের আফরোজের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, মো. আব্দুল আজিজ, শবনম জাহান, লুৎফুন নেসা খান ও সাহাদারা মান্নান অংশ নেন।

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading