রপ্তানিতে সুদিন: বাংলাদেশের জাহাজ কিনছে জার্মানি-নিউজিল্যান্ড
উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১। আপডেট ১৭:৫৫
বাংলাদেশ শুধু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যই উৎপাদন করে তা নয়, উচ্চ প্রযুক্তির ভারী শিল্পপণ্যও এখানে তৈরি হচ্ছে। জার্মানি, ডেনমার্ক, নিউজিল্যান্ড, কেনিয়া, পাকিস্তান ও ভারতে ইতোমধ্যে জাহাজ রপ্তানি হয়েছে। করোনা মহামারি কিছুটা কমার সাথে সাথেই জাহাজ রপ্তানিতে আবার প্রচুর অর্ডার আসতে শুরু করেছে।
চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য ন্যাশনাল শিপ বিল্ডিং ইন্ডাস্ট্রি (সিএএনএসআই) গত ২ সেপ্টেম্বর ‘জাহাজনির্মাণ শিল্পের উত্থান’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের মধ্যে বাংলাদেশ জাহাজ রপ্তানির জন্য ১৫০ কোটি (১.৫ বিলিয়ন) ডলার অর্ডার পাবে।
জানা যায়, ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় অন্যান্য পণ্যের মতো জাহাজের চাহিদাও বাড়ছে ব্যাপকভাবে। জাহাজ ভাড়া বেড়ে গেছে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। বিশ্ববাজারে জাহাজের চাহিদা ব্যাপক বেড়ে গেছে। যার সুফল বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরাও পাচ্ছেন। প্রতিদিনই অর্ডার পাচ্ছেন তারা। প্রায় ২ বছর ১০ মাস পর জাহাজ রপ্তানির কার্যাদেশ এল বাংলাদেশে। চট্টগ্রামের জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এফএমসি ডকইয়ার্ড সুদান থেকে এই কার্যাদেশ পেয়েছে। নেদারল্যান্ডস, চীন, তুরস্ক ও ভারতের সঙ্গে দরপত্রে প্রতিযোগিতা করেই এই কার্যাদেশ পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মাধ্যমে জাহাজ রপ্তানিতে দীর্ঘ সময়ের খরা কাটল।
চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য ন্যাশনাল শিপ বিল্ডিং ইন্ডাস্ট্রি (সিএএনএসআই) বলেছে, ২০২২ সালের মধ্যে বাংলাদেশ জাহাজ রপ্তানির জন্য ১৫০ কোটি (১.৫ বিলিয়ন) ডলার অর্ডার পাবে। বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ৩০ পয়সা) টাকার অংকে এই অর্থের পরিমাণ ১২ হাজার ৭৯৫ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে জাহাজ রপ্তানি থেকে বাংলাদেশ ১ কোটি ১৩ লাখ ২০ হাজার ডলার আয় করেছিল। বিশ্ব বাজারে সম্ভাবনা থাকায় গত ২০২০-২১ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার ধরা হয়, কিন্তু এক টাকার জাহাজও রপ্তানি করতে পারেননি রপ্তানিকারকরা।
শুধু তাই নয়, গত বছরের মার্চে মহামারি শুরুর পর এই দেড় বছরে কোনো রপ্তানি হয়নি। সে কারণে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় মাত্র ২ হাজার ডলার। মহামারির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নামমাত্র এই লক্ষ্য ধরে সরকার।
ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম , সত্যি বিশ্ববাজারে জাহাজের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এর চাহিদা। আমরাও তার সুফল পাচ্ছি। প্রচুর অর্ডার পাচ্ছি আমরা এখন। শুধু আমরা না, অন্য সব প্রতিষ্ঠানও পাচ্ছে। ইতোমধ্যে সরকার জাহাজ রপ্তানি সংক্রান্ত একটি নীতিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে। এবার মনে হচ্ছে, আমাদের এই খাতটিতে সত্যিই ভালো দিন আসছে।
জানা যায়, কার্যাদেশ অনুযায়ী সুদান সরকারের জন্য সর্বাধুনিক প্রযুক্তির টাগবোট বা সাহায্যকারী জাহাজ নির্মাণ করবে প্রতিষ্ঠানটি। টাগবোটটির রপ্তানি মূল্য প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১১৬ কোটি টাকা।
এফএমসি ডকইয়ার্ডের চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াছিন চৌধুরী বলেন, বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে এই কার্যাদেশ পেয়েছি আমরা। চট্টগ্রামের ইয়ার্ডে শিগগিরই নির্মাণকাজ শুরু হবে। এটি ছাড়াও কয়েকটি আন্তর্জাতিক দরপত্রে আমরা সর্বনিু দরদাতা হয়েছি, যেগুলোর রপ্তানি মূল্যমান হবে ১০ কোটি ডলার।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যে দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জাহাজ রপ্তানি থেকে ৪৭ লাখ ৩০ হাজার ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ।
গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ খাত থেকে রপ্তানির লক্ষ্য ধরা হয় ৫০ লাখ ডলার। বছর শেষে সেই লক্ষ্য থেকে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ১ কোটি ১৩ লাখ ২০ হাজার ডলার দাঁড়ায়, যা ছিল এ যাবতকালে জাহাজ রপ্তানি থেকে সবচেয়ে বেশি আয়। ওই অর্থবছরে আগের বছরের চেয়ে রপ্তানি বেড়েছিল ১৪০ শতাংশ।

