আফগান রিজার্ভ নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করলো আমেরিকা
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১ । আপডেট ২২:৪০
আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ নিয়ে ফের নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছে আমেরিকা। দেশটির ডেপুটি ট্রেজারি সেক্রেটারি ওয়ালি আদিইমো বলেছেন, আমেরিকা গচ্ছিত আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ তালেবান সরকারের কাছে হস্তান্তর করবে না ওয়াশিংটন। গতকাল মঙ্গলবার সিনেটের ব্যাংকিং কমিটিকে এ কথা বলেন তিনি। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
ওয়ালি আদিইমো বলেন, আমরা বিশ্বাস করি যে, তালেবানের বিরুদ্ধে আমাদের নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখা অপরিহার্য। কিন্তু একইসঙ্গে আফগান জনগণের কাছে বৈধ মানবিক সহায়তার পথ খুঁজে বের করতে হবে। আমরা ঠিক এই কাজটিই করছি।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে এটা নিশ্চিত করা যে, আমরা তালেবান ও হাক্কানি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে আমাদের নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করছি। কিন্তু একইসঙ্গে দেশটিতে মানবিক সহায়তার অনুমোদিত প্রবাহের অনুমতি দিচ্ছি।
২০২১ সালের ১৫ আগস্ট প্রায় বিনা বাধায় কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। প্লেন ভর্তি অর্থ নিয়ে পালিয়ে দেশ ছাড়েন যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গণি। আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আজমল আহমদি-ও পালিয়ে যান। পরে এক টুইটে তিনি জানান, ‘তালেবানের ওপর একের পর এক আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা জারি হচ্ছে। বেশিরভাগ অর্থকড়ি দেশের বাইরে রাখা। সেগুলো তালেবানের হাতে পৌঁছানোর কোনও সম্ভাবনাও নেই।’
পরে আমেরিকা গচ্ছিত থাকা আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৯০০ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ জব্দ করার ঘোষণা দেয় আমেরিকা। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৭৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি। তালেবান ছাড়াও পাকিস্তান ও রাশিয়ার পক্ষ থেকে এ অর্থ ছাড় করতে ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে নিজ অবস্থানে অনড় হোয়াইট হাউস।
ওয়াশিংটনের এমন পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। তিনি বলেন, আমেরিকা যেভাবে আফগানিস্তানের রিজার্ভ আটকে দিয়েছে সেটি আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন। এই অর্থ কেন আটকে দেওয়া হয়েছে? আফগানদের অপরাধ কী? তারা কী করেছে?

