ব্রিটেনে বিনিয়োগ সম্মেলন ও রোড শো
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ০৪ নভেম্বর ২০২১। আপডেট ১৪:০০
বিনিয়োগের হাতছানি
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্রিটেনে বিনিয়োগ সম্মেলন ও রোড শোর আয়োজন করেছে বাংলাদেশ। ব্রিটেনের এই সম্মেলনের আদ্যোপান্ত নিয়ে লিখেছেন মিলন গাজী
বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) লন্ডনে রানী এলিজাবেথের চার্চিল
অডিটোরিয়ামে আজ অনুষ্ঠিত হবে ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২১: বিল্ডিং সাসটেইনেবল গ্রোথ পার্টনারশিপ’ শীর্ষক বিনিয়োগ সম্মেলন। বিদেশি ব্যবসায়ী-বিনিয়োগকারী ও প্রবাসীদের উপস্থিতিতে উদ্বোধন করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিআইডিএ) ও বাংলাদেশ হাই কমিশনের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত এই সম্মেলন। এই সম্মেলনের গুরুত্ব বাড়াবে বহুগুণে। সম্মেলনে বিদেশি ও প্রবাসীদের নিকট দেশের অর্থনীতির সক্ষমতা, বাংলাদেশি পণ্য, শেয়ারবাজার এবং বন্ড মার্কেটকে তুলে ধরা হবে হবে।
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ আনা অন্যতম লক্ষ্য
বিনিয়োগের এই সম্মেলনের মাধ্যমে করা হবে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং। সম্মেলনে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরা হবে। এছাড়াও অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে থাকছে বাংলাদেশের পুঁজিবাজাওে বিনিয়োগ বৃদ্ধি। সেক্ষেত্রে ব্রিটেনে বসবাসরত ছয় লাখের মত বাংলাদেশিকে কিভাবে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে সম্পৃক্ত করা যায় সেটা নিয়েও আলোচনা করা হবে। এছাড়াও বাংলদেশে কর্মরত যেসব কোম্পানির মূল অফিস ব্রিটেনে, তাদেরকে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে সংযুক্ত করারও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবারের সম্মেলনে।
নীতিনির্ধারকদের অংশগ্রহণ বাড়াবে মাত্রা
বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যারা নীতিনির্ধারক রয়েছেন সবাই সম্মেলনে যোগদান করছেন। তারা বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে তাদের চাওয়া-পাওয়া শুনবেন এবং যথাযথ পদক্ষেপ ও মতামত পোষণ করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প এবং বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল কালাম আব্দুল মোমেন, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক থাকছেন এ সম্মেলনে। এছাড়াও বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমসহ অনেকে।
পার্টনারশিপ-বিনিয়োগ বৃদ্ধি করাই লক্ষ্য
এবারের এই সম্মেলন নিয়ে সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য এক আকর্ষণীয় স্থান। তিনি বলেন, আমাদের এমন আয়োজনের উদ্দেশ্য হচ্ছে পার্টনারশিপ-বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা। এর অর্থ যারা এখানে বিনিয়োগ করতে আসবেন তারাও যেন লাভবান হন, বাংলাদেশও যেন লাভবান হয়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে আমাদের অর্থনীতির যে উন্নতি হয়েছে তাতে বাংলাদেশে এখন বিনিয়োগ করে কেউ হতাশ হবে না। সালমান এফ রহমান আরও বলেন, আমাদের অর্থনীতির যে ক্রমবর্ধমান ধারা, তারই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা উন্নয়নশীল দেশে উপনীত হতে যাচ্ছি। এ ধারা অব্যাহত রাখতে এখন আমাদের নতুন নতুন বিনিয়োগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমাদের বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। অবকাঠামো খাতেও আমাদের বিস্ময়কর অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশের বিনিয়োগ এখন সান্টেনেবল ইনভেস্টমেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বাংলাদেশে বিনিয়োগ দেবে সর্বোচ্চ রিটার্ন
একই সংবাদ সম্মেলনে ব্রিটেনে বসবাসরত বিনিয়োগকারীদের পার্টনারশিপ ও সর্বোচ্চ রিটার্ন পেতে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। তিনি বলেন, আমাদের শেয়ারবাজার এখন ফ্রন্টিয়ার। এ মুহূর্তে দেশের শেয়ারবাজার সর্বোচ্চ রিটার্ন দিচ্ছে। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য আমরা ব্রিটেনে বসবাসরতদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানাই। এখান বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য শুধু তাদেরকেই দরকার, সেটা নয়। বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে তারাও উপকৃত হবে। এ বিনিয়োগের মাধ্যমে উভয়পক্ষ লাভবান হবে।
বাংলাদেশ সাহায্য নির্ভরশীল নয়
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববাসী নতুন বাংলাদেশকে জানে না। তারা বাংলাদেশের পরিবর্তন সম্পর্কে জানে না। তারা জানে না কতটা বাংলাদেশ আত্মনির্ভরশীল। তারা জানে না বাংলাদেশ প্রতিকূল আবহাওয়া মোকাবিলায় সক্ষম। তারা জানে না বাংলাদেশ তৈরি পোশাক শিল্প (আরএমজি) খাতে দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ। বাংলাদেশ এখন পুরো আত্মনির্ভরশীল, সাহায্য নির্ভরশীল নয়।

