মন্দির পুনর্নির্মাণসহ ক্ষতিপূরণ দাবি হিন্দু মহাজোটের
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ০৫ নভেম্বর ২০২১। আপডেট ২০:৫০
কুমিল্লার ঘটনার জেরে ২৫ জেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মন্দিরে হামলায় প্রায় ৩৮ কোটি টাকা ক্ষতির হিসাব দিয়ে মন্দির ও স্থাপনা পুনর্নির্মাণসহ ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট।
শুক্রবার (৫ নভেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক ১৯ দিনের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তুলে ধরে বলেন, “এই ঘটনা পরিকল্পিত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” তিনি বলেন, গত ১৩ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশে ২৫টি জেলায় আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবারও বরিশালের বামনাকাঠিতে প্রতিমা ভাঙচুর হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তুলে ধরে মহাসচিব বলেন, এই সময়ে ৩১টি মন্দির আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, ২২৭টি পূজামণ্ডপে ভাঙচুর, ২৪১টি বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে, ৭৪৭টি বাড়িতে হামলা এবং ৩১টি দোকান লুট করা হয়। এতে হিন্দু সম্প্রদায়ের পাঁচজন নিহত হয়েছেন। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন পাঁচজন, আরও পাঁচজনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। ৪০০ জনের বেশি নারীকে লাঞ্ছিত করা হয়। সারাদেশে আহত হয়েছেন ৬১১ জন। এসব ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদ করতে গিয়ে ১৭ জন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোককে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে। ১১ হাজার ৫০৭টি পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় আছে। মোট ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা।
কুমিল্লায় ‘ধর্মকে ঢাল হিসেবে’ ব্যবহার করে হামলা ও ভাংচুর চালানো হয় মন্তব্য করে হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব বলেন, “পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে দুষ্কৃতকারীরা এটাকে উপজীব্য করে একের পর এক ঘটনা ঘটিয়েই চলছে।”
দুর্গাপূজার মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর কুমিল্লা শহরের নানুয়া দীঘির পাড়ে একটি পূজা মণ্ডপে ‘কোরআন অবমাননার’ কথিত অভিযোগ তুলে কয়েকটি মন্দিরে হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়। এর জের ধরে চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রংপুরসহ কয়েকটি জেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের উপরে হামলা হয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণহানিও ঘটে।
গোবিন্দ চন্দ্র বলেন, হিন্দু সম্প্রদায় ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব বরণ করে নিয়েছিল। কিন্তু দুর্গাপূজা চলার সময় বিভিন্ন জেলায় সাম্প্রদিক হামলার ঘটনায় ‘ভীতিকর’ অবস্থা তৈরি হয়। হিন্দু বাড়িঘরে ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর, পূজামণ্ডপ ও প্রতিমা ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, মঠ-মন্দিরে হামলা, নির্যাতন, মহিলাদের শ্লীলতাহানী, ধর্ষণ, খুনসহ এক বিভিষীকাময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এসব ঘটনায় নারায়ণঞ্জ, চট্টগ্রামসহ কয়েকটি জেলা কমিটি নিয়ে মহাজোটের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করাসহ কারো অবহেলা ছিল কি না তা উদঘাটনের চেষ্টা করেছে জানিয়ে গোবিন্দ বলেন, কুমিল্লায় সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দফায় দফায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশ, র্যাব, ফায়ার সার্ভিসকে বার বার ফোন করে পূজামণ্ডপ রক্ষার আকুতি জানালেও ‘কেউ আসেনি’। এমনকি এসব ঘটনার সময় কোনো রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতা এবং সুশীল সমাজের কেউ এগিয়ে আসেনি।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে বেশ কয়েকটি দাবি জানিয়েছে হিন্দু মহাজোট-
ক্ষতিগ্রস্ত সকল মন্দির, বাড়িঘর পুনর্নির্মাণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে ৬০টি সংরক্ষিত আসন ও পৃথক নির্বাচনের ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে একজন পূর্ণ মন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া।

