হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ধিক্কার মিছিল ১২ নভেম্বর
উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ০৬ নভেম্বর ২০২১। আপডেট ১৮:৩০
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে সহিংসতার ঘটনার বিচার বিশেষ ক্ষমতা আইন ও দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা। একই সঙ্গে, এ ঘটনার নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
পরিষদের নেতারা পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেনের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, তার এ বক্তব্য আন্তজার্তিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের ব্যাপারে ক্ষোভ জানিয়ে ১২ নভেম্বর বিকেল চারটায় সারাদেশে ধিক্কার মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।
শনিবার (৬ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত।
তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের এ অংশে ২৯.৭ ভাগ হিন্দু ছিলেন, যা সত্তরের দিকে ২০ শতাংশে নেমে আসে। এরপর একাত্তর, পঁচাত্তর এবং তার পরবর্তী সময়ে হিন্দুদের ওপরে নানা সহিংসতার কারণে এ সংখ্যা বর্তমানে ৯.৭ শতাংশে নেমে এসেছে। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যে সহিংসতা ঘটানো হয়েছে তাতে দেশে হিন্দু সম্প্রদায় নিজেদেরকে নিরাপত্তাহীন মনে করছে।
সাম্প্রতিক বছর গুলোতে রামু কিংবা নাসিরনগরের ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার না হওয়ায় কারণেই ২০২১ সালে এসে এমন নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে উল্লেখ করে রাণা দাশগুপ্ত বলেন, এবার দুর্গাপূজায় ২৭ জেলার ১১৭ মন্দির/ পূজা মন্ডপে সহিংস ঘটনা ঘটেছে। ওই সহিংসতায় ৯ জন মারা গেছেন। ৩০১ টি বাসা বাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাড়ানোয় সরকারকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নেতারা রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দলগুলোকে এ ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ থেকে আর কোনো ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘুকে যেন দেশত্যাগে কোনো মহল বাধ্য করতে না পারে সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে এ ঘটনা বিশেষ ক্ষমতা আইন ও দ্রুত বিচার আইনে বিচারের দাবি তোলেন তারা।
এদিকে, পরিষদের নেতারা পররাষ্ট্রমন্ত্রী,আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করলেও এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের প্রশংসা করেন তারা। তারা আরও বলেন, এ ঘটনায় দেশের রাজনৈতিক, সুশীল সমাজ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং আলেম ওলেমা সমাজ এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ঊষাতন তালুকদার বলেন, যে মামলাগুলো হয়েছে তার বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত হোক। দলমত নির্বিশেষে ঘটনার বিচার হোক। কাউকে উপেক্ষা করে নয়, পেছনে ফেলে নয়, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে পথ চলতে হবে। একইসঙ্গে, কোনো রাজনৈতিক দলের আত্মতুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই। সরকার চাইলেই এই অপশক্তিকেও দমন করতে পারবে।
এ ব্যাপারে ইসকন বাংলাদেশ অংশের সাধারন সম্পাদক চারু চন্দ্র ব্রহ্মচারী বলেন, এ ঘটনা এখন বাংলাদেশে সীমাবদ্ধ নেই। সকলে এ নিয়ে আওয়াজ তুলেছে কিন্তু দ্রুত বিচার পাওয়ার কথা থাকলেও পাওয়া যায়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য হতাশব্যঞ্জক। তিনি (মন্ত্রী) মনে করেন দেশে কিছুই হয়নি। তিনি কী ঘটনা দেখেছেন? ওবায়দুল কাদেরও বলেছেন সত্য কথা। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি তদন্ত করে যারা অন্যায় করেছে এবং মদত দিয়েছে তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

