‘খালেদার চিকিৎসায় বড় বাধা বিএনপি নিজেই’

‘খালেদার চিকিৎসায় বড় বাধা বিএনপি নিজেই’

উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ২৬ নভেম্বর ২০২১। আপডেট ১৭:৩০

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় বড় বাধা বিএনপি নিজেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম (বোয়াফ) আয়োজিত ‘বিশ্ব সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও হলি আর্টিজান-মুম্বাই হামলা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

এ সময় হানিফ বলেন, বিএনপি খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে রাজনৈতিকভাবে মাঠ গরম করছে। তারা খালেদা জিয়ার মুক্তি চায়, চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে চায়। তারা না বুঝেই এগুলো করছে।

আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, খালেদা জিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী এটা সত্য, তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন এটা সত্য। কিন্তু এটাও সত্য তিনি আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি। একজন কয়েদি হিসেবে কারাগারে থাকা অবস্থায় কারাবিধি অনুযায়ী তিনি সব সুবিধা পাবেন। খালেদা জিয়া অত্যন্ত সৌভাগ্যবান, শেখ হাসিনার মানবতায় তিনি কারাবিধির বাইরেও অনেক সুযোগ পেয়েছেন। একটা নিরপরাধ মহিলাকে তার সঙ্গে দেওয়া হয়েছিল যেটা কারাবিধির মধ্যে পড়ে না। শেখ হাসিনা নিজ ক্ষমতায় খালেদার দণ্ড স্থগিত করে বাসভবনে থাকার সুযোগ করে দিয়েছেন। কিন্তু বিএনপি তাকে বিদেশে পাঠানোর যে দাবি তুলছেন, অযৌক্তিকভাবে বিভিন্ন রেফারেন্স তুলছে। তারা বলছে রাষ্ট্রপতি বা ওবায়দুল কাদের বিদেশে চিকিৎসা নিতে পারলে খালেদা কেন পারবে না। খালেদা এটা পারবেন না কারণ দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদির ক্ষেত্রে এ সুযোগ নেই।

খালেদার চিকিৎসায় বড় বাধা বিএনপি নিজেই মন্তব্য করে হানিফ বলেন, দলের নেতাকর্মীরা যদি মনে করে তার যথাযথ চিকিৎসা হচ্ছে না, আরও দরকার। তাহলে সেই বিবেচনায় তাদের চিকিৎসা নিয়ে রাজনীতি না করে আইনের একটা পথ আছে যে প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে পারেন। রাষ্ট্রপতি যদি নিজ ক্ষমতায় ক্ষমা করে দেন তাহলেই খালেদা বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

কিন্তু বিএনপির কাছে খালেদার চিকিৎসা বড় নয়, এটা নিয়ে রাজনৈতিক স্ট্যান্ডবাজি করে যাচ্ছে। তাদের কাছে খালেদার অসুস্থতা মুখ্য নয়, মুখ্য হচ্ছে রাজনীতি। এটাকে ইস্যু করে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার একটা হাতিয়ার করতে চাচ্ছেন।

আলোচনা সভায় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র এজেন্ট হিসেবে জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, পরবর্তী কার্যক্রমে তার প্রমাণ পাওয়া যায়। ৭৫ পরবর্তী জঙ্গিবাদের উত্থান হয়। তিনি দালাল আইন বাতিল করেন। ১০ হাজারের বেশি দালাল ছেড়ে দিয়েছিলেন। ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি শুরু করেছেন।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর বঙ্গবন্ধু সরকার ছিল সাড়ে তিন বছর। প্রায় ২৯ বছর স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি দেশের ক্ষমতায় ছিল। যিনি ধর্ম চর্চা করেন না তিনি বলে গেছেন রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকতা এ ২৯ বছরে হয়েছে। ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা হয়েছিল, আর ওই হামলার বিষয়ে তারেক রহমান একজন পাকিস্তানি জঙ্গি ও একজন কাশ্মীরি জঙ্গির সঙ্গে বৈঠক করেছিল। এ ঘটনায় আইএসআই যে জড়িত তা থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়। আমাদের দেশের একটা বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি, যারা সরাসরি জঙ্গিবাদকে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে।

Asadujjaman

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading