বিজয়ের ৫০ বছর: স্টেট ইউনিভার্সিটির আলোচনা সভা
কিফায়েত সুস্মিত । রবিবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২১ । আপডেট ১৯:৫৫
বিজয়ের ৫০তম বার্ষিকী ও মুজিব জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এসইউবি)-এর উদ্যোগে রবিবার (১৯ ডিসেম্বর) এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসইউবির সাতমসজিদ সড়কস্থ প্রধান ক্যাম্পাসের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কূটনীতিক সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও রাষ্ট্রদূত এম. হুমায়ুন কবির।
রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির তার প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসের ধারাবাহিক বিবরণ দিতে যেয়ে উল্লেখ করেন যে, ১৯৩৮-এর বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইনের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মুসলমানদের মধ্যে প্রথমবারের মতো স্বতন্ত্র জাতিসত্বার যে বোধ তৈরি হয়, সেটিই পরবর্তী সময়ে বিকশিত ও পরিশীলিত হতে হতে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে এসে পূর্ণতা লাভ করে। তিনি বলেন, ১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝিতে তৎকালীন শীর্ষস্থানীয় বাঙালি অর্থনীতিবিদদের চিন্তা থেকে উৎসারিত ‘টু ইকোনমিক থিওরি’ এবং তারই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুর ১৯৬৬ সনের ৬ দফাই বস্তুত বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামকে গতিময়তা দান করে। আর একাত্তরে আন্দোলনরত ছাত্রজনতার জন্য বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণই ছিল পথনির্দেশনা।
অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল কবির তার ভাষণে মুক্তিযুদ্ধে জোতির্ময়গুহ ঠাকুরতা, মুনীর চৌধুরী প্রমুখ বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, কর্নেল এম এ জি ওসমানী নিছক বাঙালি হবার কারণেই তৎকালীন সেনাবাহিনীতে আর পদোন্নতি পাননি। তিনি বলেন, বিজয়ের এ ৫০তম বার্ষিকীতে দাঁড়িয়ে আমরা স্বপ্ন দেখতে চাই যে, বৈভব ও সমৃদ্ধিতে বাংলাদেশ অচিরেই পশ্চিমের অনেক উন্নত দেশকেও ছাড়িয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এসইউবির বিজনেস স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক মেহজাবীন ফারুক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ারুল কবির। অনুষ্ঠানে বিজয় দিবসের তাৎপর্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আগামী বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে কথা বলেন এসইউবির স্থাপত্য বিভাগের প্রধান ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার বিশিষ্ট স্থপতি ড. সাজিদ বিন দোজা এবং ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিডিসি)-এর পরিচালক আবু তাহের খান। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন হেলথ সায়েন্স ও ফার্মেসি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. নওজিয়া ইয়াসমিন।

