আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের করণীয়
সাইফুল ইসলাম অনিক । সোমবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২১ । আপডেট ১৮:৪০
বিজয়ের পঞ্চাশ বছরের মাথায় এসে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের সুপারিশ অর্জন করা বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করা এবং রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ব্যাপক উন্নয়ন হলেও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েই মূলত বিজয়ের ৫০ বছর পার করেছে বাংলাদেশ।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করা, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করার চ্যালেঞ্জ নিতে হবে বাংলাদেশকে। কিভাবে বৈষম্য দুর করা যায়, যথেষ্ট কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি দুর করা ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা যায়- এসব বিষয় বাংলাদেশের সামনে আগামী দিনগুলোতে খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে। বাংলাদেশ যে গতিময়তার সাথে প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে তার সুফল সবাইকে দিতে হলে সেই প্রবৃদ্ধি হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক।
ডিজিটাল বাংলাদেশে প্রযুক্তির বিকাশকে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উৎসে রূপান্তরের মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের মৌলিক চাহিদা যথাযথভাবে পূরণ করাই হবে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ। যদিও সরকারি ভাবে বলা হচ্ছে এসব খাতের অগ্রগতিতে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে যাবে বাংলাদেশ।
ব্রিটেনের অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইকোনমিক্স এন্ড বিজনেস রিসার্চ তাদের এক রিপোর্টে বলেছে, বাংলাদেশ এখন যে ধরণের অর্থনৈতিক বিকাশের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সাল নাগাদ দেশটি হবে বিশ্বের ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতি। কিছু রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, ব্যাপক দুর্নীতি এবং মানসম্পন্ন শিক্ষা ও জীবন মানের মতো বিষয়গুলোও মোকাবিলা করতে হবে বাংলাদেশকে।
গণতন্ত্রের সুফল ও অর্থনৈতিক সমতা কিংবা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের পাশাপাশি বাংলাদেশের ভূ-কৌশলগত অবস্থার জের ধরে তৈরি হওয়া চ্যালেঞ্জও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বাংলাদেশের সামনে। ধর্ম, মত ও আদর্শিক সংখ্যালঘুদের অধিকার নিশ্চিত করে রাষ্ট্রের অসাম্প্রদায়িক বৈশিষ্ট্য নিশ্চিত করাটাও হবে বিরাট চ্যালেঞ্জের বিষয়।
লেখক: সাংবাদিক।
ইউডি/ অনিক

