হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট এরনান্দেজ গ্রেপ্তার

হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট এরনান্দেজ গ্রেপ্তার

উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২ । আপডেট ১৩:২০

মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে হন্ডুরাসের সদ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান ওরল্যান্দো এরনান্দেজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আমেরিকা তাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানানোর পর তিনি যেন পালাতে না পারেন তা নিশ্চিতে মধ্য আমেরিকার দেশটির রাজধানী তেগুচিগালপায় তার বাড়ির বাইরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।

বিবিসি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর পুলিশ ভেতরে গেলে এরনান্দেজ আত্মসমর্পণ করেন, এরপর তাকে হাতকড়া পরিয়ে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।

২০১৪ সাল থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত হন্ডুরাস শাসন করা এরনান্দেজ তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ছোট ভাই টনি এরনান্দেজের সঙ্গে তিনিও একই মাদক পাচার চক্রে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মাদক সংক্রান্ত মামলায় টনি গত বছর আমেরিকায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।

ওই মামলা চলাকালে কৌঁসুলিরা অভিযোগ করেন, মেক্সিকোর কুখ্যাত মাদক সম্রাট ‘এল চাপো’ গুজমান ব্যক্তিগতভাবে টনিকে ১০ লাখ ডলার দিয়েছিলেন। সেসময় ‘এল চাপো’ টনিকে ঘুষের ওই টাকা তার বড় ভাই ওরল্যান্দো এরনান্দেজের কাছে পৌঁছে দিতে বলেছিলেন, ভাষ্য কৌঁসুলিদের।

বছরের পর বছর ধরে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে আমেরিকায় মাদক পাচারের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হন্ডুরাসে সাম্প্রতিক সময়ে কোকেনও উৎপাদিত হচ্ছিল।

হুয়ান ওরল্যান্দো এরনান্দেজ সবসময় বলে এসেছেন, মাদক পাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সম্ভাব্য সব কিছু করেছেন তিনি। আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সময় ওয়াশিংটনের ব্যাপক সমর্থন পেলেও জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর পরিস্থিতি উল্টে যায়।

কিছু দিন আগে আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে যাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে, তাদের তালিকায় হন্ডুরাসের সাবেক এই প্রেসিডেন্টের নামও যুক্ত হয়েছে।

পরে আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন এক বিবৃতিতে বলেন, এরনান্দেজ গুরুতর দুর্নীতি ও মাদক পাচারে জড়িত অথবা সহায়তা করেছেন এবং রাজনৈতিক প্রচারে সুবিধা নিতে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডকে কাজে লাগিয়েছেন বলে ‘বিশ্বাসযোগ্য’ প্রতিবেদন পেয়েছেন তারা।

এর জবাবে এরনান্দেজ জানান, তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে তার ভিত্তি হচ্ছে একজন দণ্ডপ্রাপ্ত মাদক পাচারকারীর বলা কথা। প্রতিশোধ নিতেই ওই মাদক পাচারকারী এসব বলেছে বলেও ভাষ্য তার।

সেন্ট্রাল আমেরিকান পার্লামেন্টের সদস্য হওয়ায় এরনান্দেজকে গ্রেপ্তার করা যাবে না বলে তার আইনজীবীরা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি পর যুক্তি দেখিয়েছিলেন।

কিন্তু পরে আইন বিশেষজ্ঞরা জানান, সেন্ট্রাল আমেরিকান পার্লামেন্টে যাকে এ সুবিধা দেয়, তিনি যে দেশের নাগরিক সেই দেশের অনুরোধে পার্লামেন্টে চাইলে এ সুবিধা প্রত্যাহার করে নিতে পারে।

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading