একের পর এক নৌ-দুর্ঘটনার নেপথ্যে: অবহেলা নাকি বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা?

একের পর এক নৌ-দুর্ঘটনার নেপথ্যে: অবহেলা নাকি বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা?

উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ২১ মার্চ ২০২২ । আপডেট ১২:০০

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যায় চর সৈয়দপুর এলাকায় পণ্যবাহী জাহাজের ধাক্কায় যাত্রীবাহী একটি লঞ্চডুবির ঘটনায় ছয় জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার (২০ মার্চ) এ দুর্ঘটনা ঘটে। একের পর এক নৌ-দুর্ঘটনার নেপথ্যে অবহেলা নাকি বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা? এভাবে নৌপথে আর কত ঝড়বে তাজা প্রাণ? বিস্তারিত লিখেছেন আসাদুজ্জামান সুপ্ত

শীতলক্ষ্যা যেনো দুর্ঘটনার আতুড়ঘরে পরিণত হচ্ছে দিনকে দিন। নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে ব্যস্ত এই নদীতে প্রতিদিন হাজারো পণ্যবাহী কার্গো, জাহাজ ও যাত্রীবাহী লঞ্চের চলাচল। কিন্তু যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাব ও অনিয়ন্ত্রণ এখানের নিত্যসঙ্গী। আর তাতেই হারাচ্ছে তাজাপ্রাণ।

কার্গোর ধাক্কায় লঞ্চডুবি: ৬ জনের লাশ উদ্ধার: রবিবার (২০ মার্চ) নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সীগঞ্জ যাওয়ার পথে ১৫০ জন যাত্রী ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ‘এমএল আশরাফ উদ্দিন-২’ লঞ্চটি জাহাজের ধাক্কায় ডুবে যায়। বেলা ২টার দিকে সোনাকান্দা এলাকায় কয়লা ঘাটের কাছে রূপসী-৯ জাহাজটি পেছন থেকে এটিকে চাপা দিয়ে ডুবিয়ে দেয়। এ সময় লঞ্চের ১৫ থেকে ২০ যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। লঞ্চটিতে ঠিক কতজন যাত্রী ছিলেন তা তাৎক্ষণিক নিশ্চিত করতে পারেননি কেউ। নৌ-পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ডের কর্মীরা উদ্ধার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন। এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া সবশেষ মৃতের সংখ্যা ছয়জন। মৃত ছয়জনের মধ্যে দুজন নারী, দুজন পুরুষ ও দুই শিশু রয়েছে। দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত সবার নাম-পরিচয় জানা যায়নি। নিহত ছয়জনের মধ্যে তিন জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন জয়নাল ভূঁইয়া (৬০), তার মুন্সীগঞ্জ শহরের উওর ইসলামপুর; আরিফা বেগম (৩৫) ও তার শিশু সন্তান সাফায়েত (৩)। তাদের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার রমজানবেগ এলাকায়। নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফীন গণমাধ্যমকে বলেন, দুপুরে এই দুর্ঘটনার পরই উদ্ধারকারী দল নিখোঁজদের উদ্ধারে কাজ শুরু করে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার নারায়ণগঞ্জ জোনের সভাপতি বদিউজ্জামান বাদল বলেন, নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল থেকে যাত্রী নিয়ে মুন্সীগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল লঞ্চটি। সোনাকান্দা এলাকায় কয়লা ঘাটের কাছে রূপসী-৯ জাহাজটি পেছন থেকে চাপা দিয়ে লঞ্চটি ডুবিয়ে দেয়। নারায়ণগঞ্জ সদর নৌ থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, রূপসী-৯ সিটি গ্রপের মালিকানাধীন একটি কার্গো জাহাজ। আর জাহাজ চলাচল সম্পর্কিত ওয়েবসাইট ভেসেলফাইন্ডারে রূপসী-৯ এর মালিক হিসাবে সিটি সিড ক্রাশিং ইন্ডাস্ট্রিজের নাম রয়েছে।

রবিবার (২০ মার্চ) শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবীতে স্বজনদের আহাজারি।

শীতলক্ষ্যায় একই ভুল বারবার কেনো: দেশের অভ্যন্তরীণ নৌ রুটগুলোয় অসংখ্য যাত্রী ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাতায়াত করছে এবং প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে গত বছরের ৮ জুলাই এক কার্গো জাহাজের ধাক্কায় যাত্রীবাহী লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটে৷ এতে নারী ও শিশুসহ ৩৪ জনের প্রাণহানি হয়৷ রবিবার সেই একই নদীতে ফের দুর্ঘটনার কবলে পড়ল আরেকটি যাত্রীবাহী লঞ্চ। এতে আমাদের দেশের নৌ পরিবহণ ব্যবস্থার নিরাপত্তাকে আবারও প্রশ্নবিদ্ধ করল। কতটা নিরাপদ আমাদের নৌপথ? প্রতিনিয়তই এমন দুর্ঘটনা নৌপথে যাতায়াতকারী যাত্রীদের কপালে দুশ্চিন্তার রেখা টেনে দিলেও কর্তৃপক্ষের টনক নড়েছে কি? বিগত বছরগুলোতে নদীপথে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন দুর্ঘটনার কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো-ফিটনেসবিহীন নৌযান, নৌযান মালিকদের দায়িত্বহীনতা, অদক্ষ চালক এবং কর্তৃপক্ষের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ না করা। প্রতিটি দুর্ঘটনার পর কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারকে সামান্য কিছু আর্থিক সহায়তা প্রদান করেই কর্তৃপক্ষ দায়মুক্তি পেতে চায়। নৌপথে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে দেশে যে আইন রয়েছে তা অতি দুর্বল। এ আইন সংশোধন করা প্রয়োজন। নৌপথের যাত্রাকে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে, যাতে করে দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর না ঘটে।

চাপা দিয়েও গতি কমায়নি জাহাজ’: প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, আশপাশের নৌযান থেকেও লোকজন চিৎকার করছিল, কিন্তু লঞ্চের ওপর উঠে পড়া জাহাজটির গতি কমায়নি। ঘটনার সময় নড়িয়া-৪ নামের আরেকটি লঞ্চে নারায়ণগঞ্জ থেকে মাদারীপুরের দিকে যাচ্ছিলেন যাত্রী রাকিব আল রাজু। ঘটনার বর্ণনায় তিনি বলেন, ২টা ১০ মিনিটের দিকে নারায়ণগঞ্জ নতুন ব্রিজের পাশে পৌঁছার পর দেখি একটি লঞ্চের ওপর জাহাজ তুলে দিয়েছে। লঞ্চের উপরে ওঠার পরও শিপটা স্লো করে নাই। এর কারণ হতে পারে, শিপের পাইলট হয়ত এটা দেখেও নাই। আমরা অনেক চিৎকার করেছি। তাতেও কোনো কাজ হয় নাই। নিজের মোবাইল ফোনে ওই ঘটনার ভিডিও করেন রাজু। সেই ভিডিও ফেইসবুকে দিলে তা ভাইরাল হয়ে যায়। সেখানে দেখা যায়, রূপসী-৯ জাহাজটি একপাশ থেকে চলন্ত লঞ্চটির ওপর চেপে বসে। লঞ্চের আতঙ্কিত যাত্রীরা নদীতে লাফিয়ে পড়তে শুরু করেন। এ অবস্থা চলে প্রায় ২৫ সেকেন্ড। এক পর্যায়ে লঞ্চটি ডুবে যায়।

প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ: প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন লঞ্চের যাত্রীরা। কেউ কেউ সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও অনেকেই নিখোঁজ রয়েছেন। তবে কতজন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন তা নিশ্চিত করে জানাতে পারেনি নৌ-পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও বিআইডব্লিউটিএ।
বাবাা খোঁজে তিন কন্যার আহাজারি: নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন মুন্সিগঞ্জের হাসেম নামের এক ব্যক্তি। লঞ্চডুবির ঘটনা শুনে শীতলক্ষ্যার পাড়ে এসেছেন হাসেমের তিন মেয়ে। বাবা হাসেমের খোঁজে তিন মেয়েকে আহাজারি করতে দেখা গেছে। তাদের আহাজারিতে আশপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

বিআইডব্লিউটিএ

জরুরি যোগাযোগের জন্য হটলাইন: লঞ্চডুবির ঘটনায় জরুরি যোগাযোগের জন্য বিআইডব্লিউটিএ একটি ‘হটলাইন’ খুলেছে। হটলাইনের নম্বর হচ্ছে ১৬১১৩। বিআইডব্লিউটিএর এর উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, সংস্থার প্রধান কার্যালয়ের ষষ্ঠ তলায় ৬১৭ নম্বর কক্ষে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে এই হটলাইন চালু করা হয়েছে। এছাড়া আরও দুটি টেলিফোন নম্বরও দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হল- +৮৮০২২২৩৩৫২৩০৬; মোবাইল- +৮৮০১৯৫৮৬৫৮২১৩। মিজানুর বলেন, এই লঞ্চ দুর্ঘটনা সংক্রান্ত যে কোনো তথ্যের জন্য এই হটলাইন যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

তদন্তে মন্ত্রণালয়ের ৩ সদস্যের কমিটি: লঞ্চডুবির তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আ ন ম বজলুর রশীদকে আহ্বায়ক করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। অন্য দুই সদস্য হলেন- ক্যাপ্টেন আবু সাইদ মোহাম্মদ দেলোয়ার রহমান ও বিআইডব্লিউটিএ এর পরিচালক (নৌনিরাপত্তা ও ট্রাফিক)। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক অফিস আদেশে বলা হয়, কমিটি দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটন এবং দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তি বা সংস্থাকে শনাক্ত করবে। এছাড়া দুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণ করে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করবে।
আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

পালিয়ে যাওয়া জাহাজ মুন্সীগঞ্জে আটক: সিটি গ্রুপের মালিকানাধীন মালবাহী জাহাজটিকে মুন্সীগঞ্জের একটি ডকইয়ার্ড থেকে আটক করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সদর নৌ থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনার পর পরই জাহাজটি নিয়ে পালিয়ে যায় মাস্টার। তারপর জাহাজটিকে মুন্সীগঞ্জের হোসনিবাগ ডকইয়ার্ডে রেখে সবাই পালিয়ে যায়। সেখান থেকেই জাহাজটি আটক করা হয়েছে।

৬ বছরে প্রাণহানি ৩ হাজার ৩৪৫ জনের: দেশে গত কয়েক বছর ধরে নৌ-দুর্ঘটনা ও এতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিসংখ্যান এবং গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী গত ৬ বছরে নৌ দুর্ঘটনায় মারা গেছে ৩ হাজার ৩৪৫ জন। অতীতেও এমন বহু দুর্ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন লঞ্চযাত্রীরা। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে, গ্রেফতারও হয়েছেন দায়ীরা। গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি। কিন্তু অধিকাংশ নৌ দুর্ঘটনাই সীমাবদ্ধ থাকে তদন্ত ও প্রতিবেদন দাখিলেই। তদন্ত প্রতিবেদনগুলোতে ভবিষ্যৎ দুর্ঘটনা এড়ানো জন্য যে সুপারিশ করা হয়, তা আর বাস্তবে রূপ নেওয়ার কোনো নজির দেখা যায়নি। দেশে নৌ দূর্ঘটনার পরিসংখ্যান তুলে ধরে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ দ্য রোড জানিয়েছে, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭১২টি নৌ দুর্ঘটনায় ১৮৮ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৪৬৬ জন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বার্ষিক পরিসংখ্যান তুলে ধরে সেভ দ্য রোড জানায়, নদীপথে ২০১৬ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে ৩ হাজার ৪৮৬টি নৌ দুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয় ৩ হাজার ১১৭ জন। গত ছয় বছরে নৌ দূর্ঘটনায় নিহতের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৪৫ জন।

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ২১ মার্চ ২০২২ । ১ম পৃষ্ঠা

নৌপথে শৃঙ্খলা কি আসবে না?: নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে নৌ-দুর্ঘটনা যেনো থামছেই না। গত বছরের জুলাই মাসের দুর্ঘটনার প্রতিচ্ছবি যেনো রবিবারও দেখল দেশ। দুর্ঘটনার পর রবিবার পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া অন্তত ৬টি প্রাণহীন দেহ আমাদের নতুন করে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে বেশ কিছু পুরোনো প্রশ্নের সামনে। নৌপথে শৃঙ্খলা কি আসবে না? নৌপথে শৃঙ্খলা আনতে হলে ছোট-বড় সব পক্ষকেই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। কিন্তু যত বড় নৌযান, তাদের দায়িত্বশীলতা তত বিস্তৃত হওয়া উচিত। আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষকে। বিশেষত বুড়িগঙ্গা বা শীতলক্ষ্যার মতো সদাব্যস্ত নদীপথে রাতে বা দিনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া চলবে না। বালুবাহী, যাত্রীবাহী, মাছধরা ও খেয়া নৌযানের মধ্যে পারস্পরিক দুর্ঘটনা ঘটছে। সংখ্যায় কম হলেও হতাহতের ঘটনা ঘটছে। মনে রাখতে হবে, এসব ‘ছোট’ দুর্ঘটনায় নির্লিপ্ততাই বড় দুর্ঘটনার ক্ষেত্র প্রস্তুত করে। আমরা নিশ্চয় চাইব, শীতলক্ষ্যার দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পাবে। যে নৌযানের কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেটাকেও আনতে হবে আইনে আওতায়।
নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিতে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা দরকার: গঠিত তদন্ত কমিটি যাতে যথাসময়ে প্রতিবেদন জমা দেয় এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু এসব করেই কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব শেষ হতে পারে না। নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিত করতে নিতে হবে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা। সড়কপথের মতো নৌপথেও নিশ্চয় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে। বড় বড় নদীপথে আমরা বয়া ভাসিয়ে পথ চিহ্নিত করার ব্যবস্থা দেখি। বুড়িগঙ্গা বা শীতলক্ষ্যার মতো নদীপথে দুর্ঘটনা রোধে আরও উদ্ভাবনীমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে এ ধরনের নৌপথে ‘নৌ-ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা’ চালু করা যায় কিনা, ভেবে দেখতে বলি। দেশের অন্যান্য নদীবন্দর ও নদীপথের জন্যও এই সুপারিশমালা প্রযোজ্য। শীতলক্ষ্যার নৌ-দুর্ঘটনাটিই হোক কান্না ও বেদনার শেষ অধ্যায়। সব পক্ষ আন্তরিক হলে তা অসম্ভব হতে পারে না।

ইউডি/সুপ্ত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading