জেফ বেজোস: যার হাত ধরে ই-কমার্সের যাত্রা শুরু
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২২ । আপডেট ১৪:১৫
জেফ বেজোস আমেরিকান বিজনেস ম্যাগনেট, শিল্প উদ্যোগপতি ও সমাজ সেবক। বিশ্বের সব থেকে বড় ই-কমার্স ওয়েবসাইট অ্যামাজন এর প্রতিষ্ঠাতা এবং স্বত্বাধিকারী। ২০১৮ সালে জেফ বেজোস আমেরিকার শীর্ষ ধনী মাইক্রোসফট এর প্রতিষ্ঠাতা ও স্বত্বাধিকারী বিল গেটসকে পিছনে ফেলে প্রথমবার বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনী ব্যক্তির মর্যাদা লাভ করেন। অ্যামাজন কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের সংক্ষিপ্ত জীবনী লিখেছেন মো. সাইফুল অনিক।
বিভিন্ন জিনিস কীভাবে কাজ করে সে সবের প্রকৌশল বিষয়ে ছোটবেলা থেকে আগ্রহী ছিলেন জেফ বেজোস। বেজোস যখন খুবই ছোট, তখন শুধু স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে নিজের সবকিছুকে খুলে বাসা থেকে আলাদা করে রাখার ব্যবস্থা করেছিলেন। হাইস্কুলে প্রবেশের পর বেজোস তার নিজস্ব উদ্ভাবনী প্রতিভার বিকাশে বাসার গ্যারেজকে ল্যাবরেটরিতে পরিণত করেছিলেন।
সংক্ষেপে জেফ বেজোস
জেফ বেজোস একজন আমেরিকান ইন্টারনেট উদ্যোক্তা এবং বিনিয়োগকারী। জেফ একজন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা যিনি ই-কমার্সের বৃদ্ধিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। জেফ বেজোস এর নেতৃত্বে আমাজন.কম ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব এর বৃহত্তম খুচরা বিক্রেতায় পরিণত হয়। ২০১৩ সালে জেফ বেজোস দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকা ক্রয় করেন।
জেফ বেজোসের জন্ম
জেফ বেজোস এর জন্ম ১৯৬৪ সালে ১২ জানুয়ারি আমেরিকার নিউ মেক্সিকো স্টেটের আলবুকার্ক-এ জন্মগ্রহণ করেন। জেফ বেজোসের পিতা টেড জর্গেনসন আর মায়ের নাম জ্যাকলিন গ্রীস জর্গেনসন। জেফ বেজোসের মা খুব অল্প বয়সেই তাকে জন্ম দেন। জেফ বেজোস এর জন্মের সময় তার মায়ের বয়স ছিল ১৭ বছর। তার মা তখনো স্কুলের শিক্ষাজীবন শেষ করেননি। জেফ বেজোস অল্প বয়স থেকেই সবকিছুকে খুব নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ করত। তার পিতা গ্যারেজে কাজ করতেন। সেখানে তার বাবার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে বিভিন্ন জিনিস খোলা এবং লাগানোর চেষ্টা করতেন। বেজোস এর পিতা তাকে তার আগ্রহের কাজে সব সময় অনুপ্রাণিত করে গেছেন।
শিক্ষাজীবনে পার্ট টাইম চাকরি
জেফ বেজোস পড়াশোনায় খুবই অসাধারণ ছিলেন। তিনি মাত্র ফোর্থ স্ট্যান্ডার্ড এ পড়ার সময় তার প্রথম কোম্পানি তৈরি করেন। ড্রীম ইনস্টিটিউট নামে তার কোম্পানি এডুকেশনাল সামার ক্যাম্প পরিচালনা করত। পরবর্তীতে কর্মসূত্রে তার পরিবার মিয়ামি ফ্লোরিডা তে চলে আসেন। সেখানে জেফ বেজোস অধ্যায়ন শুরু করেন মিয়ামি পল মেট্রো হাই স্কুলে। এই স্কুলে পড়াশোনার সময় তিনি সামার ভ্যাকেশনে ম্যাকডোনাল্ড রেস্টুরেন্টে পার্ট টাইম শেফের কাজ করতেন।
তার অসাধারণ প্রতিভার জন্য স্কুলে থাকাকালীন স্টার লেক্স ও সিলভার নাইট মেডেল অর্জন করেন। অসাধারণ প্রতিভা ও তার আগ্রহের জন্য তাকে মহাকাশ গবেষণা বিষয়ক প্রতিষ্ঠানে সুযোগ দেয়া হয়। সেখানেও তিনি তার মেধার জন্য প্রশংসিত হন।
উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবন
ছোটবেলা থেকেই জেফ বেজোসের কম্পিউটারের প্রতি খুবই আগ্রহ ছিল। আর তার জন্যই তিনি সেই সময়ের নামকরা প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটিতে এডমিশন নেন, সেখানে তিনি ডিগ্রী অর্জন করেন। কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর উপরে, গ্রাজুয়েশন শেষ করার পরে তিনি নিউইয়র্ক শহরের ওয়াল স্ট্রিটে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তিনি তার কর্ম দক্ষতা ও সততার জন্য খুব দ্রুততার সাথে পদোন্নতি অর্জন করেন। মাত্র ৩০ বছর বয়সেই বেজোস ডি ই শো কোম্পানিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হন, এত কম বয়সে তার অর্জিত অর্থের পরিমাণ প্রচুর হয়ে দাঁড়ায়।
আমাজন প্রতিষ্ঠা
জেফ বেজোস ৫ জুলাই ১৯৯৪ সালে তার বাড়ির গ্যারেজে অ্যামাজন কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। অ্যামাজন কোম্পানি হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো অনলাইন শপিং ওয়েবসাইট বা সংস্থা। কিন্তু একটা সময় তার ব্যবসায়ে বিনিয়োগের জন্য তিনি বিভিন্ন বড় বড় আর্থিক বিনিয়োগ কোম্পানর কাছে ছুটেছিলেন। কিন্তু তিনি কোনো বিনিয়োগ টানতে সমর্থ হননি। কারণ তিনি যে ব্যবসায়ীকেই তার পরিকল্পনার কথা বলেছেন তার সাথে সাথে তিনি এটাও বলেছেন যে, তার এই ব্যবসায় লাভবান হওয়ার আসা মাত্র কুড়ি শতাংশ, লস হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ৮০%। কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন তার আগে অনলাইনে বই বিক্রির এই প্রচেষ্টা কেউ করেনি। তাই তার কাছে কোনো পুরনো ব্যবসার উদাহরণ নেই।
ব্লু অরিজিন কোম্পানি
জেফ বেজোস ২০০০ সালে ব্লু অরিজিন প্রতিষ্ঠিত করেন। ব্লু অরিজিন সংস্থাটির নেতৃত্বে রয়েছেন সিইও বব স্মিথ। ব্লু অরিজিন এর লক্ষ্য হলো পুনরায় ব্যবহারযোগ্য উৎক্ষেপণ যানগুলির মাধ্যমে মহাকাশ ভ্রমণ সুলভ ও আরও নির্ভরযোগ্য করে তোলা। ব্লু অরিজিন আমেরিকান বেসরকারীভাবে অর্থায়িত এ্যারোস্পেস প্রস্তুতকারক ও উপ-কক্ষপথীয় মহাকাশ উড্ডয়ন পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা, যার সদর দফতর ওয়াশিংটনের কেন্টে অবস্থিত।
জেফ বেজোসের মহাকাশ যাত্রা
জেফ বেজোস নিজস্ব ব্লু অরিজিন সংস্থার তৈরি ‘নিউ শেপার্ড বুস্টার’ রকেটে চেপেই ২০ জুলাই ২০২১ সালে মহাকাশে যান। পশ্চিম টেক্সাসের একটি মরুময় উঁচু স্থান থেকে রওনা দিয়ে মাত্র ১০ মিনিট ২০ সেকেন্ডের এই মহাকাশ যাত্রায় বেজোসের সহযাত্রী ছিলেন তার ভাইসহ আরও দুইজন। ভ্রমণ শেষে প্যারাসুটে করে তারা নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন।
তার ভবিষ্যত পরিকল্পনা
তার লক্ষ্য মহাকাশে মানুষের বসবাসযোগ্য উপনিবেশ তৈরি করা। ভবিষ্যতে পেল্লায় সব সিলিন্ডারের মধ্যে মানুষ ভরে মহাকাশে পাঠানো হবে। কৃত্রিম উপায়ে সেই সিলিন্ডারে তৈরি করা হবে পৃথিবীর আবহাওয়া। আগামী দিনে মহাশূন্যে পুরোদস্তুর একটি দুনিয়াও বানিয়ে ফেলা অসম্ভব হবে না বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। মহাকাশে বহু মানুষের জন্ম হবে। সেটাই হবে তাদের জন্মভূমি। আর পৃথিবী তাদের কাছে হবে ঘুরতে আসার জায়গা।
ইউডি/অনিক

