শিশুদের সুন্দর আগামীর জন্য আজীবন সচেষ্ট ছিলেন বঙ্গবন্ধু
ফারিহা হোসেন । মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২ । আপডেট ০৯:৫০
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন শিশুদের ভালোবাসতেন। কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন, আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। আগামী দিনে দেশ গড়ার নেতৃত্ব দেবে শিশুরাই। তাই তাদের গড়ে তুলতে হবে আগামীর উপযোগী করে। যখন তিনি বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠেননি, একজন নেতা হয়ে উঠছেন কেবল, তখনো তিনি তার পরিকল্পনায় শিশুবান্ধব সিদ্ধান্ত রাখতেন বলে জানিয়েছেন তার সহযোদ্ধারা। শিশুরা সৃজনশীল এবং মুক্তমনের মানুষ হিসেবে গড়ে উঠুক- সেটি ছিল তার প্রত্যাশা। স্বাধীন বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় কাজে যখন ব্যস্ত হয়ে ওঠেছেন, তখনো তিনি শিশুদের সঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করতেন। শিশুদের যেকোনো সমাবেশে গেলে বা শিশুরা গণভবনে তার কাছে গেলে, তিনি শিশুর মতো তাদের সঙ্গে মিশে যেতেন।
সব শিশুর জন্য তার দরজা ছিল অবারিত। শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানো, তাদের জন্য কিছু করার আগ্রহ ছিল তার প্রবল। সেজন্য তিনি ভেবেছিলেন শিশুদের সুরক্ষায় পূর্ণাঙ্গ একটি আইন থাকা জরুরি। আর সেই পথ ধরেই ১৯৭৪ সালের ২২ জুন জাতীয় শিশু আইন প্রণয়ন করা হয়। কারণ বঙ্গবন্ধু জানতেন শিশুদের সুনাগরিক হিসেবে তৈরি করতে পারলেই আগামী দিনে তিনি পাবেন একটি সৎ এবং সাহসী জাতি। বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা কালে কচিকাঁচার মেলা, খেলাঘরসহ অন্যান্য শিশু সংগঠনের অনুষ্ঠান এবং সমাবেশে বেশ আগ্রহ নিয়ে যেতেন। বিভিন্ন কাজে বঙ্গবন্ধু যখন গ্রামেগঞ্জে যেতেন, তখন চলার পথে শিশুদের দেখলে গাড়ি থামিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলতেন। খোঁজখবর নিতেন। দুস্থ ও গরিব শিশুদের দেখলে কাছে টানতেন।
এটা চিরন্তন সত্য যে, শিশুরা সব সময় স্বপ্নের জগতে বাস করে আর স্বপ্ন বাস করেছিল বঙ্গবন্ধুর জীবনেও। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে তার স্বপ্ন আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশের আপামর মানুষের মাঝে বিস্তার ঘটিয়েছিলেন। তার স্বপ্ন ও আদর্শ অনুপ্রাণিত করেছে মানুষকে। বঙ্গবন্ধু তার সারা জীবনের অভিজ্ঞতা, মেধা, জ্ঞান, অধ্যবসায়, পরিশ্রম ও শিক্ষা দিয়ে স্বপ্নকে জয় করেছেন। স্বপ্ন আর আর্দশ এবং বাঙালির স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা অর্জনের আন্দোলন, সংগ্রাম মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে তাকে সাফল্যের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে। একজন মানুষের জীবন তখনই সফল হয়, যখন তিনি তার লালিত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদান করেন। এই অর্থে বঙ্গবন্ধুর জীবন সফল।
ইউডি/সুস্মিত

