সঠিক সূত্র হোক নির্ভরযোগ্য তথ্য গ্রহণের উৎস

সঠিক সূত্র হোক নির্ভরযোগ্য তথ্য গ্রহণের উৎস

ওমর ফারুক দেওয়ান । শনিবার, ১১ জুন ২০২২ । আপডেট ১৭:৪০

কোনো কিছু সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে সে সম্পর্কিত বিভিন্ন উপাত্তকে যৌক্তিক পরিসজ্জায় উপস্থাপনকেই তথ্য বলে। বিভিন্ন উপাত্তকে ‘ডাটা’ বলা হয়, তা প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিচালন এবং একত্রিতকরণের মাধ্যমে প্রাপ্ত ফলাফলকে তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। উপাত্ত বা ডাটা হলো তথ্যের ক্ষুদ্রতম একক, যা এলোমেলো বা অগোছালো কয়েকটি অক্ষর, সংখ্যা, চিহ্ন বা যে কোনো কিছু হতে পারে। এগুলো যথাযথভাবে উপস্থাপন করলে একটি অর্থ প্রকাশ করে, যা থেকে কোনো কিছু সম্পর্কে জ্ঞান বা ধারণা লাভ করা যায়। তথ্য মানব সভ্যতার উন্নয়নের পরতে পরতে মিশে আছে। সঠিক তথ্য ব্যতীত কোনো পরিকল্পনাই সফল হয় না। ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি, শিক্ষা-চিকিৎসা, উৎপাদন-বিপণন, অর্থনীতি-সমরনীতি প্রতিটি ক্ষেত্রেই তথ্যের প্রয়োজন। তথ্য ব্যতীত মানব জীবন এক প্রকার অচল। তাই বলা হয় ‘তথ্যই শক্তি’। আর সেই তথ্যের প্রবাহ অবারিত না হলে কোনো পরিকল্পনাই গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। তাই বিশ্বব্যাপী আওয়াজ উঠেছে তথ্য প্রকাশ করতে হবে, তথ্য আদানপ্রদানের মাধ্যমে পরস্পরকে সহযোগিতা করতে হবে।

তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে তথ্য অধিকার আইন করা হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানে চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতা নাগরিকের অন্যতম মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত এবং তথ্য প্রাপ্তির অধিকার চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণের ক্ষমতায়নে তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের জন্য অত্যাবশ্যকীয়। জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা হলেই সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থা এবং সরকারি ও বিদেশি অর্থায়নে সৃষ্ট বা পরিচালিত বেসরকারি সংস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধি পাবে, দুর্নীতি হ্রাস পাবে ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। তথ্য অধিকার আইনে বর্ণিত কর্তৃপক্ষের নিকট হতে প্রত্যেক নাগরিকের তথ্য লাভের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ‘তথ্য সরবরাহ করতে বাধ্য’ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তথ্য প্রদানের জন্য তথ্যের ক্যাটালগ ও ইনডেক্স তৈরি করে রাখতে বলা হয়েছে, ওয়েবসাইটে প্রদর্শনের কথা বলা হয়েছে।

রাষ্ট তথ্য লাভের অধিকার নিশ্চিত করলেও নাগরিক কতটুকু তথ্য সংগ্রহ করে জীবনমান উন্নয়ন করতে পেরেছে, সেটা বিবেচ্য বিষয়। ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠিত হওয়ায় সরকারের কম-বেশি সকল তথ্যই এখন ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে। আপনি যে পেশাতেই থাকেন না কেন, পেশার উৎকর্ষ সাধনের জন্য তথ্য জানা আপনার দরকার। ধরুন, আপনি গ্রামের কৃষক, ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করাচ্ছেন। ভালো কৃষিপণ্য, কৃষিবীজ কোথায় পাওয়া যায়; সার-বীজ-মাটির গুণাগুণ দেখে ফসল উৎপাদন; কোনো মার্কেটে আপনার উৎপাদিত ফসলের দাম কত, সরকার আপনাকে কী কী সুবিধা দিচ্ছে, আপনার পণ্যটি বিদেশে রপ্তানি করা যায় কি-না, চাষবাস, সংরক্ষণ পদ্ধতি; ইত্যাদি সকল বিষয়ই ওয়েবসাইটে পাবেন। কৃষক হিসেবে আবহাওয়ার আগাম বার্তা জানা অত্যাবশ্যক। আপনি মোবাইল থেকে ১০৯০ নম্বরে কল করে আগাম বার্তা জেনে নিতে পারেন। ছেলেমেয়েদের স্কুল-কলেজে ভর্তি, চাকরির আবেদন, কোথায় কোন চাকরির সুযোগ আছে ইত্যাদিও নেটে অবারিত আছে। ছেলেমেয়েরা চোখ-কান একটু খোলা রাখলে তারা দেশবিদেশেও লেখাপড়া, চাকরির সুযোগ করে নিতে পারে। আপনি যে পেশার মানুষই হোন, আপনার জানার বিষয়টি গুগলে লিখে সার্চ করুন। দেখবেন, শতশত তথ্য আপনার সামনে এসে ধরা দিয়েছে। তবে, সমস্যা হলো প্রচুর তথ্য হাতের নাগালে থাকলেও আমরা সেটার সন্ধান না করে অনেক সময় বিভ্রান্ত হই।

একটা বিষয় আমাদের জানা দরকার, সরকারের সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগের ওয়েবসাইটে নাগরিকের প্রয়োজনীয় সকল তথ্যই দেওয়া আছে। সরকার তথ্য বাতায়ন করেছে। এতে পুরো দেশের সকল অফিসের ঠিকানা, কর্মকর্তাদের তালিকা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম, কীভাবে তথ্য প্রদান করা হয় ইত্যাদি বিস্তারিত উল্লেখ আছে। আমাদের কাজ সে তথ্য সংগ্রহ করে নিজের উন্নয়ন সাধন করা। ডিজিটাল বাংলাদেশের কারণে বিশ্বের সকল তথ্যই এখন হাতের মুঠোয়। আপনার হাতে একটা এনড্রয়েড মোবাইলও আছে, কিন্তু আপনি ব্যবহার করছেন না। সরকার অনেকগুলো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব প্রকল্পের তথ্য ওয়েবসাইটে রয়েছে। এখান থেকে কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে তার আলোকে আমরা আগামী দিনের পরিকল্পনা করতে পারি। হাতের মোবাইলেই পুরো বিশ্বের তথ্য মজুদ আছে। সেগুলো বের করে নিজের প্রয়োজন মতো ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তথ্য জানার পরিধি বাড়াতে হবে। তবে তথ্য জানায় একটু সতর্কতাও থাকা লাগবে। কারণ, কিছু দুষ্টলোক কিছু বিভ্রান্তিমূলক তথ্যও নেটে ছড়িয়ে রেখেছে। বিভিন্ন ধরনের গুজব ও অপপ্রচারে লিপ্ত আছে তারা। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমে উস্কানি দিচ্ছে এরা। আপনি একটু মনযোগ, চিন্তা ও বিবেক দিয়ে পর্যবেক্ষণ করলেই কোনোটা সঠিক তথ্য আর কোনোটা গুজব, অপপ্রচার বা উস্কানিমূলক তথ্য তা সহজেই বুঝা যায়। এসব তথ্য যাচাই বাছাই করে গ্রহণ করতে হবে। সঠিক সূত্র থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য গ্রহণ করতে হবে।

লেখক- কলামিস্ট।

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading