বাঙালির সক্ষমতার প্রতীক পদ্মা সেতু

বাঙালির সক্ষমতার প্রতীক পদ্মা সেতু

ড. মো. নাছিম আখতার । রবিবার, ১২ জুন ২০২২ । আপডেট ১২:৩৫

প্রমত্তা পদ্মার বুকে সেতুর স্বপ্ন এখন আর স্বপ্ন নয়। পদ্মা নদীর ওপর প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু এখন পূর্ণ অবয়বে দৃশ্যমান। দিন গুনছে ২৫ জুন ২০২২ উদ্বোধনের অপেক্ষায়। যারা বলেছিলেন পদ্মার বুকে সেতু হবে না, তারা আজ দেখে যাক—বাঙালি পারে। যেদিন বিশ্বব্যাংক মিথ্যা অপবাদ দিয়ে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন থেকে সরে এসেছিল, সেদিন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছিলেন নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু হবে। পদ্মা সেতু আজ বাস্তব। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে এনে দিয়েছে ভিন্ন এক পরিচিতি। বিশ্ববাসী জেনেছে বাঙালি তথা বাংলাদেশিদের সক্ষমতার কথা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্ব, দেশের প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসা, সাহসিকতা ও প্রজ্ঞার কারণেই দেশি-বিদেশি সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে পদ্মার বুকে নির্মিত হলো সেতু।

এটি কি শুধুই সেতু? মোটেও নয়—এটি বাঙালির সক্ষমতার প্রতীক। একসময়ের স্বপ্নের সেতু এখন দৃষ্টিসীমায় দিগন্ত জুড়ে দাঁড়িয়ে আছে। পদ্মার তীর থেকে দেখা যাচ্ছে পিলারের দীর্ঘ সারি। পদ্মা সেতুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ১৭ কোটি মানুষের হূদয়ের আবেগ, আশা ও অনুভূতি। চ্যালেঞ্জকে জয় করার অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রমাণ এই পদ্মা সেতু। নির্মিত সেতুটি উন্মুক্ত করেছে দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক উন্নয়নের দুয়ার। ২০১২ সালে বিশ্বব্যাংক অর্থায়নের সিদ্ধান্ত বাতিল করার পর সরে যায় আন্তর্জাতিক আরো তিনটি সংস্হা; এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক। পরের ইতিহাস আমাদের জানা। কথায় আছে ‘রক্ত কথা বলে’। সাহসী পিতার সাহসী কন্যা সব বাধা উপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের দুঃসাহসিক চ্যালেঞ্জ নেন। কেটে যায় জাতির ভাগ্যাকাশের কালো মেঘের ঘনঘটা। দিগন্ত আলোকিত করে বাংলার আকাশে হেসে উঠে বিজয়ের সূর্য। সেতু নির্মাণের কর্মযজ্ঞের মধ্য দিয়ে শুরু হয় স্বপ্নের বীজ বোনা। পদ্মা সেতুর স্বপ্নকে যারা বাস্তব রূপ দিতে চাননি, যারা চক্রান্ত করেছিলেন, দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন তারা স্তব্ধ হয়ে যান ২০১৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি। ঐ দিন কানাডার অন্টারিওর সুপিরিয়র কোর্ট অব জাস্টিসের বিচারক আয়ান নর্ডেইমারের রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ কলঙ্কমুক্ত হয়। ভেস্তে যায় কুচক্রীদের সব ষড়যন্ত্র। স্বপ্নের পদ্মা সেতু নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সিদ্ধান্তে ছিলেন অটল। তিনি বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। আজ সত্যিই বিশ্ব অবাক বিস্ময়ে বাংলাদেশ ও প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাচ্ছে।

পদ্মা সেতুর মতো একটি বড় প্রকল্প বাংলাদেশের পক্ষে একা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না বলে যারা ধরে নিয়েছিলেন, তারা আজ অবাক বিস্ময়ে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে কল্পনা আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। এ সফলতা সহজে আসেনি। আর্থিক সংকট, আর্থিক ব্যবস্হাপনায় চ্যালেঞ্জ, বিশ্বাস, মনোবল ইত্যাদি ছাড়াও বহুবিধ অপ্রত্যাশিত সমস্যা সামাল দিতে হয়েছে সরকারকে। অবশেষে প্রধনমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় মনোবল, প্রজ্ঞা ও সততার কাছে হার মেনেছে সব বাধাবিপত্তি। আবারও প্রমাণিত হলো, বাঙালি যেমন স্বপ্ন দেখতে জানে, তেমনি জানে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে। একদিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপ্ন দেখেছিলেন, পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ফেলার। তার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও ত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা মুক্ত, স্বাধীন সার্বভৌম দেশের নাগরিক। আমাদের প্রধানমন্ত্রী স্বপ্ন দেখেছেন উন্নত বাংলাদেশের। তারই ধারাবাহিকতার ফসল পদ্মা সেতু। যা আজ বিশ্বের বুকে বাঙালির সক্ষমতার জানান দিচ্ছে। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গর্বিত দেশ ও দেশের মানুষ। তিনি বিশ্বের আট শত কোটি মানুষকে দেখিয়েছেন ‘যদি লক্ষ্য থাকে অটুট, বিশ্বাস হূদয়ে, হবেই হবেই দেখা, দেখা হবে বিজয়ে’। দেশের স্বার্থেই এমন নির্মোহ, সাহসী ও প্রাজ্ঞ রাষ্ট্রনায়কের সুস্বাস্হ্য ও দীর্ঘ জীবন আপনার আমার সবার কাম্য।

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading