কঠোর উদ্যোগই পারে স্বর্ণ চোরাচালান রোধ করতে

কঠোর উদ্যোগই পারে স্বর্ণ চোরাচালান রোধ করতে

মেজবাহ ইসলাম । সোমবার, ২৭ জুন ২০২২ । আপডেট ১০:৪০

দেশে কোনোভাবেই স্বর্ণ চোরাচালান রোধ করা যাচ্ছে না। কিছুদিন পরপরই ধরা পড়ছে স্বর্ণের বার। এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, সৌদি আরবের জেদ্দায় তিন কোটি টাকার স্বর্ণ ও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাসহ ফ্লোরা নামে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক কেবিন ক্রু আটক হয়েছেন। গত ১৩ জুন রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটে ওঠার আগ মুহূর্তে তাকে আটক করে সৌদি পুলিশ। এ ঘটনায় আটক ফ্লোরাকে গ্রাউন্ডেট করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।

আমাদের দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে স্বর্ণের ছোট বড় চালান আসছে, ফাঁক গলে বের হয়ে যাচ্ছে, মাঝে মাঝে দু’একটি চালান ধরাও পড়ছে। শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেছেন, দেশে সোনার চাহিদা বছরে ১৬ থেকে ২৬ টন। কিন্তু এর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি স্বর্ণ অবৈধ পথে দেশে আসছে। পাঁচটি স্বর্ণের চালান এলে ধরা পড়ে মাত্র একটি। এ ক্ষেত্রে কাজ করছে বড় ধরনের দেশি ও বিদেশি সিন্ডিকেট। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক চক্র বাংলাদেশকে স্বর্ণ চোরাচালানের বড় ধরনের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। এর আগে এমন খবরও সামনে এসেছে, যাদের চোরাচালান রোধ করার দায়িত্ব তাদের মধ্যেও কেউ কেউ অবলীলায় জড়িয়ে পড়ছে স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের সঙ্গে। চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকটি চক্রের সন্ধান পেয়েছিল গোয়েন্দারা।

বাংলাদেশকে যেভাবে স্বর্ণ চোরাচালানের রুট হিসেবে ব্যবহার করতে চোরাচালানকারীরা তৎপর তা বিভিন্ন সময়ের ঘটনা থেকেই স্পষ্ট হয়। এর আগেও হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে বিভিন্ন সময়ে সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। প্যান্টের ভেতর, কম্বলের ভেতর কিংবা বিমানের টয়লেটে, এমনকি যাত্রীর জুতায়, মানিব্যাগে, লাগেজে, হ্যাঙ্গার গেটে সর্বত্রই পাওয়া গেছে সোনার বার বিভিন্ন সময়ে। এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে তলস্নাশি চালিয়েও উদ্ধার করছে স্বর্ণের বার। দেশের সীমান্ত এলাকায়ও ধরা পড়ছে স্বর্ণের চোরাচালান। আমরা মনে করি, এ ধরনের ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর হতে হবে। কেননা, এমন ঘটনা ঘটতে থাকলে তা দেশের জন্য বিপজ্জনক। এটা দেশের ভাবমূর্তিরও প্রশ্ন।

ঢাকার শাহজালাল, চট্টগ্রামের শাহ আমানত এবং সিলেটের ওসমানী এই তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বহুবার স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ আছে, বিমানবন্দরে কর্মরত কিছু ব্যক্তি আন্তর্জাতিক মাফিয়াচক্রের স্থানীয় এজেন্ট ও ক্যারিয়ার হিসাবে কাজ করছেন। অর্থাৎ এদেশীয় এজেন্টদের সহায়তায়ই আন্তর্জাতিক মাফিয়াচক্র বিমানবন্দরে সোনার চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করছে। বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়েই তাদের এ সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। আর মাফিয়াচক্র গড়ে উঠেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেট নিয়ে।
শর্ষের ভেতর ভূত থাকলে যে কোনো অপরাধই দমন করা কঠিন। এ ভূত তাড়ানো দরকার যে কোনো উপায়ে। এজন্য প্রয়োজনে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করতে হয়। তবে প্রথমেই বিমানবন্দরে নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। স্বর্ণ চোরাচালানের ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। স্বর্ণ চোরাচালান রোধে দেশের ব্যাগেজ রুলেও পরিবর্তন আনা উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বর্ণ চোরাচালান ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। যারা স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত তারা রাতারাতি ধনী হতে চায় এবং তারা দেশ ও জাতির শত্রম্ন, মানুষের শত্রম্ন। কেননা, এর ফলে দেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়। যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা মনে করি, এটা খুবই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি এবং এ পরিস্থিতির অবসান হওয়া জরুরি। দেশ থেকে চোরাচালান একেবারেই বন্ধ হোক এমনটি সবার কাম্য। আর সে জন্য সক্রিয় হতে হবে সরকারসহ সংশ্লিষ্টদেরই। আমরা মনে করি, স্বর্ণ চোরাচালানসংক্রান্ত সামগ্রিক পরিস্থিতি আমলে নিতে হবে এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সরকারের পরিকল্পিত ও কার্যকর কঠোর উদ্যোগই কেবল পারে স্বর্ণ চোরাচালান রোধ করতে। স্বর্ণ পাচারের মূল হোতারা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। স্বর্ণ চোরাচালান রোধ করতে হবে যে কোনো উপায়ে।

লেখক- কলামিস্ট।

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading