প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইন্ডিয়া সফর: গুরুত্ব পাবে যে সকল বিষয়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইন্ডিয়া সফর: গুরুত্ব পাবে যে সকল বিষয়

উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ৩০ আগস্ট ২০২২ । আপডেট ১১:২৫

প্রায় তিন বছর পর রাষ্ট্রীয় সফরে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ইন্ডিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার এবারের সফর ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। মোদি সরকারও এই সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। এর অন্যতম কারণ হলো ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ঢাকাকে নিজেদের সবচেয়ে ‘বিশ্বস্ত বন্ধু’ বলে মনে করছে নয়াদিল্লি। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর দুই প্রধানমন্ত্রীর একান্ত বৈঠক ও প্রতিনিধি দল পর্যায়ের বৈঠক হবে। এই বৈঠকে বাণিজ্যিক, সামরিক, পানিবন্টনসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে। বিস্তারিত লিখেছেন মিলন গাজী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বশেষ ২০১৯ সালের অক্টোবরে ইন্ডিয়া সফর করেন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে হয়তোবা এটাই তার সর্বশেষ ইন্ডিয়া সফর হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সর্বোচ্চ অবস্থানে আছে ইন্ডিয়া। প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, স্থল ও পানিসহ নানান বিষয়ে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর এবাবের এই সফর দুদেশের সম্পর্ককে আরও গতিশীল করবে বলে বিশ্বাস করছেন কূটনীতিকগণ। আর ইন্ডিয়াও শেখ হাসিনার এই সফরকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। উল্লেখ্য, মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ইন্ডিয়ার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০২১ সালের মার্চে সর্বশেষ বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন।

গুরুত্ব পাচ্ছে যৌথ পানি-বণ্টন পানি ব্যবস্থাপনা: ইন্ডিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে বয়ে যাওয়া তিস্তা নদীর পানি ঢাকার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক এই নদীর পানির ন্যায্য পাওনা নিশ্চিতে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা চালালেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ইন্ডিয়া সফরের এজেন্ডায় তিস্তার বাইরেও থাকছে দুই দেশের মধ্যে যৌথ পানি-বণ্টনের বিষয়টি। মূলত প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন এই সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে যৌথ পানি-বণ্টন এবং পানি ব্যবস্থাপনার বৃহত্তর ইস্যুতে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইন্ডিয়া ও বাংলাদেশ। সোমবার (২৯ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ইন্ডিয়ার সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি মূলত রাজনৈতিক শর্তের বেড়াজালে আটকে রয়েছে। আর তাই আগামী ৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ইন্ডিয়ার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের সময় দুই দেশের মধ্যে যৌথ পানি-বণ্টন এবং পানি ব্যবস্থাপনার বৃহত্তর ইস্যুতে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত ও বাংলাদেশ।

মমতা ব্যানার্জি

টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, ইন্ডিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে যা সীমান্তের উভয় পাশের মানুষের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। আর তাই আসন্ন এই সফরে (ত্রিপুরা থেকে প্রবাহিত) মুহুরি এবং ফেনী (ত্রিপুরায়)-কুশিয়ারা (বাংলাদেশে) মতো অন্যান্য বড় নদীগুলোর বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে কাজ করছে দেশ দু’টি। এছাড়া ২০২৬ সালে গঙ্গার পানি চুক্তি নবায়নের বিষয়েও কাজ করছে প্রতিবেশী এই দুই দেশ।
তিস্তা ইস্যু ছাড়াও ছয়টি অভিন্ন নদী – মনু, মুহুরি, খোয়াই, গোমতী, ধরলা এবং দুধকুমার – নদীর পানি-বণ্টন নিয়ে আসন্ন সফরে একটি কাঠামো চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে বাংলাদেশের। এছাড়া গঙ্গার পানি-বণ্টন চুক্তির পুনরায় নয়ায়ন সংক্রান্ত বিষয়টিও এসময় গুরুত্ব পাবে। ঢাকার একটি সূত্রের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, বৈঠকে দুই পক্ষই গঙ্গার পানি ব্যবহার নিয়ে একটি যৌথ সমীক্ষা এবং কুশিয়ারা নদীর পানি প্রত্যাহারের বিষয়ে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আলোচনায় গুরুত্ব পাবে সামরিক খাতও: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবারের ইন্ডিয়া সফরে যেসব বিসয় আলোচনায় আসবে তার মধ্যে আছে সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় অন্যতম। সামরিক সরঞ্জাম ইস্যুতে ২০১৯ সালে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি হয়৷ ইন্ডিয়া ৫০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে৷ ওই ঋণের আওতায় ইন্ডিয়া থেকে সামরিক সরঞ্জাম কিনবে বাংলাদেশ৷ গত জুলাইয়ে ইন্ডিয়ার সেনাপ্রধান যখন ঢাকা সফর করেন তখন তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন৷ সাক্ষাতে বিষয়টি ওঠে বলে জানা যায়৷ মেরিটাইম সিকিউরিটির জন্য ইন্ডিয়া থেকে রাডার ক্রয় নিয়েও কথা হবে৷ উপ-আঞ্চলিক এনার্জি হাব গঠন নিয়ে কথা হবে৷ আর সেটা হলো বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া, নেপাল, ভুটানকে নিয়ে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প৷ এর নেতৃত্বে রয়েছে ইন্ডিয়া৷ বাংলাদেশ নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আনতে চায়৷ একই সঙ্গে এই অঞ্চলে জ্বালানি নিরাপত্তা কানেকটিভিটি বিষয়টি নিয়ে যৌথভাবে কাজ করতে চায় বাংলাদেশ৷

সেপা নিয়ে উচ্ছ্বসিত দু’দেশ: এবারের সফরের অর্থনেতিক বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সমন্বিত বাণিজ্য চুক্তি, সেপা (কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট)৷ এই চুক্তি হলে ইন্ডিয়া ও বাংলাদেশের পণ্য দুই দেশে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুবিধা পাবে৷ বাংলাদেশ এরইমধ্যে এই চুক্তি অনুমোদন করেছে৷ এর সঙ্গে বাংলাদেশ এন্টি ডাম্পিং নীতি নিয়েও কথা বলবে৷ বাংলাদেশের দিক দিয়ে সেপা চুক্তিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে৷ পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে৷

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় যৌথ ব্যবস্থাপনায় নজর: দুই দেশের মধ্যে একটি পানি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনার সাথে উভয় সরকারই অভিন্ন নদীর পানি সম্পদ সম্পর্কিত তথ্য আদান-প্রদান, বন্যার তথ্য আদান-প্রদান এবং বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো এই অঞ্চলের সাধারণ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য যৌথ ব্যবস্থাপনার দিকে নজর দিচ্ছে। ইন্ডিয়ার প্রভাবশালী এই সংবাদমাধ্যমটি বলছে, বাংলাদেশের সাথে তিস্তা নদীর পানি বণ্টনের বিষয়টি এখনও ইন্ডিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গের মমতা ব্যানার্জি সরকারের মধ্যে অভ্যন্তরীণভাবে বিতর্কিত ইস্যু হিসেবেই রয়ে গেছে। এদিকে নরেন্দ্র মোদি- শেখ হাসিনার মধ্যকার আসন্ন বৈঠকের আগে উভয় দেশের যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) গত মঙ্গলবার ইন্ডিয়ায় আলোচনা শুরু করেছে। ২০১০ সালের পর এবারই প্রথমবারের মতো এই বৈঠক হয়। জেআরসির সচিব পর্যায়ের এই বৈঠকের পর আগামী বৃহস্পতিবার ইন্ডিয়া ও বাংলাদেশের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।

তিস্তার জট ভাঙবে কী?
প্রায় এক দশক ধরে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি আটকে আছে একই বৃত্তে। তিস্তার এ জট খোলার বিষয়ে বারবার আশ্বস্ত করেছে ইন্ডিয়া। কিন্তু সেই আশ্বাস পর্যন্তই, যে বৃত্তে আটকে আছে বহুল প্রত্যাশিত চুক্তি সেটি কোনোভাবেই ভাঙছে না; কাটছে না অনিশ্চয়তার মেঘ। এবারও কী সেই জট আটকেই থাকবে, প্রশ্ন থেকে যায়। দুই দেশের যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) বৈঠকে তিস্তার জট খোলা নিয়ে আশ্বাস দিয়েছে ইন্ডিয়া। নয়াদিল্লি ঢাকাকে বার্তা দিয়েছে, তিস্তার সুরাহার বিষয়ে তাদেরও উদ্বেগ রয়েছে। তবে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাগে না আনা পর্যন্ত তিস্তার বিষয়ে নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আশার কথা হচ্ছে, নয়াদিল্লির তরফ থেকে তিস্তা নিয়ে মমতার সঙ্গে আলোচনায় বসার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এদিকে, সোমবার (২৯ আগস্ট) পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন প্রধানমন্ত্রীর নয়াদিল্লি সফরে তিস্তা তোলা হবে কি না- প্রসঙ্গে বলেন, আমরা তো অবশ্যই চাইব তারা (ইন্ডিয়া) তাদের ফর্মালিটিজগুলো শেষ করে এটা অ্যানাউন্স (ঘোষণা) করবে। প্রত্যাশা তো আমাদের সবসময় থাকবে। সুতরাং আমরাও বিষয়টা তুলব।

মাসুদ বিন মোমেন আরও বলেন, আগে যেসব বিষয় ইমপ্লিমেনটেশন হয়নি, ওগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। যেগুলোতে অগ্রগতি হয়েছে, সেগুলোও আমরা অ্যাসেস করে দেখব এবং সামনে আর কোন কোন বিষয়ে সহযোগিতা হতে পারে, সে বিষয়টাও আমরা দেখব। সুতরাং সেই অর্থে যেকোনো পার্টিকুলার এজেন্ডা আছে এ রকম কিছু না। সর্বোচ্চ লেভেলে আমরা বছরে একবার বসলে সব বিষয়ে আলোচনা করি।
৩১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ তিস্তা নদী তিস্তা কংশে হিমবাহে উৎপন্ন হয়েছে এবং বাংলাদেশে প্রবেশের আগে নদীটি ইন্ডিয়ার সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ১৯৪৭ সালে তিস্তার মূল এলাকাগুলো ইন্ডিয়াকে বরাদ্দ দেয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে। ২০১১ সালে ইন্ডিয়া তিস্তা নদীর ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ পানি বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে সম্মত হয় এবং ডিসেম্বর থেকে মার্চের মধ্যে ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ পানি ধরে রাখতে সম্মত হয় দেশটি। তবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতার কারণে চুক্তিটি স্বাক্ষর করা হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের এই মুখ্যমন্ত্রী শুরু থেকেই চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে আসছেন।

শেখ হাসিনার সফর সহযোগিতার নতুন পথ দেখাবে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই সফর দুই দেশের সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইন্ডিয়ার জি২০ শীর্ষ সম্মেলন বিষয়ক সমন্বয়ক ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব ওয়ার্ল্ড অ্যাফেয়ার্স আয়োজিত অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন তিনি। তার বক্তৃতার বিষয় ছিল ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি’। হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা আশা করেন, সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তির (সেপা) বিষয়ে নির্দেশনা আসতে পারে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে।

শ্রিংলা বলেন, যৌথ সমীক্ষায় দেখা গেছে যে সেপা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ থেকে ইন্ডিয়ায় রপ্তানি প্রায় শতভাগ বাড়বে। এতে বাংলাদেশের জিডিপি বাড়বে ১.৭২ শতাংশ। ইন্ডিয়াও এই চুক্তি থেকে উপকৃত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ইন্ডিয়া সফর করেন তখন উভয় পক্ষ সম্পর্ক পর্যালোচনা করার এবং একে আরো কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় তা নিয়ে আলোচনার সুযোগ পায়। দেশটির সাবেক পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বিশ্বের খুব কম দেশই আছে যেখানে বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়ার মতো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি এবং অন্যদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত আছে। গত দশকে আমরা এই সম্পর্কের অগ্রগতির ধারা দেখেছি। ২০১৫ সালে যখন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকা সফর করেছেন এবং ঐতিহাসিক স্থলসীমান্ত চুক্তি ও যৌথ ঘোষণা ‘নতুন প্রজš§-নয়া দিশা’ স্বাক্ষরিত হয়েছে, তখন আমাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের রূপরেখা রচিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ২০১৭ সালে ইন্ডিয়া সফর করেন তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ সম্পর্ককে ‘সোনালি অধ্যায়’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

উত্তরদক্ষিণ । ৩০ আগস্ট ২০২২ । ১ম পৃষ্ঠা

বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ইন্ডিয়ার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চমৎকার সুসম্পর্ক বিদ্যমান থাকায় আসন্ন সফরে ইতিবাচক ফলাফল আসবে। তাদের মধ্যকার এই সুসম্পর্ক অনেক সমস্যা সমাধানে সহায়ক হবে।
তিনি বলেন, আমি খুবই আশাবাদী যে, কিছুটা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও দু’নেতার মধ্যে অত্যন্ত সুদৃঢ়, উষ্ণ ও খুব ভাল সম্পর্ক বিদ্যমান থাকায় শেখ হাসিনার আসন্ন ইন্ডিয়া সফরটি সফল হবে। সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব ওয়ার্ল্ড এ্যাফেয়ার্স (আইসিডব্লিউএ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে তিনি এ সব কথা বলেন। শহিদুল হক বলেন, অতীতে দুই নেতা এক মিনিটেই অনেক ইস্যু সমাধান করেছেন-যা দু’দেশের আমলা ও বৈদেশিক কার্যালয়গুলো সমাধান করতে পারেনি। দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইসিসিআর বঙ্গবন্ধু চেয়ার হক বলেন, সমন্বিত অর্থনীতি অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) এবং কুশিয়ারা নদী ইস্যু-যা দীর্ঘদিন ধরে অমিমাংসিত আছে, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সীমান্ত চলাচল ও যোগাযোগের পাশাপাশি এই ইস্যুটিও আলোচনায় প্রধান্য পাবে।

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading