ইন্ডিয়া সফরে শূন্য হাতে ফেরেননি, জানালেন প্রধানমন্ত্রী: বাংলাদেশেরই নয় ডলার এখন বৈশ্বিক সংকট

ইন্ডিয়া সফরে শূন্য হাতে ফেরেননি, জানালেন প্রধানমন্ত্রী: বাংলাদেশেরই নয় ডলার এখন বৈশ্বিক সংকট

উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ । আপডেট ১২:৪০

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ইন্ডিয়া থেকে শূন্য হাতে তিনি ফেরেননি। সম্প্রতি তার ইন্ডিয়া সফরের অভিজ্ঞতা জানাতে বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, কী পেলাম, এই প্রশ্নটা খুব আপেক্ষিক। এটা নিজের ওপর নির্ভর করছে, আপনি বিষয়টি কীভাবে দেখছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইন্ডিয়া বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতীম দেশ, তাদের সাথে অবশ্যই সুসম্পর্ক থাকবে। ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে ডলারের যে সংকট দেখা দিয়েছে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ডলার সংকট বাংলাদেশের একার না, বিশ্বব্যাপী বিস্তারিত লিখেছেন আসাদ এফ রহমান

মহামারীর পর ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে ডলারের যে সংকট দেখা দিয়েছে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ডলার সংকট বাংলাদেশের একার না। বিশ্বব্যাপী সংকট এখন দেখা দিয়েছে। যুদ্ধের পরে আমেরিকা যে স্যাংশন দিলো তার পরে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে গেল। এবং সেখানে সংকটটা আরো বেশি দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি ডলার নিয়ে ‘কিছু খেলা কিছু শ্রেণি খেলতে শুরু করেছিল’ মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভালোভাবে মনিটরিং করা হয়েছে দেখেই একটা স্থিতিশীল পরিবেশ আমরা আনতে পেরেছি। কিন্তু সংকটটা আন্তর্জাতিক বিষয় থেকে এসেছে। এখানে আমাদের নিজস্ব কতটুকু দায়িত্ব আছে? সামনের দিনগুলোতে বিশ্বজুড়ে এ সংকট আরো ‘বাড়তে পারে’ বলেও আশংকা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমার শংকা হচ্ছে, সারা বিশ্বেই দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে। সারা বিশ্বে চরম অর্থনৈতিক দুরাবস্থা দেখা দিতে পারে। আমি কিন্তু আগে থেকে আমাদের সবাইকে বলে রেখেছি, মাটি আছে। ফসল ফলাও। নিজের খাবার নিজে ব্যবস্থা কর। নিজেরটা আগে নিজে করে রাখি। যেন আমাদের কারো মুখাপেক্ষী না হতে হয়। তাওতো বাংলাদেশে আমরা চালাচ্ছি। ইউরোপ, আমেরিকা, ইংল্যান্ডের অবস্থা একবার বিবেচনা করে দেখেনৃ সেখানে কী ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। সে তুলনায় বাংলাদেশ যথেষ্টৃ আমরা প্রণোদনা দিয়েছি।

প্রীতির সম্পর্ককে সুসংহত করে আরও এগিয়ে যেতে চাই: ইন্ডিয়ার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে গত সপ্তাহে শেখ হাসিনার দিল্লি সফরে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়ার মধ্যে সাতটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর মধ্যে কুশিয়ারা নদীর পানি বণ্টনও রয়েছে। সেই সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি কোভিড মহামারীর প্রেক্ষিতে দীর্ঘ তিন বছর বিরতির পর আমার এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। সফরের পুরো সময় জুড়ে আমরা ইন্ডিয়ার আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ ও সৎ প্রতিবেশী হিসেবে সমতা এবং শ্রদ্ধার ভিত্তিতে দুদেশের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার লক্ষ্য করেছি। ইন্ডিয়ার নেতৃত্বের শীর্ষ পর্যায়ে, সংবাদ মাধ্যমে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আমি বাংলাদেশের জন্য যে প্রীতি ও সৌহার্দ্য লক্ষ্য করেছি তা সত্যিই অসাধারণ। এই প্রীতির সম্পর্ককে সুসংহত করে আমরা আরও এগিয়ে যেতে চাই।

ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ সব বিষয়ে সহযোগিতা পায় বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রীর এবারের ইন্ডিয়া সফরে বাংলাদেশ কী পেল এমন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের যে ভৌগলিক অবস্থা, চারিদিকে ইন্ডিয়া, একটুখানি মিয়ানমার, তারপর বে অব বেঙ্গল। বন্ধুপ্রতীম দেশ থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, যোগাযোগ সব বিষয়ে সহযোগিতাটা আমরা পাই। নুমালিগড় থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল নিয়ে আসছি। সেই লাইনটা কিন্তু ইন্ডিয়া নির্মাণ করে দিচ্ছে। দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে এই তেলটা থাকবে। উত্তরবঙ্গে আর সুদূর চট্টগ্রাম থেকে বাঘাবাড়ি হয়ে তেল যেতে হবে না। রিফাইন করা তেল ওখান থেকেই আসবে। অর্থনৈতিক কর্মচাঞ্চল্য আরও বাড়বে। উত্তর বঙ্গের মঙ্গা আমরা দূর করেছি। পাশাপাশি ইন্ডিয়া থেকে এলএনজি আমদানির ব্যাপারেও আলোচনা হয়েছে। ইন্ডিয়া যে এলএনজি নিয়ে আসছে সেখান থেকে খুলনা অঞ্চলের জন্য যেন এলএনজি পেতে পারি সেই আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মনে হয় না যে একেবারে শূন্য হাতে ফিরে এসেছি।

বাংলাদেশের বিষয়ে ইন্ডিয়ার সব দল-মত এক থাকে: প্রধানমন্ত্রী আরও শেখ হাসিনা বলেন, সফরে যথেষ্ট আন্তরিকতা আমি পেয়েছি। ইন্ডিয়ার প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট বা অন্যান্য যার যার সঙ্গে কথা হয়েছে, তাদের আন্তরিকতা সবসময় ছিল, আছে। আপনারা জানেন, একটা বিষয়, বাংলাদেশের বিষয়ে ইন্ডিয়ার সব দল-মত এক থাকে। এটা হল বড় কথা।অতীতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে ইন্ডিয়ার সব দল-মত, জনগণ এক হয়ে আমাদের সমর্থন দিয়েছিল। আবার আমরা যখন স্থল সীমানা চুক্তি বাস্তবায়ন করি, যখন ছিটমহল বিনিময় করি, তখন দেখেছেন, ইন্ডিয়ার পার্লামেন্টে যখন আইনটা পাস হয়, তখন কিন্তু সব দল এক হয়ে স্থল সীমান চুক্তি আইন তারা পাস করেছিল। বন্ধুপ্রতীম দেশ তাদের সাথে অবশ্যই সুসম্পর্ক থাকবে।

আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যা সমাধান সম্ভব: তবে তিস্তা চুক্তির মত কিছু বিষয় যে আটকে আছে, সে দিকে ইংগিত করে সরকারপ্রধান বলেন, এটা বাস্তব যে, পাশাপাশি একটি দেশের সঙ্গে নানা সমস্যা থাকতে পারে। আমি সবসময় মনে করি যে, সমস্যাগুলো আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যায়। ৬৫ সালে ইন্ডিয়া-পাকিস্তান যে যুদ্ধ হয়েছিল, সেই যুদ্ধের ফলে আমাদের অনেক রেল যোগাযোগ, সড়ক যোগাযোগ অনেক কিছু বন্ধ ছিল। আমরা একে একে সেগুলো উš§ুক্ত করে দিচ্ছি এই কারণে যে, আমাদের যেসব জেলাগুলো আছে, ওই অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক কর্মকাø যা আছে, আরো যাতে গতিশীল হয়। শেখ হাসিনা বলেন, আন্তরিকতার কোনো অভাব দেখিনি। আমি যদি নিজে ভালো বন্ধু হন তবে সবাই ভালো থাকবে। আর যদি নিজে এদিক-ওদিক করেন তবে সম্পর্ক ভালো থাকে না।

‘সমুদ্রসীমা নির্ধারণেও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে ফাটল ধরেনি’
সরকারপ্রধান বলেন, আমাদের পররাষ্ট্র নীতি অত্যন্ত স্পষ্ট। সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে শত্রুতা নয়। ক্ষমতায় আসার পর থেকে আওয়ামী লীগ সরকার এ নীতিই মেনে চলেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ বলতে পারবে না এ শত্রু ও বন্ধু, তা নয়। সকলের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখেই আমাদের সব সমস্যার সমাধান করছি। বিশাল সমুদ্রসীমা ৯৬ সালের আগেতো এ ব্যাপারে কোনো আলোচনাই হয়নি। ৯৬ সালে আমরা কাজ শুরু করেছিলাম। ২০০১ এ বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসলো। তারা কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। দ্বিতীয়বার সরকারে আসার পর আমরা যখন উদ্যোগ নিলাম, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেই ইন্ডিয়া-মিয়ানমারের সাথে আন্তর্জাতিক আদালতে গিয়ে সমাধান হয়েছে। আন্তর্জাতিক আদালতে গিয়েছি সত্য। আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে ফাটল ধরেনি।

বাংলাদেশের প্রাপ্তি কী ছিল: ইন্ডিয়া সফর থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তির বিষয়গুলোও প্রধানমন্ত্রী তার লিখিত বক্তব্যে তুলে ধরেন। কুশিয়ারা নদীর পানি বণ্টনে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, যার মাধ্যমে ১৫৩ কিউসেক পানি প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সীমান্তে প্রাণহানির সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে কাজ করতে দুই দেশ সম্মত হয়েছে। ভুটানের সঙ্গে রেল যোগাযোগ ও অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত রেল সংযোগে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হবে। চিনি, পেঁয়াজ, আদা, রসুনের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য রপ্তানি বন্ধের আগে বাংলাদেশকে আগাম বার্তা দিতে ইন্ডিয়া সরকার পদক্ষেপ নেবে। বাংলাদেশের মুজিবনগর থেকে ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত ঐতিহাসিক ‘স্বাধীনতা সড়ক’ চালু করা হবে। নদী দূষণ এবং অভিন্ন নদ-নদীর ক্ষেত্রে নদীর পরিবেশ এবং নদীর নাব্যতা উন্নয়নের লক্ষ্যে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। রেলওয়ে সেবার মান বাড়াতে আইটি সল্যুশন বিনিময় করা হবে। ২০২২ সালের মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি নিয়ে দুদেশের বাণিজ্য কর্মকর্তাদের কাজ শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সব দল নির্বাচনে অংশ নেবে প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর: নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সবাই ইলেকশনে পার্টিসিপেট করুক সেটাই আমরা চাই। তবে যদি কেউ না করে সেটা যার যার দলের সিদ্ধান্ত। সে জন্য আমরা সংবিধান তো বন্ধ করে রাখতে পারি না। আমরা চাই গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকবে। সংবিধান অনুযায়ী গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকবে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকবে।

জোটের প্রশ্নে আওয়ামী লীগের দরজা খোলা: প্রধানমন্ত্রী আগামী নির্বাচনে জোটবদ্ধভাবে ভোট করার ইঙ্গিত দেন। পাশাপাশি জয়ের প্রয়োজনে দলীয় নমিনেশনে ক্ষেত্রমতো প্রার্থী পরিবর্তনের কথাও জানান। সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে জোট-ভোটের বিষয়টি সময় এলে বলা যাবে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, আমরা ১৪ দল করেছি। জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করেছি। জাতীয় পার্টি আলাদাভাবে নির্বাচন করেছে। তবে তাদের সঙ্গে আমাদের একটি সমঝোতা ছিল। ভবিষ্যৎ নির্বাচনে কে কোথায় থাকবে তা সময় বলে দেবে। নির্বাচনে যারা সবসময় আমাদের সঙ্গে ছিল তারা আমাদের সঙ্গে থাকবে। এতে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। আর আমাদের সঙ্গে কে থাকবে না থাকবে, বা নতুন জোট হবে বা কী হবে, হোক। অসুবিধা নেই তো। জোট ও ভোটের প্রশ্নে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ উদারভাবে কাজ করে। আওয়ামী লীগের দরজা খোলা। আগামী নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে দলটির সভাপতি বলেন, সরকারে আসার পর আমরা যে উন্নয়ন করতে পেরেছি, নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ, গৃহহীনদের ঘর তৈরি করে দেওয়া, দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা, এভাবে সার্বিক দিক থেকে আমরা উন্নয়ন করেছি। তৃণমূল পর্যায়ে থেকে আমরা উন্নয়ন করে যাচ্ছি। এত কাজ করার পরে অবশ্যই জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে এটা আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। তারা যদি এই চলমান উন্নয়নের ধারাটা অব্যাহত রাখতে চান, আর না চাইলে তো কিছু করার নেই। সেটা জনগণের ইচ্ছা।

যে অন্যায় করবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: বিএনপির আন্দোলনের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আজ রাস্তার আন্দোলন। জনগণ সাড়া না দিলে তো সেটা আমার দায়িত্ব নয়। আওয়ামী লীগ যে বিএনপির হাতে নির্যাতিত সেটা কী ভুলে গেছেন। সবাই তো আওয়ামী লীগের ওপর চড়াও হয়েছে। লাশ টানতে টানতে আর আহতদের চিকিৎসা করাতে আমাদের নাভিশ্বাস উঠেছিল। আজ কি সেই পরিবেশ আছে? তা তো নেই। আমাদের পার্টির কেউ যদি কোনও অন্যায় করে আমরা ছেড়ে দেই না। আমার দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে এজন্য কিছু বলবো না? তা নয়। যে অন্যায় করবে তার বিরুদ্ধে আমি ব্যবস্থা নেবো এবং নিচ্ছি।

আরও অর্থপাচারকারীর নাম আসবে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অর্থপাচারকারী এমন অনেকের তথ্য আছে সেটা আপনারা লিখবেন কিনা সন্দেহ। আমি সোজা কথা বলি, অনেক স্বনামধন্যের তথ্য আমার কাছে আছে। দুর্নীতি দমন কমিশন আর বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সামনে তাদের নাম আসবে, তবে আপনারা ছাপাবেন কিনা আমি সেটা দেখবো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্বিতীয় কথা হচ্ছে অর্থপাচারকারীর তথ্য নেওয়া হচ্ছে। সুইস ব্যাংকে কিন্তু আমরা বহু আগে ডিমান্ড পাঠিয়েছিলাম। আমরা তালিকা চেয়েছিলাম। কিন্তু তালিকা আসেই নাই। সবাই হাওয়ায় কথা বলে যায় কিন্তু কেউ সঠিক তথ্য দিয়ে বলে না। মানি লন্ডারিং বন্ধে যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ডলার সংকট বাংলাদেশের একার না, বিশ্বব্যাপী। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর আমেরিকা স্যাংশন দিলো, তাতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে গেলো। তিনি আরও বলেন, তারপরও আমি বলবো, আমরা ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর রিজার্ভ কতো ছিল, করোনার সময় কোনও খরচ ছিল না, আমাদের রিজার্ভ বেড়েছে। এরপর যখন আমদানি শুরু হয়েছে তখন তো কিছু কমেছে। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশ যেখান থেকে ঋণ নেয় সবসময় ঠিক সময়ে শোধ করে। আমরা কোনোদিন খেলাপি হইনি। সেটা করতে গিয়েও রিজার্ভে একটু টান পড়ে। ডলার নিয়ে কিছু একটা খেলা শুরু হয়েছিল, কিন্তু ভালোভাবে নজরদারি করা হয়েছে বলেই আজকে একটা স্থিতিশীল পরিস্থিতি আছে। কিন্তু সংকট তো আন্তর্জাতিক বিষয় থেকে এসেছে। এখন যে সংকট দেখছেন, হয়তো সামনের বছর আরও বেশি সংকট দেখা দিতে পারে। আমার তো শঙ্কা সারা বিশ্বে দুর্ভিক্ষ দেখা দিবে, চরম অর্থনৈতিক অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে।

উত্তরদক্ষিণ । ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১ম পৃষ্ঠা

মত প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা: বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, যারা তত্ত্বাবধায়ক বা ইত্যাদি বলে চিৎকার করছে তারা ওয়ান ইলেভেনের কথা ভুলে গেছেন? ২০০৭-এর কথা ভুলে গেছেন? কী অবস্থাটি সৃষ্টি হয়েছিল। সেখান থেকে তো অন্তত সবাই মুক্তি পেয়েছেন। ২০০৯ থেকে ২০২২ পর্যন্ত স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার। চলাফেলার অধিকার, সমালোচনার অধিকার। প্রশংসা করার অধিকার সবই তো পাচ্ছেন। কেউ তো কারও মুখ বন্ধ করে রাখছে না। কাউকে তো আমরা বাধা দিচ্ছি না। মত প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা আমি দিয়েছি। এটা তো স্বীকার করতে হবে। বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, আমি দেশের জন্য কাজ করি। দেশের মানুষের জন্য কাজ করি। আমার স্বার্থ এ দেশের মানুষ ভালো থাকুক। সমালোচনা যারা করবে করুক না। করা তো ভালো। যত পারে কথা বলুক। ভালো কিছু এলে আমরা গ্রহণ করবো। মন্দ কিছু থাকলে পরিহার করবো।

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading