টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়ন: নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে হবে

টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়ন: নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে হবে

মুহাইমিন সরকার । শুক্রবার, ২১ অক্টোবর ২০২২। আপডেট ২১:০০

আধুনিক সভ্যতার অন্যতম উপাদান বিদু্যৎ। উন্নয়নের মূল চাবিকাঠিও। তাই বলা হয়, বিদু্যতের শক্তি অপরিসীম। আমাদের সবার জীবনে বিদু্যতের দরকার। জীবনে খাবারের যেমন দরকার, তেমনি উন্নয়নেও বিদু্যৎ দরকার রয়েছে। বিদু্যতের অপর নাম শক্তি। এক মাসের মধ্যে বিদু্যতের জাতীয় গ্রিডে দ্বিতীয়বারের মতো বিপর্যয় ঘটেছিল গত সপ্তাহে। এ সময় ঢাকাসহ ৩২ জেলায় কোথাও ৪ ঘণ্টা, কোথাও আবার একটানা ৮ ঘণ্টার বেশি বিদু্যৎ ছিল না। দীর্ঘসময় বিদু্যৎবিহীন অবস্থায় চরম ভোগান্তিতে পড়ে দেশের কোটি কোটি মানুষ। এ সময় ব্যাহত হয় চিকিৎসাসেবা, টেলিযোগাযোগ, ব্যাংকের লেনদেনসহ যাবতীয় জরুরি সেবা। বিভিন্ন শিল্পকারখানায় উৎপাদনও বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত এবং বাসাবাড়িতে একটা সময় পর পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের অভাবে জেনারেটর চালানো সম্ভব হয়নি। বিদু্যৎবিহীন অবস্থায় অন্ধকারে দেশের বড় একটি অংশ কার্যত স্থবির বা অচল হয়ে পড়েছিল।

গত জুলাই মাস থেকে শুরু হওয়া লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে এমনিতেই দেশের শিল্পকারখানার উৎপাদন, ব্যবসাবাণিজ্যে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলগুলোকে লোডশেডিংয়ের আওতার বাইরে রাখার দাবি জানানো হলেও কার্যত কিছুই করা হয়নি। যথারীতি লোডশেডিং হচ্ছে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে। ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়া চরমভাবে ব্যাহত হওয়ায় মারাত্মক ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে শিল্প কারখানাগুলো। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পকারখানাগুলো লোডশেডিংয়ের কারণে সঠিক সময়ে উৎপাদন শেষ করে সময়মতো শিপমেন্ট করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এমনিতেই বৈশ্বিক মন্দা ও অন্যান্য সংকটের কারণে আমাদের রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস শিল্প মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ে আছে। জ্বালানি সাশ্রয়ে গত ১৯ জুলাই থেকে দেশে পরিকল্পিত লোডশেডিং শুরু করে সরকার। দিনে এক ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কথা থাকলেও তা মানা হয়নি শুরুতে। গত সেপ্টেম্বর মাসে ধীরে ধীরে হলেও লোডশেডিংয়ের মাত্রা কমে আসছিল। তখন বলা হয়েছিল, অক্টোবর থেকে দেশে বিদু্যতের লোডশেডিংয়ের পরিমাণ কমে আসবে এবং তা ক্রমেই বিদায় নেবে। সবাই আশাবাদী হয়েছিলেন তেমন আশ্বাসে।

কিন্তু বর্তমানে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ এতটাই বেড়েছে যে, অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে তা। বর্তমানে দেশের চাহিদার তুলনায় বিদু্যৎ উৎপাদন হচ্ছে অনেক কম। ফলে বিদু্যতের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। সরকারি ও বেসরকারি বিদু্যৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের অভাবে এবং জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে বন্ধ থাকছে অনেকটা সময় ধরে। বিদু্যৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো জ্বালানি তেল ও গ্যাসের অভাবে অর্ধেকেরও বেশি সব সময় উৎপাদন সক্ষমতা অলস পড়ে থাকছে। ফলে সঞ্চালন লাইনে প্রয়োজনীয় চাহিদা অনুযায়ী বিদু্যৎ সরবরাহ অসম্ভব হয়ে পড়েছে সাম্প্রতিক সময়গুলোতে। পরিকল্পিত লোডশেডিংয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাড়তি লোডশেডিং। সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানি খরচ কমাতে চাহিদা অনুসারে বিদু্যৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না।

উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি বিদু্যৎ হলেও এ খাতে বিনিয়োগ অত্যন্ত ব্যয়বহুল। স্বাধীনতার আগে থেকেই বিদু্যৎ খাত ছিল সরকারনির্ভর। বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ ছিল না। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিদু্যৎ খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। এ সময় বিদু্যৎ খাত বেসরকারি মালিকানার জন্য উন্মুক্ত করা হয়। আইপিপি অর্থাৎ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার নীতিমালা করা হয়। এ সরকারের আমলেই দেশি-বিদেশি অনেক বিনিয়োগ হয় বিদু্যৎ উৎপাদন খাতে। বেসরকারি খাত থেকেই ১২৯০ মেগাওয়াট বিদু্যৎ উৎপাদনের চুক্তি করা হয়। বিদু্যৎ খাতে এটি ছিল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। এর পর ক্রমেই উৎপাদন বাড়তে থাকে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি-বেসরকারি বিদু্যৎকেন্দ্র রয়েছে। বিদু্যৎ উৎপাদনের পর তা সঞ্চালন করা হয় জাতীয় গ্রিডে। সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে এ গ্রিড বিভিন্ন বিদু্যৎকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত। এক সময় দেশে সব বিদু্যৎ উৎপাদন করতো পিডিবি। এখন বেসরকারি খাতে নানা ধরনের বিদু্যৎকেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকেও বিদু্যৎ এসে যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। দেশে ডিজেলচালিত বিদু্যৎকেন্দ্রে বিদু্যৎ উৎপাদনে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়। ডলার সংকটের কারণে সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ে গত জুলাইয়ে সব ডিজেলচালিত কেন্দ্র বন্ধের ঘোষণা দেয়। তবে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় আগস্টের মাঝামাঝিতে আবার বেসরকারি খাতের ডিজেলচালিত ছয়টি কেন্দ্র চালু করা হয়। অথচ এসব কেন্দ্র বন্ধ করে ফার্নেস তেল থেকে বিদু্যৎ উৎপাদন করা হলে ব্যয় প্রায় অর্ধেক কমে আসতো।

বেসরকারি খাতের ডিজেলচালিত ছয়টি বিদু্যৎ কেন্দ্র বন্ধ করে ফার্নেস তেলে উৎপাদন ১০ শতাংশ বাড়ালেই প্রতিমাসে সাশ্রয় হতো প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। বিদু্যৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) এক বিশ্লেষণে এমন তথ্য জানা গেছে। বাড়তি লোকসানের চাপ কমাতে ডিজেল ও ফার্নেস তেলভিত্তিক বিদু্যৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যয়ের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে এই তথ্য প্রকাশ করেছে তারা। বেসরকারি খাতের বিদু্যৎকেন্দ্রের মালিকরা বলছেন, আর্থিক চাপে তারা বিদু্যৎকেন্দ্র পুরো সক্ষমতায় চালাতে পারছেন না। ডিজেলের বদলে ফার্নেস অয়েলে উৎপাদন করলে দিনে কমপক্ষে ১৫ কোটি টাকা সাশ্রয় সম্ভব। কিন্তু গত আগস্ট মাস পর্যন্ত প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া পড়েছে সরকারের কাছে। চুক্তি অনুযায়ী ৪৫ দিন পর উৎপাদিত বিদু্যৎ সরবরাহের বিল দেওয়ার কথা থাকলেও তিন মাসের বেশি বকেয়া পড়েছে। আর্থিক সংকটে পিডিবি বেসরকারি বিদু্যৎকেন্দ্র থেকে কেনা বিদু্যতের বিল পরিশোধ করতে পারছে না।

দেশে বর্তমানে গ্যাস, কয়লা, ফার্নেস অয়েল, ডিজেল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদু্যৎ উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে বিদু্যৎ উৎপাদনে সবচেয়ে বেশি খরচ ডিজেলে এবং সবচেয়ে কম গ্যাসে। জ্বালানির চড়া দামে বিপুল লোকসানের মুখে পড়েছে পিডিবি। নিয়মিত ভর্তুকিও পাওয়া যাচ্ছে না সরকারের কাছ থেকে। তাই বিদু্যৎকেন্দ্রগুলোর বিল নিয়মিত পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে বড় ধরনের আর্থিক চাপের মধ্যে পড়েছে সংশ্লিষ্ট পাওয়ার পস্ন্যান্টের উদ্যোক্তা ব্যবসায়ীরা। ডলারের বিনিময় হারের তারতম্যের কারণে বেশি দামে ডলার কিনে তেল আমদানির ঋণপত্র খুললেও পিডিবি বিল পরিশোধ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত বিনিময় হারে। তাই লোকসানের ধাক্কা সামলাতে পাওয়ার পস্ন্যান্টের মালিক উদ্যোক্তা ব্যবসায়ীরা উৎপাদন বাড়াতে চাইছেন না। জ্বালানি তেল নির্ভরতা বেড়ে গেলে পিডিবির টাকার অভাব হবে, এটা আগে থেকেই অনুমান করা গিয়েছিল। বিদু্যতের পাইকারি মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে সম্প্রতি। এতে করে পিডিবির আয় বাড়বে অবশ্যই। তবে তাদের নিয়মিতভাবেই বেসরকারি বিদু্যৎকেন্দ্রের বিল পরিশোধ করা উচিত। বিল পরিশোধ করে মাসে ৫০০ কোটি টাকা সাশ্রয় করতে পারলে পিডিবিরই লাভ হবে। অর্থনৈতিক কার্যক্রম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এর চালিকাশক্তি হিসেবে নিরবচ্ছিন্ন বিদু্যৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। চলমান লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় জনজীবনে চরম ভোগান্তি এবং বিপর্যয় নেমে এসেছে। শিল্প কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

প্রতীকী ছবি।

এমনিতেই মূল্যস্ফীতির চাপে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে সাম্প্রতিক গত কয়েক মাসে। নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলেছে এখনও। এর মধ্যে গ্যাস, পানি, বিদু্যতের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যও অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। যার চাপে এমনিতেই দেশে অর্থনীতিতে চরম অস্থিরতা, নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে। যানবাহনের ভাড়া, পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে- যা সরাসরি সাধারণ মানুষকে নতুন করে চাপে ফেলে দিয়েছে। ইদানীং লোডশেডিংয়ের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় কলকারখানায় উৎপাদন কমে গেছে। ফলে উৎপাদিত সামগ্রীর মূল্য বেড়েছে। বাজারে সরবরাহ কম হওয়ায় সংকট দেখা দিয়েছে। বিদু্যৎ সংকটের কারণে বিভিন্ন দোকানপাট, মার্কেট, শপিংমলে ক্রেতার পরিমাণ কমে গেছে। যে কারণে ব্যবসাবাণিজ্যে ধস নেমেছে। বিভিন্ন ক্লিনিক, হাসপাতালে লোডশেডিংয়ের কারণে চিকিৎসা সেবায়ও চরম অব্যবস্থা দেখা দিয়েছে। ঘন ঘন বিদু্যৎ চলে যাওয়ায় মুঠোফোন সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। বিদু্যৎ না থাকার কারণে ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলা সম্ভব হচ্ছে না। ব্যাংকের স্বাভাবিক লেনদেনেও ছেদ পড়ছে এ কারণে। সেখানে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্যের কারণে বিকল্প উপায়ে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদু্যৎ সরবরাহের প্রচেষ্টাও একটানা অব্যাহত রাখা যাচ্ছে না। বাসাবাড়িতে জেনারেটর বন্ধ থাকছে।

যারা জেনারেটর চালাচ্ছেন, তাদের এজন্য অনেক বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে। ফলে শহরাঞ্চলে বাসাভাড়ার সঙ্গে প্রদেয় সার্ভিস চার্জ ইদানীং উলেস্নখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ব্যয় অনেকটাই বেড়ে গেছে। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় লোডশেডিংয়ের পরিমাণ খুব বেশি হওয়ায় ক্ষুদ্র শিল্পকারখানা, তাঁতশিল্প, পোল্টি ফার্ম, ডেইরি ফার্ম, মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প বন্ধ হওয়ার পথে দাঁড়িয়েছে। যার সঙ্গে জড়িত ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, সাধারণ কৃষক, খামারি, তাঁতি প্রমুখ ভয়াবহ সংকটে পড়ে গেছেন। করোনা মহামারির ক্ষতি কাটিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর যে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন তারা লোডশেডিংয়ের ক্রমবর্ধমান চাপে তাদের সব প্রচেষ্টা থেমে যাচ্ছে একের পর এক। এভাবে চলমান বিদু্যৎ সংকট চরমে পৌঁছায় গোটা অর্থনীতিতে এক ধরনের স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে। এমনিতেই বৈশ্বিক মন্দাসহ অন্যান্য অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করতে গিয়ে সবাইকে নানা চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হচ্ছে।

বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে অর্থনীতিকে সচল এবং গতিশীল রাখার উদ্যোগ অনেকটা কাজে দিলেও সাম্প্রতিক বিদু্যৎ সংকট তথা লোডশেডিং থমকে দিচ্ছে সবকিছুকেই। কারণ, এখন বিদু্যৎনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা, জনজীবনে প্রতিটি পদক্ষেপে বিদু্যতের সার্বক্ষণিক ব্যবহার, ব্যবসাবাণিজ্যে বিদু্যৎ নির্ভরতাকে কিছুতেই অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তেমনি পরিস্থিতিতে বিদু্যৎপ্রাপ্তিকে অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদু্যৎ প্রাপ্তিতে সংকট ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হওয়ায় অর্থনৈতিক কর্মকান্ড থেমে যাচ্ছে নয়তো ধীর গতিতে সম্পন্ন হচ্ছে। চলমান লোডশেডিংয়ের পরিমাণ বাড়ছে দিনে দিনে। দ্রম্নত এ সংকটের অবসান হওয়ার কোনো সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না। এমন প্রেক্ষাপটে অর্থনীতিতে বিরাজমান সংকটের উত্তরণ ঘটানোর সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়েছে। আগামী দিনগুলোতে সংকট আরো ঘনীভূত হলে অর্থনীতিতে স্থবিরতা ভয়াবহ আকার ধারণ করবে, ধারণা করা যায়। লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বিপর্যস্ত হচ্ছে জনজীবন, ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসাবাণিজ্য, চিকিৎসা, টেলি যোগাযোগ, ব্যাংকের লেনদেনসহ জরুরি সেবা। এটা গোটা অর্থনীতিতে স্বাভাবিকভাবে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

বাংলাদেশে বিদু্যৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমদানি করা জ্বালানিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে গত দেড় দশক সময়ে। ফলে দেশের বিদু্যৎ খাত কার্যত আমাদানিনির্ভরতা বিদু্যৎ খাতকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় যখন আমদানি কমাতে হয়েছে, তখন উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বিদু্যৎ উৎপাদন কমিয়ে দিতে হয়েছে। জ্বালানির জন্য দেশীয় উৎস গ্যাসের অনুসন্ধান ও গ্যাস উত্তোলনে যথাযথ মনোযোগ না দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্টতই বিদু্যৎ খাতের পরিকল্পনার বড় ত্রম্নটি। বিদু্যৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণের মধ্যে ভারসাম্য থাকাটা একান্ত জরুরি হলেও এটা রক্ষা করা হয়নি নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে। বিদু্যৎ উৎপাদন বৃদ্ধি নিয়ে যতটা মাতামাতি হয়েছে সে তুলনায় বিদু্যৎ সঞ্চালন ও বিতরণে মনোযোগ দেওয়া হয়নি। আধুনিকায়নও করা হয়নি, বিদু্যৎ লাইনের প্রয়োজনীয় সংস্কারও করা হয়নি। যে কারণে মারাত্মক বিদু্যৎ সংকটের কবলে পড়ে গেছে গোটা দেশ। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নবিষয়ক সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের তথ্যানুযায়ী সরকার দেশের মানুষকে নিরবচ্ছিন্ন বিদু্যৎ সুবিধা দিতে হবে।

লেখক: কলামিস্ট।

ইউডি/সিফাত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading